দুমকীতে চিকিৎসা না পাওয়ায় নারী উদ্যোক্তার স্বপ্নভঙ্গ.. | Daily AjKaler Kontho

দুমকীতে চিকিৎসা না পাওয়ায় নারী উদ্যোক্তার স্বপ্নভঙ্গ..


আজকালের কণ্ঠ প্রকাশের সময় : অগাস্ট ১৫, ২০২৩, ১২:১৯ অপরাহ্ন
দুমকীতে চিকিৎসা না পাওয়ায় নারী উদ্যোক্তার স্বপ্নভঙ্গ..

পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি : ইউটিউবে হাঁস পালনের ভিডিও স্বপ্ন নিয়ে হাঁসের খামার শুরু করলেও সেই স্বপ্ন ভেঙ্গে গেছে শিরিন আক্তার মিনু নামের এক নারী উদ্যোক্তার। স্থানীয় ফার্মেসি থেকে ঔষধ এনে খাওয়ালেও এ খামারির প্রায় ১শ’- দেড়শ’ হাঁসের মৃত্যুতে ক্ষতি হয়েছে লাখ টাকার ওপরে বলে জানিয়েছেন ওই খামারি।

জানা যায়, পটুয়াখালী জেলার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ১ ,২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্যা (সংরক্ষিত) শিরিন আক্তার মিনু গতবছর ইউটিউবে হাঁস পালন করে লাভবান হওয়া যায় এমন একটি ভিডিও দেখেন। এতে উৎসাহিত হয়ে গত দু’মাস আগে ৫৫ টাকা দরে যশোর থেকে অর্ডার করে ১হাজার খাঁকি ক্যাম্পবেল জাতের ১ দিনের বাচ্চা কেনেন। এতদিন ঠিকমতো খামার চললেও গত সপ্তাহে টানা বৃষ্টির কারণে হঠাৎ কিছু বাচ্চা ঝিমিয়ে পড়ে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর/পশু হাসপাতালে দ্বারস্থ হয়ে কোন পরামর্শ পাননি এ নারী উদ্যোক্তা।

গত শনিবার(১৪ আগস্ট) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ৭০-৮০ টি বাচ্চা মৃত পড়ে আছে। আর কিছু বাচ্চা ঝিমাচ্ছে। এছাড়াও ডক্সাসিল ভেট, অ্যাকটিভ বি-১২৬ কে, বোনাক্যাল-পি নামের কিছু ঔষধ পাশে পড়ে আছে।

নারী উদ্যোক্তা মিনু মেম্বার অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে একাধিক বার ধরনা দেয়ার পরও কর্তৃপক্ষ আমাকে কোন পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করে নি। বরং কয়েক দিন পরে আসেন বলে ঘুরিয়েছে তারা।

এছাড়াও উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের আদর্শ খামারি মো. হুমায়ুন কবির হাওলাদার ও মুরাদিয়া গ্রামের ৭নং ওয়ার্ডের শাহিন আলম (সিকদার ডেইরী ফার্ম), চরবয়েড়া গ্রামের খামারি সাইদ মৃধা, রাজাখালী গ্রামের বাসিন্দা মো. ইব্রাহীমসহ অনেক খামারি অভিযোগ করে জানান, উপজেলা পশু হাসপাতালে ভেটেরিনারী সার্জন না থাকায় কোন চিকিৎসা সেবা পাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে গ্রামগঞ্জের হাতুড়ে চিকিৎসকের ওপর ভরসা করতে হয়।

অভিযোগের সত্যতা আংশিক স্বীকার করে উপজেলা প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা(এলডিডিপি প্রকল্প) ডাঃ মো. মশিউর রহমান বলেন, জনবল সংকটে কাঙ্ক্ষিত সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না, তবে কেউ সেবা পায় না তা বলা যায় না।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি নিজেই মিনু’র খামারটি পরিদর্শন করবো। তাঁকে সকল পরামর্শ দেয়া হবে।বর্তমানে আমাদের এখানে ভ্যাকসিন সরবরাহ নেই। বাউফলে খোঁজ নিয়ে দেখা যেতে পারে।

পটুয়াখালী জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের দায়িত্বরত কর্মকর্তা ডাঃ মো. জামাল উদ্দিন বলেন, জনবল চেয়ে চাহিদাপত্র পাঠিয়েছি যথাযথ কর্তৃপক্ষ বরাবর পাঠানো হয়েছে।