
গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আবুল খায়েরের বিরুদ্ধে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে ঘুষ দাবি, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার, পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়া এবং কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে।
জনবাণীর বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজীপুরে ফায়ার সার্ভিসের একটি প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে প্রায় এক কোটি টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ রয়েছে আবুল খায়েরের বিরুদ্ধে। পছন্দের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের একজন প্রতিনিধিকে কাজ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অর্থ দাবি করা হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, গোপালগঞ্জ, চট্টগ্রাম, রংপুর, কুমিল্লা ও ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকার সময় টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার এবং ঠিকাদারদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট হারে কমিশন নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের দাবি, কোথাও কোথাও কমিশনের হার ৩ শতাংশ পর্যন্ত এবং ঢাকায় তা ৫ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছানোর অভিযোগ রয়েছে।
ঠিকাদারদের একটি অংশ অভিযোগ করেছে, কমিশন দিতে রাজি না হলে বিল আটকে দেওয়া, অনুমোদন বিলম্বিত করা কিংবা পরবর্তী কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যায় ফেলার চাপ সৃষ্টি করা হতো। এ ধরনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রংপুরে দায়িত্ব পালনের সময় টেন্ডার সিন্ডিকেট ও পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি কাজ করেছিল বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। একইভাবে কুমিল্লা জোনে দায়িত্ব পালনের সময় টেন্ডার ও কমিশনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে তার বিরোধের কথাও উঠে এসেছে।
এ ছাড়া জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষে দায়িত্ব পালনকালে প্রায় ৫০ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারি প্লট ও ফ্ল্যাট বরাদ্দ, নকশা অনুমোদন এবং টেন্ডার কার্যক্রমে অনিয়মের মাধ্যমে এই অর্থের দুর্নীতি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
আবুল খায়েরের সম্পদ নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগের কথা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, তার নিজের ও স্বজনদের নামে ঢাকার বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে। পাশাপাশি পূর্বাচল, জাতীয় গৃহায়ন এলাকা এবং ময়মনসিংহের বিভিন্ন স্থানে জমি ও খামারবাড়ি থাকার অভিযোগও করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আবুল খায়েরের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়েও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং দায় প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে আইনের কার্যকর প্রয়োগ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন :