রায়পুর মার্চেন্টস একাডেমীতে ফরম পূরণে বঞ্চিত ৫১ এসএসসি পরীক্ষার্থী | Daily AjKaler Kontho

রায়পুর মার্চেন্টস একাডেমীতে ফরম পূরণে বঞ্চিত ৫১ এসএসসি পরীক্ষার্থী


জাকির হোসেন জুয়েল , লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি : প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ৩, ২০২৬, ১:৫৬ পূর্বাহ্ন
রায়পুর মার্চেন্টস একাডেমীতে ফরম পূরণে বঞ্চিত ৫১ এসএসসি পরীক্ষার্থী

প্রশাসনিক সিদ্ধান্তহীনতা, সমন্বয়ের অভাব ও সময়মতো কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় লক্ষ্মীপুরের রায়পুর সরকারি মার্চেন্টস একাডেমির ৫১ জন এসএসসি পরীক্ষার্থীর এক বছরের শিক্ষাজীবন নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ করতে না পারায় আসন্ন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, টেস্ট পরীক্ষায় এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীদের চলতি বছর ফরম ফিলাপের সুযোগ দেয়নি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অথচ বিগত বছরগুলোতে বিশেষ বিবেচনায় এ ধরনের শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন অভিভাবকরা।

চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপের শেষ সময়সীমা ছিল ১৭ জানুয়ারি। অভিযোগ রয়েছে, সময়সীমা ঘনিয়ে এলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে শেষ পর্যন্ত ৫১ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ থেকে বঞ্চিত হয়।

অভিভাবকদের ক্ষোভ বিক্ষুব্ধ কয়েকজন অভিভাবক বলেন,“বিদ্যালয়ের অবহেলা ও সিদ্ধান্তহীনতার খেসারত দিতে হচ্ছে আমাদের সন্তানদের। সময় থাকতে সমাধান করা হলে আজ এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না। একটি বছর নষ্ট হলে এর দায় কে নেবে?”

তারা দাবি করেন, হঠাৎ কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করে দেওয়া অমানবিক।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, গত ২৯ ডিসেম্বর শিক্ষকদের এক সভায় রেজুলেশনের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়—টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ফাইনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন,“অভিভাবকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গেলে তাঁর নির্দেশে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয়। এতে ৩৮ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়। তবে সরকারি ছুটি ও অন্যান্য কারণে ফরম ফিলাপের সময় শেষ হয়ে যায়। বোর্ড সময় বাড়ালে তাদের ফরম পূরণ সম্ভব হবে।”

প্রশাসনের অবস্থান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউসার বলেন,“শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। বোর্ডের অনুমতি ও সময় পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উঠছে প্রশ্ন অভিভাবকদের প্রশ্ন—যদি পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনাই থাকে, তবে ফরম ফিলাপের সময় শেষ হওয়ার আগেই কেন উদ্যোগ নেওয়া হলো না? প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাবে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে পড়ার দায় কে নেবে?

মানবিক সমাধানের দাবি , দ্রুত শিক্ষা বোর্ডের হস্তক্ষেপ ও বিশেষ বিবেচনায় সময় বাড়িয়ে ফরম ফিলাপের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকরা। অন্যথায় পুনরায় পরীক্ষা পাশ করা ৩৮ জন জন এসএসসি পরীক্ষার্থীর একটি পুরো বছর নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আজকালের কন্ঠ/আর এস/জে