
বরিশাল-দুমকি জেলা মহাসড়ক সংলগ্ন কীর্তনখোলার পূর্ব তীরে চরকাউয়া খেয়াঘাট থেকে পাকা সড়কটি শুরু হয়েছে। এই জেলা মহাসড়কটি বাকেরগঞ্জ উপজেলার প্রাণকেন্দ্র থেকে বয়ে গিয়ে সংযোগ হয়েছে পটুয়াখালী জেলার দুমকি উপজেলার সাথে। এক যুগের বেশি সময় ধরে পান্ডব নদীর অব্যাহত ভাঙ্গন ওস্থায়ীভাবে সংস্কার না করায় এখন বাকেরগঞ্জের কবাই লঞ্চঘাটসংলগ্ন অংশ ইতোমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে। দিন যত যাচ্ছে সড়কটি তত বিলীন হচ্ছে। দ্রুত উদ্যোগ না নিলে সড়কটির প্রায় এক কিলোমিটার নদীতে হারিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা স্থানীয় বাসিন্দাদের।
সরেজমিনে দেখা যায়, জেলা মহাসড়কের কবাই ইউনিয়নের পেয়ারপুর বাজারে পৌঁছার পর বাঁয়ে বাঁক নেওয়া অংশটি চলে গেছে বাউফল উপজেলাগামী ডিসি রোড খেয়াঘাটমুখী। সোজা সড়কটি পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় গিয়ে শেষ হয়েছে। বরিশাল সদর ও বাকেরগঞ্জ উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন সহ দুমকি উপজেলার মানুষ সংক্ষিপ্ত পথে এই সড়ক ব্যবহার করেন। প্রায় পাঁচ বছর ধরে আধা কিলোমিটার পিচ ঢালাই সড়কের অংশ পান্ডব নদীতে ধসে পড়েছে। ধসে যাওয়া সড়কের পাশে চলাচলের জন্য বিকল্প সড়ক হিসেবে মাটির তৈরি একটি রাস্তা তৈরি করলেও তা এখন নতুন করে ভাঙনের মুখে। সড়কটি এই অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় সড়কে দিয়ে ভারি যানবহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
এছাড়াও বরিশার – দুমকি এই জেলা মহাসড়কের চরাদী ও দুধল ইউনিয়নের গোমা পয়েন্টে রাঙ্গামাটি নদীর উপর নির্মাণ করা হচ্ছে গোমা সেতু। সেতুটি আগামী বছরের মার্চ মাসে উদ্বোধন হবে বলে জানিয়েছে সড়ক জনপদ বিভাগ। সেতুটি উদ্বোধন হলে এই সড়কে যানবাহনের সংখ্যা বেড়ে যাবে কয়েক গুণ বেশি। এরই মধ্যে পান্ডব নদীতে ভেঙে যাওয়া সড়কের অংশ সংস্কার করা না হলে যানবাহন চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হবে।
নলুয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মাসুদ খান জানান, জন গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের পেয়ারপুর লঞ্চঘাট সংলগ্ন প্রায় আধা কিলোমিটার সড়ক পাঁচ বছর ধরে ধ্বসে নদীতে পড়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সড়কটি সংস্কারের জন্য স্থায়ী কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। যে কারণে পুরোপুরি সড়কটি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটি সংস্কার করা না হলে দক্ষিণ অঞ্চলের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ।
এ বিষয়ে বরিশাল সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: নাজমুল ইসলাম বলেন, সড়ক জনপথ থেকে এর আগে সড়কের ভাঙ্গা স্থানের জিও ব্যাক ও ব্লক দেয়া হলেও সেটা স্থায়ী হয়নি। নতুন করে সড়ক নির্মাণ করতে হলে জমি অধিগ্রহণ করতে হবে। সেটা নিয়েও নানারকম জটিলতা রয়েছে। আর সেটা করতে গেলে সড়ক নির্মাণে দীর্ঘ সময় লাগবে। আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটি সংস্কার করার।
এ বিষয়ে বরিশাল পানি উন্নযন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: জাবেদ ইকবাল বলেন, জেলা মহাসড়কটি সওজের। যে কারণে সড়ক সংরক্ষণের দায়িত্ব ওই প্রতিষ্ঠানের। সড়ক জনপথ থেকে আমাদের একটি চিঠি দিলে আমরা সড়কটি সংস্কারের জন্য তাদেরকে ডিজাইন করে দিয়েছিলাম।
আজকালের কন্ঠ/আর এস/জে
আপনার মতামত লিখুন :