নবগঠিত বান্দরবান জেলা পরিষদে লামার সদস্য না রাখায় বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন | Daily AjKaler Kontho

নবগঠিত বান্দরবান জেলা পরিষদে লামার সদস্য না রাখায় বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন


মোঃ চান মিয়া, লামা উপজেলা প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : অগাস্ট ২২, ২০২৬, ৭:৫২ অপরাহ্ন
নবগঠিত বান্দরবান জেলা পরিষদে লামার সদস্য না রাখায় বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নবগঠিত পরিষদে লামা উপজেলা থেকে কোনো সদস্য অন্তর্ভুক্ত না করায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন লামাবাসী। জেলা পরিষদে লামা উপজেলার ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে অন্তত একজন যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য সদস্য অন্তর্ভুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন করেছেন তারা।

শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে লামা উপজেলা পরিষদের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি লামা বাজারের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে চৌরাস্তা এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। পরে বিক্ষোভকারীরা প্রধান সড়কে অবস্থান নিয়ে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। এ সময় তারা লামার প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতসহ বিভিন্ন দাবিতে স্লোগান দেন।

কর্মসূচিতে লামার প্রবীণ সাংবাদিক, লেখক, গবেষক ও মানবাধিকার কর্মী এম রুহুল আমিন, জাতীয় নাগরিক পার্টির লামা শাখার সম্পাদক আব্দুল করিম, সাংবাদিক নজরুল ইসলাম, বান্দরবান ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, লামা ছাত্র প্রতিনিধি ইমদাদুল হক মিলনসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ জেলার উন্নয়ন ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান। অথচ জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল উপজেলা লামা থেকে কোনো প্রতিনিধি না থাকায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। লামার মানুষের উন্নয়ন, অধিকার ও স্থানীয় সমস্যাগুলো জেলা পরিষদে যথাযথভাবে তুলে ধরার জন্য লামা উপজেলা থেকে একজন প্রতিনিধি থাকা প্রয়োজন।

সাংবাদিক নজরুল ইসলাম বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে জেলা পরিষদ পুনর্গঠনের সময়ও লামা উপজেলা থেকে কোনো সদস্য নেওয়া হয়নি। একইভাবে সম্প্রতি ২০ আগস্ট গঠিত ১৫ সদস্যের জেলা পরিষদেও লামা থেকে কোনো প্রতিনিধি রাখা হয়নি। তার মতে, বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে লামা উপজেলা থেকে অন্তত একজন যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, “লামার প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা শুধু একজন সদস্য পাওয়ার বিষয় নয়; এটি জনগণের অধিকার ও অংশগ্রহণের প্রশ্ন। জেলা পরিষদে লামার কোনো প্রতিনিধি না থাকলে উপজেলার জনগণের দাবি ও সমস্যাগুলো যথাযথভাবে তুলে ধরার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়বে।”

বিশিষ্ট লেখক, গবেষক ও মানবাধিকার কর্মী এম রুহুল আমিন বলেন, “অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এ ধরনের আচরণ ও বৈষম্য লামা উপজেলার জনগণ মেনে নেবে না। পাহাড়ি-বাঙালি নির্বিশেষে লামার জনগণের ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে।”

তিনি বলেন, “নবগঠিত বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের বর্তমান সদস্য তালিকা পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। লামা উপজেলা থেকে একজন যোগ্য, গ্রহণযোগ্য ও জনবান্ধব প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করার দাবি শুধু লামার মানুষের নয়—এটি ন্যায়সংগত প্রতিনিধিত্বের দাবি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

বক্তারা আরও বলেন, আয়তন, জনসংখ্যা, ভৌগোলিক অবস্থান ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দিক থেকে লামা বান্দরবান জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা। দুর্গম পাহাড়ি এলাকার পাশাপাশি এখানে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। ফলে জেলা পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে লামার প্রতিনিধিত্ব না থাকা স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষ বলেন, জেলা পরিষদে লামার প্রতিনিধিত্ব কোনো ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর দাবি নয়; এটি পুরো লামাবাসীর ন্যায্য প্রতিনিধিত্বের দাবি। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন বলে তারা প্রত্যাশা করেন।

বিক্ষোভকারীরা জানান, দাবি বাস্তবায়নে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

আজকালের কন্ঠ/আর বি