
নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পাখী পল্লী ও মৎস্য অভয়ারণ্যটি বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। একসময়ের স্বচ্ছ জলের ধারা আর হাজারো পাখির কলকাকলিতে মুখরিত এই পর্যটন কেন্দ্রটি এখন বিষাক্ত বর্জ্য আর দুর্গন্ধে শ্রীহীন হয়ে পড়েছে। খালের পানি কুচকুচে কালো বর্ণ ধারণ করায় এবং চারদিকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় এখানে আসা পর্যটকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে চরম সংশয় দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাখী পল্লীর বুক চিরে বয়ে যাওয়া খালের পানি স্বাভাবিক স্বচ্ছতা হারিয়ে আলকাতরার মতো কালো হয়ে গেছে। পানিতে ভাসছে ময়লা-আবর্জনা। এক সময় যে খালে নানা প্রজাতির দেশি মাছের নিরাপদ আশ্রয় ছিল, দূষণের কারণে এখন সেখানে জলজ প্রাণীর টিকে থাকাই দায় হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওপরের দিকের বিভিন্ন কলকারখানার বর্জ্য এবং ড্রেনেজ লাইনের দূষিত পানি সরাসরি এই খালে এসে মিশছে।
প্রতিদিন এই পাখী পল্লী দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য পর্যটক ভিড় করেন। কিন্তু খালের পাশে দাঁড়ালেই নাকে আসছে অসহনীয় দুর্গন্ধ। দর্শনার্থীরা বলছেন, নির্মল বাতাসের আশায় এসে তারা উল্টো রোগাক্রান্ত হওয়ার ভয় পাচ্ছেন।
দুর্গন্ধে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করলে বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা এবং দীর্ঘমেয়াদে শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি বাড়ছে। দূষিত এই পানি থেকে মশা-মাছির উপদ্রব বেড়েছে চরমভাবে, যা ডেঙ্গু বা টাইফয়েডের মতো রোগ ছড়ানোর উৎস হতে পারে। পরিবার নিয়ে আসা দর্শনার্থীদের মধ্যে শিশুদের নিয়ে উদ্বেগ সবচেয়ে বেশি। দূষিত বাতাসের সংস্পর্শে শিশুদের অ্যালার্জি ও ফুসফুসের সমস্যা হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
মৎস্য কর্মকর্তা পলাশ চন্দ্র দেবনাথ বলেন মৎস্য অভয়াশ্রমের খালের পানি কালো হয়ে যাওয়া এবং দুর্গন্ধ ছড়ানোর প্রাথমিক কারণ হিসেবে আমরা কচুরিপানা বা দলপানা পচনের বিষয়টি ধারণা করছি। আমি বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছি এবং এখনই সরেজমিনে তদারকির ব্যবস্থা করছি। পানি পরিষ্কার করারর জন্য ব্লিচিং পাউডার বা চুন ছিটানো কার্যকর হবে কি না, তা যাচাই করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :