
শনিবার (২২শে আগষ্ট) রাজধানীর রূপনগর আবাসসিক এলাকা দুয়ারীপাড়া বাড়ী নং- ২৩/২৫, রোড নং- ১, ব্লক – খ, সেকশন – ৮ এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সম্প্রসারিত রূপনগর আবাসিক এলাকা প্লট/বাড়ী/ফ্ল্যাট মালিক কল্যাণ সমিতি।
এ সময় লিখিত বক্তব্যে সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মোঃ আমির আলী বলেন, সরকারের জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের (জাগৃক) মালিকানাধীন রূপনগর থানার (দুয়ারীপাড়ায়) সম্প্রসারিত রূপনগর আ/এ, ব্লক ক ও খ, সেকশন-৮, মিরপুর, ঢাকা এর সরকারী প্লট ঘিরে দখল-চাঁদাবাজি চলছে। গভীর রাতে ইট-বালু, ফেলে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা, ইটের দেওয়াল দিয়ে গেট তুলে দেওয়া, সরকারী জায়গায় সাইনবোর্ড বসিয়ে দখলের চেষ্টা, ২০ ফিট রাস্তার উপরে এ্যাঙ্গেল দিয়ে ওয়েলডিং করে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়াসহ বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করার বিরামহীন অপচেষ্টা ২০১৯ সাল থেকে চলে আসছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে জমি দখলের পাশাপাশি নতুন করে প্লট মালিকদের কাছে স্থাপনা নির্মাণের সময় শুরু হয়েছে চাঁদাবাজি। কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে দলবল নিয়ে নির্মাণ শ্রমিকদের হুমকি-ধামকি দিয়ে কাজ বন্ধ করে দিচ্ছে চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট। এমনকি রূপনগর থানা থেকে পুলিশ এনেও কাজ বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। এ সমস্ত হুমকি-ধামকি ও নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেওয়ার মত বেশ কয়েকটি ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পুলিশকে দেখানো হয়েছে, তার পরেও কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না পুলিশ।
চাঁদাবাজদের হাতে জিম্মি প্লটের সংখ্যা প্রায় অর্ধশাতাধিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্লটের বাহিরে প্রকল্পের খ- ব্লকের পূর্ব দিকে ৪০ ফুট প্রশস্ত রাস্তাসহ প্রায় ৯০ কাঠা হাউজিং প্রকল্পের সরকারী জায়গা অবৈধ ভাবে দখলে নিয়েছে চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট। অবৈধ দখল কৃত স্থানে রিক্সা গ্যারেজ, বস্তিসহ বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা বানিয়ে ভাড়া দিয়েছে দখলদার চক্রটি। এর বাহিরে প্লট মালিকদের বুঝিয়ে দেওয়া কিছু প্লট অবৈধ ভাবে দখলে নিয়েছে চক্রটি। এসব দখলদারদের নাম ঠিকানা উল্লেখ করে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ, ঢাকা উপবিভাগ-১ থেকে রূপনগর থানায় একাধিক জিডি ও অভিযোগ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এরূপ চাঁদাবাজের সংখ্যা প্রায় ৩৬/৩৮ জন। চাঁদাবাজ ও দখলদারদের দখল ঠেকাতে গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিভিন্ন হুমকি-ধামকিসহ বাধা দেয়। এমনকি জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের একজন কর্মকর্তাকে ফোন করে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছে দখলবাজরা। একের পর এক জিডি ও লিখিত অভিযোগ দেওয়া পর ও রূপনগর থানা পুলিশ কোন ব্যবস্থাতো নিচ্ছেই না বরং উল্টো দখলদারদের পক্ষে কাজ করার অভিযোগ রয়েছে।
আমির আলী বলেন, সম্প্রসারিত রূপনগর আবাসিক (প্রকল্প) এলাকার ক ও খ ব্লকে প্রায় ৩০ একর জমি ৫/৭২-৭৩ এলএ কেস এর মাধ্যমে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের জন্য সরকার অধিগ্রহণ করে ৪৭৪ টি প্লট তৈরী করে সমাজের বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষকে বিগত ৩০/০৬/১৯৯৪ ইং তারিখে বরাদ্দ প্রদান করলেও নিজেদের অধিগ্রহন করা জমি দখলবাজ/ চাঁদাবাজদের কারনে দখলে রাখতে ব্যর্থ হয়। প্রথমে ২০০৮ সালে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করলেও জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ উহা ধরে রাখতে পারে নাই। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ পূনরায় অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করে এবং বরাদ্দ প্রাপ্তদের মধ্যে প্লটের দখল বুঝিয়ে দেয়।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে পুরানো দখলদাররা এলাকা ছেড়ে গেলেও দখল মুক্ত হয়নি এসব প্লট। নতুন দখলদার গ্রুপ এখন প্লট দখলের নেতৃত্ব দিচ্ছে। তারা দখলের পাশাপাশি সরকারী প্লট ঘিরে চালাচ্ছে চাঁদাবাজির মহোৎসব। প্লট মালিকদের কেউ নিজের প্লটে ভবন নির্মান করতে গেলে একটি গ্রুপকে মোটা অংকের চাঁদা দিতে হয়। তাদের চাহিদা মাফিক চাঁদা না দিলে দিনে-দুপুরে অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে হামলা করে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়। এ চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের প্রায় সবাই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত। দখলদারদের অপর একটি অংশ দীর্ঘ সময় ২০২৪ এর পূর্ববর্তী সরকারী দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে সরকারী দলের নেতাদের সঙ্গে চলাফেরা করেন বলে অভিযোগ করেন আমির আলী।
অভিযোগ করে তিনি বলেন, স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এসব প্রভাবশালীরা হাউজিং এর সরকারী জমি দখল ও চাঁদাবাজিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের মিরপুর অফিস রূপনগর থানায় একাধিক জিডি ও অভিযোগ দায়ের করেও কোন প্রতিকার পায়নি। বার বার অভিাযোগ দিলেও থানা পুলিশ কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি। পুলিশের একটি অংশও এই দখল-চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত। গত ১৮ই জুলাই ২০২৬ইং তারিখ দুপুরে কয়েকজন স্থানীয় নেতা একটি প্লটে পুলিশ নিয়ে গিয়ে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়। সিসিটিবির ভিডিও ফুজেটে ঐসকল নেতাগনকে নির্মাণ শ্রমিকদের কাজ বন্ধকরে চলে যাওয়ার জন্য বলতে শোনা যায়। চলমান কাজ বন্ধ না করায় ঐসকল নেতা ও সন্ত্রাসীগন শ্রমিকদের গালিগালাজ করে এবং শাসাতে থাকেন। এর পর কাজ বন্ধ করে দিয়ে তারা ওখান থেকে চলে যান। ঘটনাস্থলে উপস্থিত সবাই সরকারী দলের স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। আর তাদের সঙ্গে উপস্থিত দুই পুলিশ সদস্য রূপনগর থানায় কর্মরত। যে প্লটে গিয়ে তারা হুমকি-ধামকি গিয়েছেন সেটি ড্যাফোডিল হোমস্ লি: নামে একটি ডেভেলপার কোম্পানীর নির্মাণাধীন একটি আবাসিক প্রকল্প।
তিনি বলেন, নির্মাণাধীন ভবনে গিয়ে হুমকি-ধামকি দেওয়ার পর ড্যাফোডিল হোমস্ লি: এর চেয়ারম্যান জনাব আব্দুল মান্নান একাধিকবার রূপনগর থানায় গিয়ে আইনি সহায়তা চান। থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোন প্রতিকার পাননি। উল্টো পুলিশসহ সন্ত্রাসিরা এসে তার নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয় এবং এই বলে হুমকি দিয়ে যায় যে তাদের চাহিদা মত চাঁদার টাকা না দিলে কোন প্রকার কাজ করতে দেওয়া হবে না। জনাব আব্দুল মান্নান থানায় কোন প্রতিকার না পেয়ে পরে তিনি সিএমএম আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন যার নম্বর সিআর-৫৮৭/২৬।
উপরোক্ত অবৈধ দখলের রাজত্ব করতে করতে তাদের দৌরাত্ম্য এতটাই বেড়েছে যে, অত্র আবাসিক এলাকার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখার জন্য ৮/১০ বৎসর যাবৎ জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক স্থাপিত ২২ সদস্যের একটি আনসার ক্যাম্প যেদিন কর্তৃপক্ষ অপসারন করেন, সেদিন রাতেই এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠী স্থাপনাসহ সরকারের বরাদ্দকৃত দুইটি প্লটের জায়গা অবৈধ ভাবে দখল করে নেয় বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, অবৈধ দখলদার গনের মধ্যে নিম্নবর্ণিতদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গিয়েছে; রূপনগর থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সালাউদ্দিন শিপু মোল্লা, ৯২ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি আমজাদ হোসেন মোল্লা, ভাষানটেক থানা যুবদল নেতা পরিচয় দানকারী জাকির হোসেন শান্ত, ক্যান্টনমেন্ট থানা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক পরিচয় দানকারী মো: শিহাব উদ্দিন, ৯২ নং ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি মো: জামাল উদ্দিন ওরফে লম্বা জামাল, সাবেক আওয়ামীলীগ নেতা ও বর্তমানে সরকারী দলের নেতা আব্দুল হক। ৯২ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি মো: নজরুল ইসলাম (নজু), ভোলা বস্তির ইউনিট নেতা মো: আক্তার হোসেন (খোকনের গ্যারেজের), রূপনগর থানার সাবেক সেচ্ছাসেবক দল নেতা হুমায়ুন কবির স্বপন, রূপনগর থানা সেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহ-সভাপতি মো: মামুন, দুয়ারীপাড়া ইউনিট সাবেক আওয়ামীলীগের নেতা আইজল, দুয়ারীপাড়া ইউনিট আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মোবারক হোসেন মেম্বার, গালিব হোসেন আরিফ, মো: রাজু (চান্দি রাজু) সুমন (পিতলা সুমন), ভোলা বস্তি ইউনিট যুবদলের সভাপতি এরশাদ খোকন, ৯২ নং ওয়ার্ড বিএনপির নেতা কামাল ওরফে সিএনজি কামাল, আজিজুল হক জামাল (সিএনজি কামালের ভাই), দুলাল, মো: সোহেল, সোহেল আনসারী, আবুল কালাম আনসারী (জামাল), মো: বাশার ও সফিক গং, জহিরুল ইসলাম গং, সাইফুল ইসলাম গং, জসিম (জামাই জসিম) গং, ইউসুফ, সেলিম গং, জান্নাতুল ফেরদৌস সুমি, শারমিন আক্তার, শিল্পী ওরফে খালিদাসহ আরো অনেকে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সম্প্রসারিত রূপনগর আবাসিক এলাকা প্লট/বাড়ী/ফ্ল্যাট মালিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম শামসুজ্জামান সহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও প্লট/বাড়ী/ফ্ল্যাট মালিকগন। আইনি প্রতিকার চেয়ে আইন মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রী’র দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :