
প্রায় তিন দশক পর সালমান শাহ অপমৃত্যু মামলা এখন রূপ নিয়েছে হত্যা মামলায়। ১৯৯৬ সালে সালমানের মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে দাবি করেন অভিনেতার সাবেক স্ত্রী সামিরা হক। কিন্তু সালমানের পরিবার দাবি করেন, এটি কোনোভাবেই আত্মহত্যা নয়। অবশেষে গত ২০ অক্টোবর হত্যা মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
লন্ডন থেকে গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই ২৯ বছরে অনেক মানুষ আমাকে খারাপ বলেছে, আমার ছেলেকে খারাপ বলেছে। কেউ বলেছে, আমি নাকি নিজেই আমার ছেলেকে মেরেছি। কিন্তু আমি জানতাম, একদিন আইন প্রমাণ করবে এটা খুন।
তিনি আরও বলেন, আদালতের সোমবারের সিদ্ধান্ত আমাকে মানসিকভাবে শান্তি দিয়েছে। মামলার কার্যক্রম এত দ্রুত শুরু হবে ভাবিনি। এখন মনে হচ্ছে, অবশেষে ন্যায়বিচার পাব।
সালমান শাহর মৃত্যুর প্রসঙ্গে নীলা চৌধুরী বলেন, খুনের চিহ্ন আর আত্মহত্যার চিহ্ন এক নয়। আমার ছেলের শরীরে খুনের আলামত ছিল। সামিরা চট্টগ্রাম থেকে লোক এনে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করেছে। এর সঙ্গে আজিজ মোহাম্মদের লোকজনও জড়িত।
তিনি দাবি করেন, আমি ২৯ বছর ধরে বলেছি আমার ছেলে আত্মহত্যা করার মতো ছেলে নয়। আদালতের পদক্ষেপে সেই কথার সত্যতা পাওয়া যাচ্ছে।
সম্প্রতি অভিনেতা ডন তাকে হুমকি দিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলনে, এক মাস আগেও ডন আমাকে হুমকি দিয়েছে, প্রেসক্লাবের সামনে যেতে বলেছে। ভাবুন, যে একসময় আমার ছেলের পিছে পিছে ঘুরত, সেই এখন আমাকে হুমকি দেয়! এত সাহস সে কোথা থেকে পায়?
নিজের দীর্ঘ লড়াইয়ের প্রসঙ্গে নীলা চৌধুরী বলেন, আমি বিশ্বাস করি, ইনশাআল্লাহ এবার ন্যায়বিচার পাব। এত বছর ধরে যারা আমাকে অপমান করেছে, হুমকি দিয়েছে—তাদের বিচার হবেই।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সবাইকে বিস্মিত করে না ফেরার দেশে চলে যান নায়ক সালমান শাহ। মৃত্যুর এত বছর পরও দর্শক হৃদয়ে আজও বেঁচে আছেন ঢালিউডের হার্টথ্রব নায়ক সালমান শাহ।
সালমানের মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে দাবি করেন অভিনেতার সাবেক স্ত্রী সামিরা হক। তবে এতে দ্বিমত পোষণ করেন সালমান শাহর পরিবার। তাদের দাবি, সালমান শাহকে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :