তিস্তার চরাঞ্চলগুলোতে আবারো দেখা দিয়েছে বন্যার শঙ্কা | Daily AjKaler Kontho

তিস্তার চরাঞ্চলগুলোতে আবারো দেখা দিয়েছে বন্যার শঙ্কা


‎‎জাহেদুল ইসলাম রতন, লালমনিরহাট প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : অক্টোবর ৬, ২০২৫, ৭:১৬ অপরাহ্ন
তিস্তার চরাঞ্চলগুলোতে আবারো দেখা দিয়েছে বন্যার শঙ্কা

গত কয়েক দিনের ভারি বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে তিস্তা নদীর পানি গতকাল বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল।ফলে, লালমনিরহাটের নিম্নাঞ্চল ইতিমধ্যেই প্লাবিত হয়েছে। চরাঞ্চলগুলোতে আবারো বন্যার শস্কা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিস্তা ব্যারাজ কর্তৃপক্ষ সতর্কতা জারি করেছে এবং ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে পানি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।

সোমবার(৬ অক্টোবর) সকাল ৯টায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, তিস্তার ডালিয়া ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় পানির সমতল ৫২.১২ সেন্টিমিটার, যা বিপদসীমার ৫২,১৫ সেন্টিমিটারের উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে (স্বাভাবিক ৩ সেন্টিমিটার)। এর পরে দুপুর ১২টায় বিপদসীমার পানির সমতল ৫২.০৫ মিটার (বিপদসীমা = ৫২.১৫ মিটার) যা বিপদসীমার ১০ সে.মি নিচে প্রবাহিত হতে দেখা গেছে।

নদীর পানি হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়ায় লালমনিরহাট জেলার নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলগুলোতে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যে জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী, লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, এবং আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। এসব এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এর ফলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এসব এলাকায় । আতংকে শত শত পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে গবাদি পশু নিয়ে।

জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়নের বাসিন্দা কৃষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘নদী পাড়ের ক্ষেতে পানি ঢুকছে। আমনের ফসলের অনেকাংশ পুষ্ট হচ্ছে। এই সময় ফসল ডুবলে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হতে হবে।’ আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের গোবর্ধন এলাকার বাসিন্দা রেজাউল করিম জানান, ‘পানি বাড়তে থাকলে আমাদের বাড়িঘরও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।’ একই রকম আতঙ্কে থাকার কথা জানিয়েছেন লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ পাকার মাথার কৃষক কাশেম। তিনি বলেন, ‘দুপুরের পর থেকে নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাতে পানি আরো বাড়লে আমনের ক্ষতি হবে। এছাড়া বন্যা আতঙ্ক তো রয়েছেই

‎বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ৫ অক্টোবর সকাল ৯টা থেকে ৬ অক্টোবর সকাল ৯টার মধ্যে দেশের অভ্যন্তরীণ অঞ্চল এবং উজানে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতেরর পারে। লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর ও কুড়িগ্রামের নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

‎লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার জানান, কয়েকদিন ধরে চলা ভারি বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা ঢলের প্রভাবে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটারের উপরেদিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। কিন্তু, এখন পনি বিপদসীমার নিচে চলে এসেছে। তার পরও নদীর তীরবর্তী এলাকায় বসবাসরত মানুষদের আগেভাগেই সতর্ক করে রাখা হয়েছে, যাতে তারা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে পারে। তিনি আরও বলেন, পানি কমে গেলে স্থানীয় এলাকায় বন্যার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। তবে এখনই সতর্ক থাকা জরুরি।

‎লালমনিরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. সাইখুল আরিফিন জানান, বর্তমানে তিস্তা নদীর তীরবর্তী এলাকায় ধান, বাদাম ও শাকসবজির চাষাবাদ চলার কারণে পানি বৃদ্ধি পেয়ে ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি পানি তিন থেকে চার দিন স্থায়ী হয়, তবে কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। তবে এক থেকে দুই দিনের মধ্যে পানি নেমে এলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা নেই। কর্তৃপক্ষ কৃষকদের সম্ভাব্য ক্ষতি কমানোর জন্য বিভিন্ন পরামর্শ ও সহায়তা প্রদানের চেষ্টা করছে।

‎স্থানীয় প্রশাসন ও ইউপি সদস্যরা নদীর তীরবর্তী এলাকায় বসবাসরত মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে জরুরি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে এবং বাজারে প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য ও পানীয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেই সাথে বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

‎লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি নিয়মিতভাবে উঁচু হলে নিম্নাঞ্চলে দ্রুত বন্যা দেখা দেয়। ২০১৭ সালের বন্যার মতো পরিস্থিতি পুনরায় ঘটতে পারে, তাই সকলকে সতর্ক থাকার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আজকালের কন্ঠ/আর বি/জে