
এক মাসজুড়ে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে নিরন্তর লড়াই করে অবশেষে থেমে গেল ছোট্ট আয়মানের নিশ্বাস। হাম ও নিউমোনিয়ার ভয়াবহ আক্রমণে হার মানলো মাত্র সাড়ে ৬ মাস বয়সী এই নিষ্পাপ শিশু। তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবার ও এলাকাজুড়ে।
জানা গেছে, আয়মান পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার বাসিন্দা প্রবাসী আবু তালেবের সন্তান। বাবা সৌদি আরবে কর্মরত থাকায় মা লামিয়ার কোলে ছিল শিশুটির পুরো পৃথিবী।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ এপ্রিল গুরুতর অসুস্থ হয়ে আয়মানকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানান, সে সময় তার শরীরে হাম ও নিউমোনিয়ার সংক্রমণ ছিল। দিন দিন অবনতির দিকে যেতে থাকে তার শারীরিক অবস্থা।
পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার আশায় ২৮ এপ্রিল তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। ২৯ এপ্রিল ডেমরার মাতুয়াইল এলাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করে পিআইসিইউতে চিকিৎসা শুরু হয়। চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হলেও কাঙ্ক্ষিত উন্নতি দেখা যায়নি।
অবস্থা আরও খারাপ হলে ১ মে তাকে মহাখালীর ডিএনসিসি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু ততক্ষণে সংক্রমণ শরীরে গভীরভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ২ মে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।
সবশেষে ৩ মে রাত পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর একটি নবজাতক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে আয়মান। দীর্ঘ এক মাসের লড়াইয়ে পরাজিত হয়ে চিরবিদায় নেয় সে।
স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে হাসপাতালের পরিবেশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুটির জন্য বারবার দোয়া চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে না ফেরার দেশে চলে যায় ছোট্ট আয়মান।
স্থানীয়দের মতে, হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ হওয়া সত্ত্বেও এভাবে শিশুমৃত্যু উদ্বেগজনক। তারা সময়মতো টিকাদান ও সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ছোট্ট আয়মানের চলে যাওয়া যেন একটি পরিবারের সব স্বপ্নকে থামিয়ে দিয়েছে—নিঃশব্দে, নিঃশেষে।
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :