
পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেছেন, রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন বরাদ্দ ও সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারি দল ও বিরোধী দলের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে কোনো বৈষম্য থাকা উচিত নয়। সংস্কার বাস্তবায়িত হলে এমন বৈষম্যের সুযোগ থাকার কথা নয়।
তিনি বলেন, জনগণ কোনো জনপ্রতিনিধিকে শুধু তিনি সরকারি দল নাকি বিরোধী দলের—এ পরিচয় দেখে ভোট দেয় না। জনগণ একজন জনপ্রতিনিধিকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে। তাই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় বরাদ্দে বৈষম্য করা হলে তা জনগণের সঙ্গে বৈষম্যের শামিল।
ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, “কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকারি দলের একজন এমপি যদি এক কোটি টাকা বরাদ্দ পান, সেখানে বিরোধী দলের এমপিকে দেওয়া হয় মাত্র ২০ লাখ টাকা। প্রশ্ন হলো—আপনারা কি সরকারি দল বা বিরোধী দলকে ট্যাক্স দেন, নাকি রাষ্ট্রকে ট্যাক্স দেন? জনগণ রাষ্ট্রকে ট্যাক্স দিলে রাষ্ট্রীয় বরাদ্দের ক্ষেত্রে বৈষম্য কেন থাকবে?”
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালে বৈষম্যের বিরুদ্ধে মানুষ আন্দোলন করেছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা, উন্নয়ন বরাদ্দ ও নাগরিক সেবার ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে ন্যায্যতা ও সমতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। প্রশাসনের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জনগণের বন্ধু হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে—এটাই প্রত্যাশা।
জনতার সেবক ডক্টর শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, থানার ওসি ভালো কাজ করতে চাইলেও ইউনিয়ন পর্যায়ে পুলিশের এসআই, এএসআইসহ দায়িত্বশীল কোনো কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অপরাধীদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা কিংবা অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, “অপরাধীর পক্ষ নেওয়া নয়—আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব হওয়া উচিত নিরপেক্ষভাবে সত্য উদঘাটন করা এবং অন্যায় প্রতিরোধকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।”
তিনি আরও বলেন, জনগণের বন্ধু হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে অন্যায়, জুলুম বা হয়রানির অভিযোগ যেন না ওঠে, সে বিষয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সব জনপ্রতিনিধির জন্য রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ও উন্নয়ন বরাদ্দের ক্ষেত্রে ন্যায্যতা নিশ্চিত করা জরুরি। একইভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও দলীয় বা ব্যক্তিগত প্রভাবের বাইরে থেকে আইনের ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তার বক্তব্যের মূল বার্তা—রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও নাগরিক অধিকার কোনো দল বা গোষ্ঠীর জন্য নয়; জনগণের করের অর্থে পরিচালিত রাষ্ট্রে প্রত্যেক নির্বাচিত এলাকার মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :