
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার ৩ নম্বর নয়াপাড়া ইউনিয়নে শুরু হয়েছে নির্বাচনী তোড়জোড়। তফসিল ঘোষণা না হলেও সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের তৎপরতায় ইতোমধ্যে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী আমেজ তৈরি হয়েছে। চায়ের আড্ডা থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লায় চলছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা।
নয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যে পাঁচজন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রকাশ্যে নিজেদের প্রার্থিতার কথা জানিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান মুহাম্মদ কফিল উদ্দিন, বিএনপির তিন নেতা মো. মনসুর আলম, মো. আনছার আহমদ ও আনোয়ারুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুরাদুল ইসলাম মুরাদ।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে বর্তমান চেয়ারম্যান
নির্বাচনী মাঠে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান মুহাম্মদ কফিল উদ্দিন। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
২০২১ সালের ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে তাঁর রাজনৈতিক ও সামাজিক যোগাযোগকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী মাঠে তাঁর অবস্থান নিয়ে আলোচনা রয়েছে।
বিএনপিতে একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী: নয়াপাড়া ইউনিয়নে বিএনপির পক্ষ থেকে চেয়ারম্যান পদে একাধিক নেতা প্রার্থিতার ঘোষণা দেওয়ায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।
সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন আলীকদম উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মনসুর আলম, সাবেক সহ সভাপতি মো. আনছার আহমদ এবং উপজেলা বিএনপির নেতা ও বর্তমান ইউপি সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম।
মো. মনসুর আলম বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত ও সমর্থন পেলে তিনি চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে প্রস্তুত। তাঁর ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ি-বাঙালিসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কাজ করেছেন। দলের বিভিন্ন সংকটময় সময়েও আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন। সুযোগ পেলে নয়াপাড়া ইউনিয়নকে আধুনিক ও মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
অন্যদিকে মো. আনছার আহমদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে মাঠে কাজ করছেন। সাম্প্রতিক বন্যার সময়ও দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে মানুষের পাশে ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। দল তাঁর সাংগঠনিক তৎপরতা ও মাঠের অবস্থান বিবেচনা করে সমর্থন দেবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
সম্ভাব্য প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, নয়াপাড়া ইউনিয়ন গঠনের আগে চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে নয়াপাড়া ইউনিয়ন গঠনের পর চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনও করেছিলেন। এবার দলীয় সমর্থন পেলে এবং এলাকাবাসীর সহযোগিতা থাকলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুত বলে জানান।
জামায়াতের প্রার্থী মুরাদুল ইসলাম: এদিকে নির্বাচনী সমীকরণে রয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মুরাদুল ইসলাম মুরাদ। তিনি নয়াপাড়া ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
জামায়াতের পক্ষ থেকে তাকে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী করার পর দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীরা সাংগঠনিক কার্যক্রম ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। তাঁর প্রার্থিতা ঘোষণার পর নির্বাচনী মাঠে দলটির তৎপরতাও আলোচনায় এসেছে।
দলীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় বিএনপির তিন প্রার্থী
নয়াপাড়া ইউনিয়নে বিএনপির তিন নেতার প্রার্থিতার ঘোষণা দেওয়ায় দলীয়ভাবে শেষ পর্যন্ত কাকে সমর্থন দেওয়া হবে, তা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তিন প্রার্থীর অনুসারীরাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয়ভাবে নিজেদের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন।
তবে দলীয় সিদ্ধান্তের আগে এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে শেষ পর্যন্ত কে দলীয় সমর্থন পান, সেটিই এখন স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনার অন্যতম বিষয়।
সুষ্ঠু পরিবেশ চান ভোটাররা: স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রার্থীদের আগাম তৎপরতায় ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচন নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের রাজনৈতিক পরিচয় ও স্থানীয় পর্যায়ের কর্মকাণ্ড নিয়েও চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।
ভোটাররা বলছেন, তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনী প্রচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলে পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে। তারা একটি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণের প্রত্যাশা করছেন।
তফসিল ঘোষণার আগে সম্ভাব্য প্রার্থীদের এই তৎপরতার পর নির্বাচন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলে নয়াপাড়া ইউনিয়নের প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র কী দাঁড়ায়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :