
গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি : আনোয়ার হোসেনের মাত্র একদিন আগেও বাবা-মায়ের সাথে কথা হয়েছিল। বাবা-মাকে বলেছিল কয়েকদিন পরই বাসায় তোমাদের সাথে দেখতে যাব। একটি দুর্ঘটনা সেই আশা ভেঙে গেছে বাবা খলিল হোসেনের পরিবারে। পরিবারের বড় ছেলে আনোয়ার হোসেন চাকুরীর সুবাদে স্ত্রী আঁখি আকতার, দুই বছরের একমাত্র শিশু কন্যা আন্নিকে নিয়ে ঢাকার ময়মনসিংহে বসবাস করতেন। গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গাজীপুর চৌরাস্তায় সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজনই নিহত হয়েছেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে একটি পরিবারের স্বপ্ন প্রদীপ যেন নিমিষেই নিভে গেছে।
স্থানীয়রা জানান, আনোয়ার হোসেন ময়মনসিংহে আরএফএল গ্রুপে ১২ বছর ধরে গাড়ি চালকের চাকরী করতেন। স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সকালে শ্বশুরবাড়ি ঢাকার আশুলিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথিমধ্যে গাজীপুরের চৌরাস্তা এলাকায় রিয়াজ ফিলিং স্টেশনের উত্তরে পৌঁছালে সিএনজির পেছনের চাকা খুলে যায়। পরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েন রাস্তার উপর উল্টে গেলে পিছন থেকে একটি কাভার্ডভ্যান এসে ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলেই মারা যায় শিশু আন্নি। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেয়ার পথে প্রাণ হারান আনোয়ার ও তার স্ত্রী আঁখি। নিহত আনোয়ারের বাবা খলিল হোসেন বলেন, “আমার ছেলে সংসারটা নিয়ে কত স্বপ্ন দেখতো। সবকিছু মুহূর্তে শেষ হয়ে গেলো। এখন আমাকে প্রতি মাসে সংসারের খরচ কে দিবে, কে বাবা বলে ডাকবে। ফুটফুটে নাতনীও আর দাদা বলে ডাকবে না। আমার বেঁচে থাকার অবলম্বন একেবারেই হারিয়ে গেলো। সবার কাছে তিনি তাদের জন্য দোয়া কামনা করেন।
গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একই পরিবারের তিন জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :