
লক্ষ্মীপুর জেলাজুড়ে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। জেলার কমলনগর, রামগঞ্জ, রামগতি, রায়পুর ও সদর উপজেলাসহ প্রায় সব এলাকায় পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের অভাবে জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।পাম্পে তেল নেই, সীমিত সরবরাহ জেলার অধিকাংশ পেট্রোল পাম্পে তেলের সরবরাহ বন্ধ বা অত্যন্ত সীমিত হয়ে পড়েছে।
কোথাও কোথাও অল্প সময়ের জন্য সামান্য তেল বিক্রি করা হলেও দিনের বাকি সময় তেল পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।অনেক পাম্পে স্টক শূন্য থাকায় যানবাহন চালকদের দূর-দূরান্তে ঘুরেও তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ফিরছেন খালি হাতে যেসব পাম্পে সামান্য তেল পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক চালক তেল পাচ্ছেন না।একজন ট্রাকচালক জানান, “বাজারে তেল নেই, প্রতিদিন দূরে গিয়ে খুঁজতে হচ্ছে।”
আরেকজন মোটরসাইকেল চালক বলেন, “৪–৫ কিলোমিটার ঘুরেও তেল পাওয়া যায় না, অনেক সময় খালি হাতেই ফিরতে হয়।”দ্বিগুণ দামে তেল বিক্রি, সিন্ডিকেটের অভিযোগ সংকটের সুযোগ নিয়ে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
কমলনগরের বিভিন্ন এলাকায় প্রতি লিটার অকটেন প্রায় দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে, যা সরকার নির্ধারিত দামের তুলনায় অনেক বেশি।স্থানীয়দের দাবি, একটি সিন্ডিকেট এ কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ করছে এবং প্রশাসনের তদারকি না থাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে।
উত্তেজনা ও অপ্রীতিকর ঘটনা তেল না পাওয়া ও অতিরিক্ত দামের কারণে বিভিন্ন স্থানে ক্রেতা ও পাম্পকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ও বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হচ্ছে। কিছু এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের হয়রানির অভিযোগও উঠেছে।
পরিবহন ও ব্যবসায় প্রভাব তেল সংকটের কারণে— যানবাহন চলাচল কমে গেছে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে এতে করে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন!স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের দৃশ্যমান তৎপরতা না থাকায় সংকট নিরসনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। ফলে জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে।
আজকালের কন্ঠ/আর এস
আপনার মতামত লিখুন :