বাগেরহট প্রতিনিধি : রামপার বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মান নিয়ে সুন্দরবন রক্ষায় জাতিসংঘের ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ ফাইন্ডেশনসহ দেশী-বিদেশী পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর উৎকণ্ঠার মধ্যে এবার সুন্দরবনের কোল ঘেষে বাগেরহাটের মোংলায় বেসরকারী উদ্যোগে নির্মাণ করা হচ্ছে ফার্নেস অয়েল ভিত্তিক নতুন একাট বিদ্যুৎ কেন্দ্র। সুন্দরবনের পরিতিবেশগত সংকটাপন্ন ১০ কিলোমিটার ইসিএ ভূক্ত এলাকার মাত্র ৫ কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলে ৭ একর জমির উপর পাওয়ারপ্যাক নামে ১০০ মেগাওয়ার্ট এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির অবকাঠামো নির্মাণ কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার বলেছেন, মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মানে কোন পরিবেশগত ছাড়পত্র দেয়া হয়নি। তবে, এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট (ইআইএ) রির্পোট ও পরিবেশগত ছাড়পত্র পেয়েছে দাবী নির্মানাধীন পাওয়ারপ্যাক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্র্তৃপক্ষ। এদিকে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর বলছে, বিদুৎ কেন্দ্রটি নির্মান হলে আবারো সুন্দরবনের ‘শেলা ট্রাজিডি”র সৃষ্টি হবে। অস্বিত্ব সংকটে পড়বে বাংলাদেশের ফুসফুস সুন্দরবন। তারা দাবী জানিয়েছেন বিদুৎ কেন্দ্রটি সুন্দরবনের ইসিএভূক্ত এলাকা থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার। ‘দেশের অক্সিজেনের ভান্ডার’ ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সাইড ৬ হাজার ১৭ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের সুন্দরবনের প্রান-প্রকৃতির জীবন্ত হুমকি হচ্ছে ফানের্স অয়েল। দেশের সর্বমোট বনাঞ্চলের ৫১ ভাগই হচ্ছে সুন্দরবন। ২০১৪ সালের ৯ডিসেম্বর মোংলার অদুরে সুন্দরবনের শেলা নদীতে ৩ লাখ টন ফার্নেস অয়েল নিয়ে ডুবে যায় ‘সাইার্ন স্টার- ৭ নামের একটি অয়েল ট্যাঙ্কার। দিনে দু,বার জোয়ারের পানিতে প্লাবিত বিশে^র বৃহত্তম এই ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনের কয়েক লাখ হেক্টর বনভূমির গাছের শ^াসমূলসহ নদী-খালে ছড়িয়ে পড়ে ফার্নেস অয়েল। অস্তিত্ব সংকটে পড়ে সুন্দরী, গেওয়া, গরান, পশুরসহ ৩৩৪ প্রজাতির উদ্ভিদরাজি, ‘বিলুপ্ত প্রাজাতির ইরাবতীসহ ৬ প্রজাতির ডলফিন, রয়েল বেঙ্গল টাইগার, হরিণসহ ৩৭৫ প্রজাতির বন্যপ্রানী ও ২৯২ প্রজাতির মৎস্য সম্পদ। তখন সুন্দরবনকে বাঁচাতে খোদ জাতিসংঘের ২৫ সদস্যের বিশেষজ্ঞ দলকে ছুটে আসতে হয় সুন্দরবনে। সুন্দরবনে ফার্নেস অয়েল ছড়িয়ে পড়ার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কয়েক বছর সময় লেগেছে। এখন ম্যানগ্রেভ এই বনের পশুর চ্যানেল দিয়ে অয়েল ট্যাঙ্কারে করে ফার্নেস অয়েল এনে সুন্দরবন সন্নিহিত মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলে চালানো হবে বিদ্যুৎ কেন্দ্র। সুন্দরবনের ইসিএ ভূক্ত এলাকার মাত্র ৫ কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে ফার্নেস অয়েল ভিত্তিক ১০০ মেগাওয়ার্ট বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মানের খবরে শুধু পরিবেশবাদিরাই নয়, সাধারন মানুষের মধ্যেও সুন্দরবনের প্রান-প্রকৃতি নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
আজকালের কন্ঠ /সওকাত /মিজান
আপনার মতামত লিখুন :