মুন হসপিটালে দুই দফা অস্ত্রোপচারের পর রোগীর মৃত্যু, স্বজনদের অবহেলার অভিযোগ | Daily AjKaler Kontho

মুন হসপিটালে দুই দফা অস্ত্রোপচারের পর রোগীর মৃত্যু, স্বজনদের অবহেলার অভিযোগ


কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি : প্রকাশের সময় : অগাস্ট ১৬, ২০২৬, ৪:২৬ অপরাহ্ন
মুন হসপিটালে দুই দফা অস্ত্রোপচারের পর রোগীর মৃত্যু, স্বজনদের অবহেলার অভিযোগ

কুমিল্লা নগরীর মুন হসপিটালে পেট ব্যথা নিয়ে ভর্তি হওয়ার পর দুই দফা অস্ত্রোপচারের পর মোবারক হোসেন (৫৫) নামে এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসকদের ভুল সিদ্ধান্ত ও যথাযথ চিকিৎসার অভাবে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে চিকিৎসকের দাবি, পরবর্তী সময়ে খাদ্যনালীতে সংক্রমণ দেখা দেওয়ায় দ্বিতীয় দফায় অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে।

রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে মুন হসপিটালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোবারক হোসেনের মৃত্যু হয়। তিনি কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ধামতি ইউনিয়নের দক্ষিণখার এলাকার মৃত আবদুল মালেকের ছেলে।

স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ২৫ জুলাই পেট ব্যথা নিয়ে মোবারক হোসেনকে মুন হসপিটালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ২৮ জুলাই তার পিত্তথলীর অস্ত্রোপচার করা হয়। তবে অস্ত্রোপচারের পরও পেটের ব্যথা না কমায় চিকিৎসকরা জানান, তার অন্ত্রে প্যাঁচ লেগেছে। এরপর গত ১০ আগস্ট তাকে আবার অস্ত্রোপচার করা হয়।

দুই দফা অস্ত্রোপচারের পর মোবারক হোসেনকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে তাকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই তার মৃত্যু হয় বলে জানান স্বজনরা। এ সময় দায়িত্বে থাকা ডিউটি চিকিৎসক চলে যান বলেও অভিযোগ করেন তারা।

স্বজনদের দাবি, প্রথম অস্ত্রোপচারের জন্য প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা এবং দ্বিতীয় অস্ত্রোপচারের জন্য প্রায় ১ লাখ ৮৬ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে।ধামতি ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ইব্রাহিম খলিল বলেন, তার পরামর্শে মোবারক হোসেনকে মুন হসপিটালে ভর্তি করা হয়েছিল। ইমার্জেন্সিতে ভর্তির পর এক্স-রে ও সিভিসি পরীক্ষা করা হয়। রক্তে ইনফেকশন থাকার বিষয়টি জানার পরও অস্ত্রোপচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ইব্রাহিম খলিল বলেন, “১০ দিনের মধ্যে দুইবার অপারেশন করা হয়েছে। আমি মনে করি, সঠিক চিকিৎসা না পাওয়ার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আমি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও মুন হসপিটাল কর্তৃপক্ষকে দায়ী করছি।”

অভিযোগের বিষয়ে মুন হসপিটালের সার্জন ডা. সোহেল বলেন, তিনি সুনামগঞ্জ থেকে গিয়ে প্রতি বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার মুন হসপিটালে রোগী দেখেন। মোবারক হোসেনের প্রথমে পিত্তথলীর অস্ত্রোপচার করা হয়। পরে খাদ্যনালীতে অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে।

ডা. সোহেল বলেন, “প্রথমবার পেটের ব্যথার জন্য পিত্তথলীতে অপারেশন করা হলেও তখন খাদ্যনালীতে কোনো সমস্যা দেখা যায়নি। পরে রোগী আবার ব্যথার কথা জানালে ডা. আমিনুল ইসলাম পরীক্ষা করে খাদ্যনালীতে ইনফেকশন পান। এরপর আবার অপারেশন করা হয়।”

মৃতের ছেলে শিক্ষার্থী সজিব অভিযোগ করেন, প্রথম অস্ত্রোপচারের পরও ব্যথা না কমায় যথাযথভাবে রোগ নির্ণয় না করেই দ্বিতীয়বার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা ছিল কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মোহাম্মদ বশীর বলেন, “আমরা অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব। ভুল চিকিৎসার কারণে রোগীর মৃত্যু হয়ে থাকলে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আজকালের কন্ঠ/আর এস