যুক্তরাষ্ট্রে চার দশকে সবচেয়ে বেশি মুদ্রাস্ফীতি | Daily AjKaler Kontho

যুক্তরাষ্ট্রে চার দশকে সবচেয়ে বেশি মুদ্রাস্ফীতি


আজকালের কণ্ঠ প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ১৩, ২০২২, ৪:০৭ অপরাহ্ন
যুক্তরাষ্ট্রে চার দশকে সবচেয়ে বেশি মুদ্রাস্ফীতি

২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রাস্ফীতি ৫ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছেছিল। মূলত করোনার কারণেই অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছিল মার্কিন প্রশাসন। জো বাইডেনের প্রশাসন জনগণকে জানিয়েছিলো, অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার জন্য তারা সবরকম ব্যবস্থা নেবে। দ্রুত মার্কিন অর্থনীতি ফের ঘুরে দাঁড়াবে।

বস্তুত, বাইডেন অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার জন্য বেশ কিছু পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, কোনো কিছুতেই কোনো লাভ হয়নি। অর্থনীতি আরও সংকটের মুখে পড়েছে। এর জেরে এ বছরের গোড়ায় মুদ্রাস্ফীতি ৭ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে, যা গত চার দশকের মধ্যে কখনো ঘটেনি।

বৃহস্পতিবার জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৯৮২ সালের জুন মাসে শেষবার এ হারে মুদ্রাস্ফীতি দেখেছিল যুক্তরাষ্ট্র। বস্তুত, গত বছরের ৫ দশমিক ৫ শতাংশ মুদ্রাস্ফীতিও ঐতিহাসিক ঘটনা ছিল। ১৯৯১ সালে শেষবার ওই হারে মুদ্রাস্ফীতি হয়েছিল।

মুদ্রাস্ফিতির জেরে বাজার দর অনেক বেড়ে গেছে। বাড়ি ভাড়া থেকে শুরু করে সেকেন্ডহ্যান্ড গাড়ি, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস থেকে কাঁচা বাজার– সব কিছুর দামই ঊর্ধ্বমুখী।

হিসেব বলছে, গত কিছুদিনে বাড়িভাড়া বেড়েছে ৪ দশমিক ১ শতাংশ। খাবারের দাম বেড়েছে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ। পুরনো গাড়ির দাম বেড়েছে ৩৭ দশমিক ৩ শতাংশ। এছাড়াও জামাকাপড়, জুতো, ওষুধ- সব কিছুরই দাম বেড়েছে এবং ক্রমশ বেড়েই চলেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন অবশ্য বুধবারও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এখনই মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই।

বিশ্বজুড়ে করোনা প্রকোপের জন্যই এমনটা ঘটেছে। অর্থনীতি যাতে ঘুরে দাঁড়াতে পারে, তার জন্য সরকার সবরকম ব্যবস্থা নিচ্ছে। ফলে ভয় পাওয়ার কারণ নেই। দ্রুত এ পরিস্থিতি থেকে সাধারণ মানুষ মুক্তি পাবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মার্কিন নাগরিকদের কাছে এখন মুদ্রাস্ফীতি সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়। করোনার চেয়েও এ বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে বেশি। সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত। বস্তুত, সর্বোচ্চ মার্কিন ব্যাংকও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। দ্রুত এই পরিস্থিতি সামাল দেয়া কঠিন বলেও সরকারকে তারা জানিয়েছে।