জীবনের অবমূল্যায়ন: দায় কার? | Daily AjKaler Kontho

জীবনের অবমূল্যায়ন: দায় কার?


প্রফেসর ড. আসিফ মিজান প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬, ৭:৩৬ অপরাহ্ন
জীবনের অবমূল্যায়ন: দায় কার?

মানুষের জীবন, স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কোনো রাষ্ট্রের অনুগ্রহ নয়; এগুলো মানুষের জন্মগত অধিকার। জাতিসংঘের সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্রের ৩ নম্বর অনুচ্ছেদে প্রত্যেক মানুষের জীবন, স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার অধিকারের কথা স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। অথচ আমাদের সমাজে একের পর এক হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও সহিংসতার ঘটনা প্রমাণ করছে—বাংলাদেশে মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা আজ গভীর সংকটে নিমজ্জিত।

এই সংকট কেবল আইনশৃঙ্খলার সংকট নয়; এটি একই সঙ্গে নৈতিকতা, পরিবার, শিক্ষা, সামাজিক প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি এবং সুশাসনের সংকট।

নিকট অতীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে এক অপরিচিত ব্যক্তির নির্মম হত্যাকাণ্ড, খুলনায় এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর ওপর নৃশংস হামলা ও পরে হত্যা এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন এলাকায় কিশোর ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের হত্যাকাণ্ড আমাদের বিবেককে নাড়া দিয়েছে। কুমিল্লার ঘটনায় শিক্ষার্থীরা বিচার ও নিরাপত্তার দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করেছে; পুলিশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে এবং তদন্তে কিছু সূত্র পাওয়ার কথা জানিয়েছে। খুলনার ঘটনায়ও হত্যামামলা হয়েছে, যেখানে কয়েকজন শিক্ষার্থীসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।

ঘটনাগুলোর বিবরণ ভিন্ন হতে পারে, স্থান ও প্রেক্ষাপট ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু অন্তর্নিহিত সূত্রটি একই—মানুষের জীবনের প্রতি ভয়াবহ অবজ্ঞা, সহিংসতাকে স্বাভাবিক মনে করা এবং অপরাধ সংঘটনের পর শাস্তি এড়িয়ে যাওয়ার এক বিপজ্জনক সংস্কৃতি।

জীবন ও সম্পদের মর্যাদাঃ

ইসলাম মানুষের জীবনকে পবিত্র আমানত হিসেবে বিবেচনা করেছে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, অন্যায়ভাবে একজন মানুষকে হত্যা করা যেন সমগ্র মানবজাতিকে হত্যা করার সমতুল্য; আর একজনের জীবন রক্ষা করা যেন সমগ্র মানবজাতির জীবন রক্ষার অনুরূপ। এই শিক্ষা কেবল ধর্মীয় অনুশাসন নয়- এটি মানবসভ্যতার নৈতিক ভিত্তির অন্যতম শক্তিশালী ঘোষণা।

অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ, চুরি, লুণ্ঠন ও দুর্নীতিও ইসলামে কঠোরভাবে নিন্দিত। সূরা আল-মায়িদার ৩৩ ও ৩৮ নম্বর আয়াতে জননিরাপত্তা বিনষ্টকারী অপরাধ এবং চুরির জন্য কঠোর শাস্তির কথা বলা হয়েছে। এসব বিধানের মূল উদ্দেশ্য প্রতিহিংসা নয়; বরং মানুষের জীবন, সম্পদ, মর্যাদা ও সামাজিক নিরাপত্তা রক্ষা করা।

মানবাধিকারের ভাষা, ধর্মীয় নৈতিকতা এবং সামাজিক রীতিনীতি- তিনটিই একই সত্যের দিকে নির্দেশ করে: মানুষকে হত্যা করা, নির্যাতন করা কিংবা তার সম্পদ লুণ্ঠন করা সভ্যতার বিরুদ্ধে অপরাধ।

কিন্তু যখন অপরাধী প্রকাশ্যে অপরাধ করে, যখন দর্শকেরা নীরব থাকে, যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হত্যার দৃশ্য বিনোদনের উপাদানে পরিণত হয় এবং যখন বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতায় আক্রান্ত হয়—তখন বুঝতে হবে, সমস্যাটি বিচ্ছিন্ন নয়; এটি সামগ্রিক সামাজিক চরম অবক্ষয়ের লক্ষণ।

অসুস্থ প্রজন্মের দায় কার?

সন্তান জন্ম দিলেই পিতা-মাতার দায়িত্ব শেষ হয় না। সন্তানকে কীভাবে বড় করা হচ্ছে, তার মূল্যবোধ কী, সে দুর্বল মানুষকে কীভাবে দেখে, ভিন্নমতকে কীভাবে গ্রহণ করে, অর্থ ও সাফল্য সম্পর্কে তার ধারণা কী—এসব প্রশ্নের উত্তর পরিবারেই তৈরি হয়।

আজ অনেক পরিবারে সন্তানের নৈতিক চরিত্রের চেয়ে ফলাফল, র‌্যাংক, চাকরি, অর্থ, সামাজিক পরিচিতি ও প্রদর্শনযোগ্য সাফল্যকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সন্তান বৈধ পথে অর্জন করুক বা অবৈধ পথে- শুধু সাফল্য অর্জন করলেই অনেক অভিভাবক গর্বিত হন। এই ‘যেকোনো মূল্যে সফল হওয়া’র সংস্কৃতি ধীরে ধীরে বিবেক, সংযম ও দায়িত্ববোধকে ক্ষয় করে।

সন্তানকে আমরা প্রায়ই বলি- ‘জীবনে বড় হও।’ কিন্তু খুব কম পরিবার তাকে বলে-‘সৎ হও, দুর্বলকে রক্ষা করো, অন্যের অধিকারকে সম্মান করো, রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করো।’ ফলে শিক্ষিত মানুষের সংখ্যা বাড়লেও নৈতিক মানুষ তৈরি হচ্ছে না। জ্ঞান যদি বিবেকের সঙ্গে যুক্ত না হয়, তবে তা কখনো কখনো অপরাধকে আরও দক্ষ, আরও সংগঠিত এবং আরও ভয়ংকর করে তুলতে পারে।

দার্শনিক অ্যারিস্টটল মনে করতেন, মানুষের চরিত্র গড়ে ওঠে অভ্যাসের মাধ্যমে। অর্থাৎ শিশুকে আমরা প্রতিদিন যে আচরণ, ভাষা ও মূল্যবোধের মধ্যে বড় করি, তার মধ্য দিয়েই তার চরিত্র নির্মিত হয়। তাই পরিবারে মিথ্যাকে প্রশ্রয় দেওয়া, অন্যায়কে ‘চালাকি’ হিসেবে প্রশংসা করা এবং ক্ষমতাবানকে দেখে নৈতিকতার মানদণ্ড বদলে ফেলা- এসবের দীর্ঘমেয়াদি ফল ভয়াবহ।

প্রতিষ্ঠান ভাঙলে অপরাধ বাড়েঃ

গত দুই দশকে বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়েছে, কিন্তু তার চেয়েও বিপজ্জনকভাবে ভেঙে পড়েছে দায়িত্বের শৃঙ্খল বা chain of command। কোথায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, কে জবাবদিহি করবে, কোন পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ কার্যকর হবে- এই মৌলিক কাঠামো অনেক ক্ষেত্রে অস্পষ্ট ও অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রাবাস, ক্যাম্পাস, আবাসিক এলাকা বা আশপাশের জনপদে কোনো অপরাধ ঘটলে প্রশাসন, প্রক্টরিয়াল বডি, আবাসিক কর্তৃপক্ষ, পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে দ্রুত সমন্বয় থাকা প্রয়োজন। কিন্তু বাস্তবে অনেক সময় অভিযোগকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না, প্রাথমিক সতর্কতাকে উপেক্ষা করা হয়, ক্ষমতাবান বা প্রভাবশালী গোষ্ঠীর চাপ কাজ করে এবং ঘটনার পর দায় এক প্রতিষ্ঠান অন্য প্রতিষ্ঠানের ওপর ঠেলে দেয়।

জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ভেবার আধুনিক রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য হিসেবে বৈধ কর্তৃত্ব ও নিয়মভিত্তিক প্রশাসনের কথা বলেছেন। সেই নিয়মভিত্তিক কর্তৃত্ব যদি ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর প্রভাবের কাছে পরাজিত হয়, তবে রাষ্ট্রের আইন থাকে- কিন্তু আইনের কার্যকারিতা থাকে না। তখন নাগরিক নিরাপত্তা অধিকার না হয়ে ভাগ্যের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

অপরাধবিজ্ঞানের ভাষায় শাস্তির নিশ্চয়তা অনেক সময় শাস্তির মাত্রার চেয়েও বেশি কার্যকর। অপরাধী যদি বিশ্বাস করে যে তাকে ধরা হবে না, মামলা দীর্ঘদিন চলবে, সাক্ষী পাওয়া যাবে না অথবা রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবের মাধ্যমে সে রক্ষা পেয়ে যাবে, তবে আইন তার কাছে ভয় হারায়। এই ভয়হীনতাই অপরাধের পুনরুৎপাদন ঘটায়।

‘শোআপ’ সংস্কৃতি ও নৈতিক দেউলিয়াত্বঃ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে মানুষ নিজেকে প্রদর্শন করতে চায়। এই প্রবণতা স্বাভাবিক সীমা অতিক্রম করে যখন পরিচিতি, অনুসারী, আলোচনায় থাকা এবং ক্ষমতার প্রদর্শন জীবনের প্রধান লক্ষ্য হয়ে ওঠে। তখন সহিংসতাও কখনো কখনো আত্মপ্রদর্শনের মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায়।

কেউ অপরাধের ভিডিও ধারণ করে, কেউ তা ছড়িয়ে দেয়, কেউ মন্তব্যে উল্লাস প্রকাশ করে। অপরাধের দৃশ্য দেখে প্রতিবাদ করার বদলে দর্শক হয়ে থাকা, আহত মানুষকে সহায়তা না করে ছবি তোলা এবং মৃত্যুকে অনলাইন আলোচনার সাময়িক বিষয় বানিয়ে ফেলা—এসব আচরণ সামাজিক সংবেদনশীলতার গভীর অবক্ষয় নির্দেশ করে।

এখানে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদেরও দায়িত্ব আছে। অপরাধের বিবরণ প্রকাশ করতে হবে, কিন্তু অপরাধীকে নায়ক বানানো যাবে না; ভুক্তভোগীর মর্যাদা রক্ষা করতে হবে; যাচাইহীন তথ্য, উত্তেজক ছবি ও গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে। সংবাদমাধ্যমের দায়িত্ব জনমত উত্তেজিত করা নয়, বরং সত্য উদ্‌ঘাটন, জবাবদিহি নিশ্চিত এবং ন্যায়বিচারের পরিবেশ তৈরি করা।

রাষ্ট্র একা দায়ী নয়, তবে প্রধান দায় রাষ্ট্রেরঃ

এ কথা সত্য যে সন্তানদের নৈতিক অবক্ষয়, সহিংসতা কিংবা অপরাধের জন্য শুধু রাষ্ট্রকে দায়ী করা যায় না। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, গণমাধ্যম এবং নাগরিক সমাজ—সবারই দায়িত্ব রয়েছে।

তবে রাষ্ট্রের দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি, কারণ জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বৈধ ক্ষমতা রাষ্ট্রের হাতেই ন্যস্ত। রাষ্ট্র যদি অপরাধ প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়, তদন্তে গাফিলতি করে, বিচার বিলম্বিত করে অথবা অপরাধীকে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আশ্রয় দেয়, তবে তা কেবল প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়—এটি নাগরিক অধিকারের লঙ্ঘন।

জার্মান দার্শনিক হান্না আরেন্ট সতর্ক করেছিলেন, ভয়াবহ অপরাধ অনেক সময় অসাধারণ দানবদের দ্বারা নয়, বরং দায়িত্বহীনতা, চিন্তাহীনতা ও নীরব আনুগত্যের মধ্য দিয়ে সংঘটিত হয়। আমাদের সমাজে অপরাধের বিরুদ্ধে নীরবতা, অন্যায়কে সহ্য করা এবং ক্ষমতাবান অপরাধীর প্রতি আপস- এই ‘নীরব সম্মতি’ অপরাধকে সামাজিক বৈধতা দেয়।

অতএব রাষ্ট্রকে একই সঙ্গে তিনটি কাজ করতে হবে: অপরাধ প্রতিরোধ, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং নিশ্চিত বিচার। এর পাশাপাশি পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে মূল্যবোধ, সহমর্মিতা, আত্মসংযম ও নাগরিক দায়িত্বের শিক্ষা দিতে হবে।

করণীয় কীঃ

এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য কয়েকটি পদক্ষেপ জরুরি।

প্রথমত, প্রতিটি হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার নিরপেক্ষ, পেশাদার ও সময়সীমাবদ্ধ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। তদন্তের নামে কালক্ষেপণ বা রাজনৈতিক প্রভাবের সুযোগ রাখা যাবে না।

দ্বিতীয়ত, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কার্যকর নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। অভিযোগ গ্রহণ, জরুরি প্রতিক্রিয়া, কাউন্সেলিং, আবাসিক নিরাপত্তা এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের সুস্পষ্ট ব্যবস্থা থাকতে হবে।

তৃতীয়ত, পরিবারে নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষাকে আনুষ্ঠানিক বক্তৃতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দৈনন্দিন আচরণের অংশ করতে হবে। শিশুকে শুধু প্রতিযোগিতায় জয়ী হওয়ার শিক্ষা নয়, পরাজয় মেনে নেওয়া, রাগ নিয়ন্ত্রণ, সহমর্মিতা ও ভিন্নমতকে সম্মান করার শিক্ষাও দিতে হবে।

চতুর্থত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও সংঘাত নিরসনের ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। অপমান, বুলিং, একাকিত্ব, মাদকাসক্তি, গ্যাং-সংস্কৃতি ও অনলাইন উসকানিকে হালকা করে দেখলে চলবে না।

পঞ্চমত, অপরাধের সামাজিক মহিমা বন্ধ করতে হবে। ক্ষমতাবান অপরাধীর পরিচয় নয়, তার অপরাধই যেন আলোচনার কেন্দ্র হয়। একই সঙ্গে নিরপরাধ ব্যক্তিকে গুজব ও গণমাধ্যম-আদালতের মাধ্যমে দোষী সাব্যস্ত করার প্রবণতাও প্রতিহত করতে হবে।

অতএব, একটি রাষ্ট্রের প্রকৃত উন্নয়ন শুধু সেতু, সড়ক, ভবন বা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পরিমাপে নির্ধারিত হয় না। প্রকৃত উন্নয়ন তখনই দৃশ্যমান হয়, যখন একজন সাধারণ মানুষ রাতের অন্ধকারে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন; একজন শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে নিজেকে সুরক্ষিত মনে করেন; একটি শিশু জানে যে তার জীবন রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবারের কাছে মূল্যবান।

মানুষের জীবনকে মূল্যহীন করে কোনো জাতি সভ্য হতে পারে না। অপরাধের বিচার না হলে আইন দুর্বল হয়; আইন দুর্বল হলে প্রতিষ্ঠান ভেঙে পড়ে; প্রতিষ্ঠান ভেঙে পড়লে নাগরিকের আস্থা নষ্ট হয়; আর নাগরিকের আস্থা নষ্ট হলে রাষ্ট্রের নৈতিক ভিত্তিই বিপন্ন হয়ে পড়ে।

তাই আজ আমাদের প্রয়োজন শুধু অপরাধীর শাস্তি নয়—একটি নৈতিক পুনর্জাগরণ, একটি দায়িত্বশীল পরিবার, একটি সংবেদনশীল সমাজ এবং একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা। সন্তানদের ভবিষ্যৎ রক্ষার দায় পিতা-মাতার; সামাজিক মূল্যবোধ রক্ষার দায় সমাজের; আর জীবন, স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার অধিকার নিশ্চিত করার চূড়ান্ত দায় রাষ্ট্রের।

আমরা যদি এখনো নিজেদের না বদলাই, তবে একদিন এমন এক সমাজে পৌঁছাব, যেখানে মানুষ হত্যার আগে ভয় পাবে না, হত্যার পরে অনুতপ্ত হবে না এবং হত্যাকাণ্ড দেখেও মানুষ নীরব থাকবে। সেই পরিণতি ঠেকানোই আজ আমাদের সবচেয়ে বড় নৈতিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব।

লেখকঃ – প্রফেসর ড. আসিফ মিজান
উপাচার্য, দারু সালাম বিশ্ববিদ্যালয়, সোমালিয়া
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, অপরাধবিজ্ঞানী ও সুশাসন বিশেষজ্ঞ।

‎আজকালের কন্ঠ/আর বি