ইরানের মসজিদ ও হাসপাতালে নির্বিচারে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল | Daily AjKaler Kontho

ইরানের মসজিদ ও হাসপাতালে নির্বিচারে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল


আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশের সময় : এপ্রিল ৩, ২০২৬, ১২:৪৭ অপরাহ্ন
ইরানের মসজিদ ও হাসপাতালে নির্বিচারে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর চলমান হামলায় অন্তত ১৩টি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

সংস্থাটির তথ্য অনুসারে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখনও পর্যন্ত ইরানে অন্তত ১ হাজার ২৩০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। যার মধ্যে চারজন স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন।

এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলো সবসময় সুরক্ষিত থাকা উচিত এবং এগুলোকে কখনোই সামরিক লক্ষ্যবস্তু করা যাবে না।

বর্তমানে এই হামলার ফলে ইরানের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে এবং আহতের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

সংঘাতের ভয়াবহতা কেবল হাসপাতালেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং ইরানের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থাপনাগুলোও হামলার শিকার হচ্ছে। উত্তর-পশ্চিম ইরানের জানজান শহরের ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড হোসাইনিয়া নামক একটি শিয়া মসজিদ ও ধর্মীয় সমাবেশ কেন্দ্র মঙ্গলবার সকালে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবর অনুযায়ী, ফেরদৌসি স্ট্রিটে অবস্থিত এই প্রাচীন ভবনটির গম্বুজ ও মিনারের আংশিক ক্ষতি হয়েছে।

এছাড়া জাতিসংঘের তথ্যমতে, ইরানের ২৯টি ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্যের মধ্যে অন্তত চারটি স্থাপনা ইতিমধ্যে যুদ্ধের কবলে পড়েছে। এর মধ্যে তেহরানের গোলেস্তান প্যালেস, ইসফাহানের চেহেল সোতুন প্যালেস, মাসজেদ-ই জামে মসজিদ এবং খোররামাবাদ উপত্যকার প্রাগৈতিহাসিক প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলো অন্যতম।

তেহরান সিটি কাউন্সিলের ঐতিহ্য কমিটির প্রধান আহমদ আলাভি জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে অন্তত ১২০টি ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে তেহরানের মার্বেল প্যালেস, তৈমুরতাশ হাউস এবং পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় সাদাবাদ প্যালেস কমপ্লেক্সও রয়েছে।

যুদ্ধের এই ধ্বংসলীলা কেবল স্থাপনার ক্ষতি করছে না, বরং সাধারণ মানুষের জীবনকেও বিপর্যস্ত করে তুলছে। গত শনিবার দক্ষিণ ইরানের মিনাবে শজারেহ তাইয়্যেবাহ স্কুলে হামলায় কয়েক ডজন স্কুল শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। এছাড়া যুদ্ধের প্রভাবে তেহরান থেকে প্রায় এক লাখ এবং লেবানন থেকে আরও ৬০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে ডব্লিউএইচও নিশ্চিত করেছে।

মানবিক সহায়তার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দুবাইয়ে অবস্থিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরুরি লজিস্টিক হাব বা সরবরাহ কেন্দ্রের কার্যক্রম বন্ধ হওয়া। হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা এবং আকাশসীমা বন্ধ থাকার কারণে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ডলার মূল্যের চিকিৎসা সরঞ্জাম ইরানে পৌঁছাতে পারছে না।

এর ফলে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের পোলিও নির্মূল কার্যক্রম যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি গাজা উপত্যকার জন্য নির্ধারিত ৬০ লাখ ডলারের ওষুধ সরবরাহও আটকে আছে।

ডব্লিউএইচও সতর্ক করে বলেছে, পারমাণবিক স্থাপনাগুলো যদি এই যুদ্ধের লক্ষ্যবস্তু হয়, তবে তার ফল হবে ভয়াবহ এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত এই ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

আজকালের কন্ঠ/আর বি