১ বছরেও বরাদ্দপ্রাপ্তদের দোকান বুঝে পাননি বারইয়ারহাট পৌরসভা | Daily AjKaler Kontho

১ বছরেও বরাদ্দপ্রাপ্তদের দোকান বুঝে পাননি বারইয়ারহাট পৌরসভা


মিরসরাই প্রতিনিধি: প্রকাশের সময় : অগাস্ট ১৭, ২০২৬, ৬:০৮ অপরাহ্ন
১ বছরেও বরাদ্দপ্রাপ্তদের দোকান বুঝে পাননি বারইয়ারহাট পৌরসভা

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার বারইয়ারহাট পৌরসভায় মহাসড়কের পশ্চিম পাশে উত্তরা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন নবনির্মিত শেডে লটারির মাধ্যমে দোকান বরাদ্দ পাওয়ার প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো দোকান বুঝে পাননি বরাদ্দপ্রাপ্তরা। এতে একদিকে ব্যবসা শুরু করতে না পেরে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা, অন্যদিকে দোকানগুলো চালু না হওয়ায় নিয়মিত রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে পৌরসভা।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন ব্যক্তির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ১৫ জুলাই বাঃপৌঃ/বাঃ আঃসাঃশাঃ/২০২৫/২৯৫ নম্বর স্মারকে মহাসড়কের পশ্চিম পাশে উত্তরা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন নবনির্মিত শেড ঘর ভাড়ার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে মোট ৩৯টি দোকান বরাদ্দের কথা উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে ৭টি মুদি দোকান, ৭টি মাছের দোকান, ৪টি মাংসের দোকান, ২টি মুরগির দোকান ও ১৯টি সবজির দোকান রয়েছে।

এর ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ১০ আগস্ট লটারির মাধ্যমে ৩৯ জনকে ৩৯টি দোকান বরাদ্দ দেয় পৌরসভা কর্তৃপক্ষ।বরাদ্দের শর্ত অনুযায়ী, প্রতিটি দোকানের জন্য ৩০ হাজার টাকা জামানত এবং মাসিক ১ হাজার টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়। বরাদ্দপ্রাপ্তদের ১৪ আগস্ট ২০২৫ সালের মধ্যে ৩০০ টাকা মূল্যের নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তিপত্র সম্পাদনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে দোকানের ভাড়া কার্যকর হওয়ার কথা জানানো হয়।

তবে বরাদ্দের প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো দোকানগুলো বরাদ্দপ্রাপ্তদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। ফলে দোকান চালু করতে না পারায় ব্যবসা থেকে আয় করতে পারছেন না তারা। অনেকেই দোকানের জামানতের টাকা জোগাড় করতে ঋণ করেছেন বলেও জানান। অন্যদিকে দোকানগুলো চালু না হওয়ায় পৌরসভাও নির্ধারিত ভাড়া থেকে রাজস্ব পাচ্ছে না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে দোকানগুলো বন্ধ ও অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকায় সেখানে নিয়মিত মাদক ও জুয়ার আসর বসছে। এতে আশপাশের পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

দোকান বরাদ্দপ্রাপ্ত শহিদুল ইসলাম বলেন, “দোকান বরাদ্দ দেওয়ার এক বছর পার হলেও একাধিকবার যোগাযোগ করেও এখনো দোকান বুঝে পাইনি। আমাদের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা জামানত নেওয়া হয়েছে। ওই টাকা অন্য কোথাও রাখলে লাভ হতো। দোকান না পাওয়ায় আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক বরাদ্দপ্রাপ্ত বলেন, “লটারির মাধ্যমে দোকান বরাদ্দ পাওয়ার পর পৌরসভা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে অফিস খরচ বাবদ ২০ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছিল। কিসের টাকা জানতে চাইলে পরে আমাদের কাছ থেকে ৩০০ টাকার সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এখন আমাদের দোকানের ভাড়া কার্যকর হচ্ছে কি না, সেটিও পরিষ্কারভাবে জানি না। আমরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি।”

আরেক বরাদ্দপ্রাপ্ত বলেন, “আমি গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে দোকানের জামানতের টাকা দিয়েছি। কিন্তু এক বছর হয়ে গেলেও পৌরসভা এখনো দোকান বুঝিয়ে দেয়নি। এই দোকানের আশায় অন্য কোথাও দোকানও নিইনি। ফলে আমি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।”

এ বিষয়ে বারইয়ারহাট পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী সমর মজুমদারের কাছে এক বছরেও দোকানগুলো বুঝিয়ে না দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ওখানের লাইট ও তার চোরের দল কেটে নিয়ে যাওয়ার কারণে বরাদ্দ দিতে দেরি হচ্ছে। নতুন করে তার ও লাইটের জন্য টেন্ডার করা হয়েছে। চলতি মাসে কাজ শেষ হলে শিগগিরই দোকানগুলো বুঝিয়ে দিতে পারব।”

বরাদ্দপ্রাপ্ত দোকানগুলোর ভাড়া কার্যকর হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর দিতে পারেননি।এ বিষয়ে মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বারইয়ারহাট পৌরসভার প্রশাসক সোমাইয়া আক্তারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়ে বক্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি।

আজকালের কন্ঠ/আর এস