
মাদারীপুরের রাজৈরে জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভাইয়ের সাথে ভাইয়ের দ্বন্দ্ব চলছে। এ নিয়ে একের পর দুইভাইকে মামলা দিয়ে হয়রানীর অভিযোগ উঠেছে আপন আরেক ভাইয়ের বিরুদ্ধে। প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন দুইভাই। শনিবার দুপুরে রাজৈরের টেকেরহাট আবাসিক এলাকার একটি ভবনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
জানা যায়, রাজৈর উপজেলার খালিয়া গ্রামের মৃত সমশের খানের ছেলে কাজেল খান ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত, ভাই-বোন ও মায়ের কাছ থেকে ১৯৮৯ খ্রি. থেকে ২০০২ খ্রি. পর্যন্ত ৮টি সাব-কবলা মূলে মোট ৬৬.৮৪ শতাংশ জমির মালিক। কিন্তু জোরপূর্বক এই জমির বাইরে অতিরিক্ত জমি দাবি করে সে। ২০১৯ সালে কাজেল আদালতে মামলা করেন তার দুইভাই তাজেল ও ফজেলের বিরুদ্ধে। পরে বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ দিয়ে তাজেল ও ফজেলকে হয়রানী করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। সবশেষ শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকালে তাজেল ও ফজেল তাদের নিজের জায়গায় একটি টিনশেট ঘর নির্মাণ করা শুরু করলে পুলিশ দিয়ে বাধা দেয় কাজেল। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন ভুক্তভোগীরা। প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন তারা। জমির ন্যায্য অধিকার ফিরে পেতে সরকাররের সহযোগিতা কামনা করেন তাজেল ও ফজেল।
ভুক্তভোগী ফজেল খান বলেন, ‘কাজেল যতটুকু জমি পাবে, তার থেকে বেশি ভোগ করতে চায়। এটা কোনভাবেই মেনে নিবো না। আমরা আইনী সহায়তা চাই।’
আরেক ভুক্তভোগী তাজেল খান বলেন, ‘স্থানীয়ভাবে কয়েকবার এটি নিয়ে বসা হয়েছিল। মীমাংসার কথা বলা হলে মামলা তুলে নেয়ার কথা হয়। কিন্তু আবার শুনি মামলা চলমান। আমরা কয়েক বছর ধরে হয়রানীর শিকার হচ্ছি। এর বিচার চাই।’
অভিযুক্ত কাজেল খান বলেন, ‘আমি ৬৬.৮৪ শতাংশ জমির মালিক। কিন্তু আমার আপন দুইভাই জোরপূর্বক আমাকে জমির মালিকানা বুঝিয়ে দিচ্ছে না। বাধাগ্রস্থ করছে। আমি ন্যায় বিচারের স্বার্থে আদালতে দ্বারস্থ হয়েছি। মামলা চলমান। নিষেধাজ্ঞা জারি করা, তারপরও তারা জোরপূর্বক আমার জায়গায় ঘর তুলছে। আমি ন্যায় বিচার দাবি করছি।’
মাদারীপুরের রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে দুইপক্ষকে থানায় আসতে বলা হয়েছে। থানায় আসলে কাগজপত্র দেখে দ্রুত একটি সমাধানের চেষ্টা করা হবে।’
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :