মাতাব্বার হাট ঘাটে ইজারার শর্ত উপেক্ষা করে ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার | Daily AjKaler Kontho

মাতাব্বার হাট ঘাটে ইজারার শর্ত উপেক্ষা করে ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার


জাকির হোসেন জুয়েল, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬, ৭:৩৭ অপরাহ্ন
মাতাব্বার হাট ঘাটে ইজারার শর্ত উপেক্ষা করে ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার

লক্ষ্মীপুর ও ভোলা জেলা পরিষদের যৌথ মালিকানাধীন নাছির মাঝির ঘাট-তুলাতলী-কাঠির মাথা ফেরিঘাটে (মতিরহাট রাস্তার মাথা হয়ে মাঝেরচর-মদনপুর-চরপদ্মা রুট) ইজারার শর্ত যথাযথভাবে মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে শত শত যাত্রী নদী পারাপার করছেন বলে দাবি স্থানীয়দের।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখা থেকে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য ঘাটটি ১৪ লাখ ৯৫ হাজার ১৭৫ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়। কমলনগর উপজেলার ১ নম্বর চর কালকিনি এলাকার মো. মুকতার হোসেন ঘাটটি ইজারা নেন।

ইজারা চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ঘাটে নৌযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ফিটনেস সনদপ্রাপ্ত নৌযান পরিচালনা এবং যাত্রীদের জন্য প্রয়োজনীয় লাইফ জ্যাকেট ও লাইফ বয়া রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। একই সঙ্গে ঘাটের উভয় পাশে পর্যাপ্ত নিবন্ধিত ও ফিটনেস সনদযুক্ত নৌযান থাকার কথা রয়েছে।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বাস্তবে ইজারার এসব শর্তের যথাযথ বাস্তবায়ন দেখা যাচ্ছে না। ঘাটে যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট ও লাইফ বয়ার ব্যবস্থা নেই। নিরাপদে নৌযানে ওঠানামার জন্য প্রয়োজনীয় পন্টুন, সিঁড়ি ও অন্যান্য অবকাঠামোগত সুবিধাও অপ্রতুল।

এ ছাড়া ফিটনেসবিহীন কিংবা নিয়ম না মেনে নৌযান পরিচালনার অভিযোগও করেছেন ঘাট ব্যবহারকারীরা। ফলে লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই ঝুঁকিপূর্ণভাবে নদী পার হচ্ছেন যাত্রীরা। নদী উত্তাল থাকলে এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার বড় ধরনের প্রাণহানির কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

ঘাটের ইজারার শর্ত ভঙ্গের অভিযোগের বিষয়ে ইজারাদার মো. মুকতার হোসেনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলের দাবি, বিষয়টি দ্রুত সরেজমিনে তদন্ত করে ইজারার শর্ত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে যাত্রীদের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, নিরাপদ ওঠানামার ব্যবস্থা এবং অনুমোদিত নৌযান চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, ইজারার শর্ত লঙ্ঘনের বিষয়টি জেলা পরিষদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আজকালের কন্ঠ/আর বি