
জাহেদুল ইসলাম রতন, লালমনিরহাট প্রতিনিধি : লালমনিরহাটে সোনালী আশঁ পাটের চেয়ে পাটকাঠির (সিন্ডা) চাহিদা অনেক বেশি। বাজারে পাট উঠলেও কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না কৃষকরা। শহর ও গ্রামে পাটকাঠির চাহিদা বেড়েই চলেছে। অনেকে সময় মুঠো হিসেবে আবার কেজি হিসেবে ফেরি করে পাটকাঠি বিক্রি করছেন একশ্রেণীর বিক্রেতারা।
জানা গেছে, পাটের পরিবেশবান্ধব বহুমাত্রিক ব্যবহার দিনের পর দিন বাড়ছে। বাংলাদেশের পরিবেশবান্ধব মনোভাব নিয়ে সচেতন ভূমিকায় পাটের তৈরি পণ্য ব্যবহার বাড়ছে।
চলতি বছর লালমনিরহাট সদর উপজেলা, আদিতমারী, কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলায় পাটের বাম্পার ফলন হলেও জাগ দেওয়া নিয়ে সমস্যায় পড়েন কৃষকরা। অনেক কষ্টে তারা পাট ঘরে তোলেন।
কিন্তু বাজারে দাম নেই সেই পাটের
হাট বাজারে প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে ১৯০০ থেকে ২২০০ টাকা দরে। একই মানের পাট গত বছর বিক্রি হয়েছে ৩০০০ থেকে ৩২০০ টাকা দরে। সেই হিসাবে এবারে পাট চাষিরা প্রতি মণে ১ হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে। তবে বাজারে পাটকাঠির ব্যাপক চাহিদা ও দাম ভাল থাকায় তার দাম দিয়ে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছর লালমনিরহাটে ৩ হাজার ৩শ ১৫ হেক্টর জমিতে পাট আবাদ হয়েছে। যা গত বছরের তুলুনায় অনেক কম।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, শহর ও গ্রামে পাটকাঠির চাহিদা রয়েছে। তাই পাটের দাম খুব একটা ভালো না পেলেও পাটকাঠির দাম বর্তমান এক মুঠো পাটকাঠি বিক্রি হচ্ছে ৮ থেকে ১০ টাকায়। আবার কেজি হিসেবে ১ কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় ফেরি করে পাটকাঠি বিক্রি করছেন একশ্রেণীর বিক্রেতারা।
এক সময়ে গ্রামে রান্নার কাজে ব্যবহৃত অন্যতম প্রধান জ্বালানি ছিল পাটখড়ি। এছাড়াও গ্রামাঞ্চলে ঘরের বেড়া, ঘর ও চালা নির্মাণে পাটখড়ি, ফসলের ক্ষেত, মাটির চুলায় রান্নায় পাটখড়ি, এই পাটখড়ি ছাইয়ের পানিতে কাপড় ধোয়া হতো। রান্নার জ্বালানি হিসেবে গ্রামের পাশাপাশি শহরের রয়েছে পাটখড়ির ব্যাপক চাহিদা।
পাটচাষী আঃ জলিল বলেন, পাটের আবাদ করে এবার লোকসান গুণতে হচ্ছে। পাটের মৌসুমে পানি সমস্যা। অনেক কষ্টে পাট ঘরে তোলার পর বাজারে ন্যায্য দাম পাওয়া যায় না। তাই পাট আবাদ কমিয়ে দিয়েছি। লোকসান হলেও যেটুকু আবাদ করছি, সেটুকু সাংসারিক প্রয়োজনে জ্বালানির জন্য পাটকাঠির দরকারে। গ্রাম-গঞ্জের রান্নার চুলা ধরাতে গেলে এই পাটকাঠি খুবই প্রয়োজন।
এ বিষয়ে লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মোঃ সাইখুল আরিফিন বলেন, আগে শুধু পাটকাঠি রান্নার কাজে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হতো। কিন্তু এখন পাটকাঠি দিয়ে ঘরও নির্মাণ, পার্টিক্যাল বোর্ড ও পাটকাঠি পুড়িয়ে এর ছাই দিয়ে কম্পিউটারের প্রিন্টিং মেশিনের কালি হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। এছাড়াও চারকল গুলোতে ব্যাপক হারে ব্যবহার হচ্ছে পাটখড়ি। অন্যদিকে পাটখড়ি পুড়িয়ে তার ছাই ব্যবহার হচ্ছে ফসলের ক্ষেতে। ফলে চাহিদাও বেড়েছে পাটকাঠির।
আজকালের কন্ঠ/আর বি/জে
আপনার মতামত লিখুন :