
দিনাজপুর সদর উপজেলার মুরাদপুর হাজীপাড়া এলাকায় এক নারীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, মারধর এবং স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মোছাঃ কানিজ ফাতেমা (৪৩) বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০/১২ জনের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করেছেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তদের মধ্যে মোছাঃ রুখসানা পারভীন (৩০) বাদীর প্রতিবেশী এবং অপর দুই অভিযুক্ত মোঃ রফিকুল ইসলাম (৪০) ও মোঃ আসাদুজ্জামান (৩৭) রুখসানার ভাই। হাঁস বাড়ির উঠানে প্রবেশ করাকে কেন্দ্র করে রুখসানা পারভীনের সঙ্গে কানিজ ফাতেমার কথা-কাটাকাটি ও বিরোধের সৃষ্টি হয় বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।
বাদীর অভিযোগ, গত ১৪ আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে রুখসানা পারভীনের মোবাইল ফোনে খবর পেয়ে রফিকুল ইসলাম, আসাদুজ্জামানসহ অজ্ঞাতনামা ১০/১২ জন ব্যক্তি লোহার রড, লাঠি-সোঠা নিয়ে কানিজ ফাতেমার বাড়িতে প্রবেশ করেন। তারা বাড়ির বাইরের টিনের ঘেরাবেড়া ভাঙচুর করে এবং বাধা দিতে গেলে কানিজ ফাতেমাকে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, হামলাকারীরা বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে দুটি ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর ও তছনছ করে। এতে প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
কানিজ ফাতেমার অভিযোগ, হামলাকারীরা তার শোয়ার ঘরে প্রবেশ করে কাঠের শোকেসের ড্রয়ার ভেঙে কাপড়ের মধ্যে রাখা ১০ আনা ওজনের সোনার কানের ঝুমকা, ৬ আনা ওজনের সোনার বালা এবং ৮ আনা ওজনের সোনার চেন নিয়ে যায়। এসব স্বর্ণালংকারের আনুমানিক মূল্য ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া বাড়ি নির্মাণের কাজে ব্যবহারের জন্য রাখা ৩ লাখ ৩৬ হাজার টাকা থেকেও নগদ ২ লাখ, ১ লাখ এবং ৩৬ হাজার টাকাসহ মোট ৩ লাখ ৩৬ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় বাদীর চিৎকার শুনে স্থানীয় মোঃ মোসলেম আলী, মোছাঃ সুলতানা বেগম, মোঃ মন্টু ইসলাম ও মোছাঃ তোরাপন বেগমসহ স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে হামলাকারীদের হাত থেকে রক্ষা করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় অভিযুক্তরা বাদী ও তার স্বামী-সন্তানদের খুন ও জখম করার হুমকি দিয়ে চলে যায়।
পরে খবর পেয়ে কানিজ ফাতেমার স্বামী মোঃ আমিনুল ইসলাম বাড়িতে এসে তাকে আহত অবস্থায় দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর অভিযুক্তদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করে এজাহার দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে বাদী উল্লেখ করেছেন।
এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় এজাহার গ্রহণ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন কানিজ ফাতেমা।তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য এবং পুলিশের তদন্তে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও লুট হওয়া মালামালের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।
আজকালের কন্ঠ/আর এস
আপনার মতামত লিখুন :