
শরীয়তপুরে ভেদরগঞ্জ উপজেলার আরশি নগর ইউনিয়নে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে কোটি টাকার সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে সহোদর ভাইদের বিরুদ্ধে। সখিপুরের কামরুজ্জামান ওরফে খোকন সরকার ও তার সহযোগী সোহেল সরকার, দাদন সরকার, নোয়াব আলি সরকার এর বিরুদ্ধে আপন বড় ভাই সেলিম সরকার (৭০) ও বুলবুল সরকার (৬৫) তাদের কেনা নিলামকৃত কোটি টাকার জমি আত্মসাৎ করার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। এ অভিযোগে সম্প্রতি আদালতে মামালা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী সেলিম সরকার ও বুলবুল সরকার। এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ১৯৭৯ সনে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার চরমহিষখালী গ্রামের আবুল কাশেম সরকার এর পুত্র সেলিম সরকার ও বুলবুল সরকার নিলাম খরিদের মাধ্যমে চর মহিষখালী মৌজার ১২৭৭নং খাতিয়ানের এসএ ৪৫৮৬ নং দাগে ৫ একর ৭১ শতাংশ সম্পত্তি নিলাম খরিদ করে। এরপর থেকে সেলিম সরকার গং ঐ জমি ভোগ দখল করে আসছে। সম্প্রতি বুলবুল সরকার অসুস্থ্য হয়ে ঢাকায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কামরুজ্জামান ওরফে খোকন সরকার সালিশের মাধ্যমে বুলবুল সরকারের মেয়ে তানিয়াকে বলেন – ” তোদের বাবা আমাদের কাছে জমি-জমা বিক্রি করে দিছে ” এমন অবান্তর কথা শুনে পরিবারের সদস্যরা বিস্মিত হয়ে পরেন। তানিয়া বলেন, আমর বাবা জমি বিক্রি করে নাই। এমন হলে অবশ্যই আমরা জানতাম। যদি জেঠা বাবা জমি বিক্রি করে থাকে তাহলে দলিল দেখান ? তখন তারা বুলবুল সরকারের সহোদর ৩ ভাইকে ৩ একর ৫ শতাংশ জমি দানপত্র দলিলের মাধ্যমে দান করেছে- এমন একটি দলিল দেখান।
একটু সুস্থ্য হওয়ার তানিয়া বিষয়টি তার বাবা বুলবুল সরকারকে জানায়। বুলবুল সরকার তার ভাইদের প্রদর্শিত দলিল সর্ম্পকে খোঁজ খবর নেয়া শুরু করে। সাব-রেজিষ্ট্রার কার্যালয়ের ভলিউমের সাথে তার ভাইদের প্রদর্শিত দানপত্র দলিলটি মিলাতে গিয়েই বিপত্তি বাধে। দেখা যায় ভলিউমের সাথে তাদের প্রদর্শিত দলিলের মিল নেই। পরে ওই দলিলের বিরুদ্ধে বুলবুল সরকার আদালতে একটি জালিয়াতি মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকে বুলবুল সরকারের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা ও হয়রানি মুলক মামলা দিচ্ছে প্রতিপক্ষরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বুলবুল সরকারের দায়েরকৃত ১৪৪ ধারার মামলায় খোকন সরকার গং দের দখলকৃত জমি আদালতের নিষেধাজ্ঞা জারী থাকার পরও জোর পূর্বক ভাবে চাষাবাদ অব্যাহত রেখেছে। এ বিষয়ে স্থানীয় সখিপুর থানায় মৌখিক ভাবে জানালেও অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে থানা কর্তৃপক্ষের সাড়া পাওয়া যায় নাই।
বুলবুল সরকার অভিযোগ করে বলেন যে, অভিযুক্ত খোকন সরকার একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে স্থানীয় তহশিল অফিসের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ভূয়া দলিল ও অবৈধ মিউটেশন চেক দাখিলা প্রস্তুত করেছেন। এখন তারা পেশিশক্তি ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ওই জমি অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
কামরুজ্জামান খোকন সরকার বলেন, আমাদের কাছে ৩০৫ শতাংশ জমি বুলবুল সরদার বিক্রি করছে। তাই আমরা ভোগ করতেছি। আর এ বিষয় পাল্টা পাল্টি মামলা চলমান। আর আমরা কোন জাল দলিল তৈরি করিনি।
আপনার মতামত লিখুন :