বিভিন্ন জাতের কমলা চাষে হালিমের জীবনে সফলতা | Daily AjKaler Kontho

বিভিন্ন জাতের কমলা চাষে হালিমের জীবনে সফলতা


আজকালের কণ্ঠ প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ৭, ২০২৩, ৭:৪০ অপরাহ্ন
বিভিন্ন জাতের কমলা চাষে হালিমের জীবনে সফলতা

আজকালের কন্ঠ ডেস্ক : গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শাখাহার ইউনিয়নের বাল্যা গ্রামের মো. আব্দুস সামাদের ছেলে আব্দুল হালিম মিয়া(২৭)।

২০১৮ সালে বেকারত্ব থেকে মুক্তি ও পারিবারিক স্বচ্ছলতা আনতে বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিছু আবাদি জমি বিক্রি করে সেই টাকায় বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতি নিলেও ভাগ্য সহায় ছিল না। ভিসা জটিলতা ও দালালের প্রতারণার শিকার হওয়ায় বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন ভেঙ্গে হতাশ হয়ে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন হালিম মিয়া।

এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে যায় করোনা ভাইরাসের মহামারী।অন্য সবার মতোই অনেকটা ঘরবন্দি অবস্থায় মোবাইল নিয়েই সময় কাটাতে বাধ্য হয়।ঘটনাক্রমে ইউটিউবে একদিন চায়না-৩ কমলা চাষের একটি ভিডিও দেখার পর বিষয়টা নিয়ে কথা বলেন বন্ধুর সঙ্গে।বন্ধুর উৎসাহ আর নিজের ইচ্ছায় চায়না-৩ কমলা চাষের সিদ্ধান্ত নেন।

২০১৯ সালে নিজস্ব পুকুরপাড়ে প্রায় তিন বিঘা জমিতে ২০০ টি চায়না-৩ রসালো মিস্টি জাতের কমলার চারাগাছ লাগিয়ে পরিচর্যা শুরু করেন তিনি।অবশেষে ২০২২সালে তার পরিচর্যা ও পরিশ্রমের কমলা বাগানের গাছে গাছে সফলতার ফুল আসে।ফুল থেকে সবুজ ফল ধীরেধীরে পরিপক্ব হয়ে হলুদ-কমলা রঙে ভরে যায় বাগানের গাছগুলো।স্থানীয় ফল ব্যাবসায়ীদের কাছে বাগান থেকে সংগ্রহ করা পাকা কমলা বিক্রি করেন প্রায় ৩ লক্ষ টাকার।হাসি ফোটে হালিম মিয়া ও তার পরিবারের মুখে।

এবছর পাঁকতে শুরু করেছে হালিম মিয়ার বাগানের চায়না-৩ জাতের মিষ্টি,রসালো সুস্বাদু কমলালেবু।ইতিমধ্যেই বিক্রি করেছেন লক্ষাধিক টাকার ফল।বাগানের গাছে থাকা অবশিষ্ট কমলাগুলো আানুমানিক ৪ চার লক্ষ টাকা বিক্রি করতে পারবেন বলে জানান তিনি।

কমলা চাষি আব্দুল হালিম বলেন, বিদেশ যেতে না পেয়ে প্রথমে হতাশ হলেও ইচ্ছাশক্তি ও পরিশ্রমের মাধ্যমে এখন আমি একজন কমলাচাষী সফল উদ্দোক্তা।আমার বাগানে স্থানীয় কয়েকজনের কর্মসংস্থানের ব্যাবস্থা করতে পেরেছি,এটা আমার কাছে ভালো লাগে।

তিনি জানান, কমলা পাহাড়ি ফল হলেও সমতলের এই এলাকার মাটিতেও ফলন ভালো।চায়না-৩ জাতের পাশাপাশি এখন তার বাগানে বারি-২, চায়না-খ্রি ও দার্জিলিং জাতের কমলা গাছ লাগিয়েছেন। বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন তার বাগান দেখতে ভিড় করছে লোকজন এবং অনেকের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।

এলাকাবাসী জানায়,এখানে কমলা চাষের কথা শুনে শুরুতে ফলন নিয়ে সংশয় ছিল কিন্তু গাছ ভর্তি পাকা কমলার ফলন বলে দেয় হালিমের সফলতার কথা। এখন এলাকার আরো অনেক আগ্রহীরা অনুপ্রাণিত হয়ে কমলা চাষের বিষয়ে হালিমের পরামর্শে কমলার চারা লাগাচ্ছে। বেকারত্ব কমছে এটা আমাদের এলাকার জন্যে ভালো।

এবিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ রেজা-ই-মাহমুদ বলেন,আমাদের পরামর্শ ও পর্যবেক্ষণে কমলা চাষ করে হালিম যে সফলতা দেখিয়েছে তা প্রশংসিত। কৃষি বিভাগের জন্যে এটি বড় সাফল্য। কৃষি বিভাগ হালিমসহ আরও যারা কমলা চাষে এগিয়ে আসছে এমন কমলা চাষীদেরকে কৃষি বিভাগ থেকে তথ্য,প্রযুক্তিসহ সার্বিক সহায়তা প্রদান করা হবে।