
ফারুকুর রাহমান, টেকনাফ : কক্সবাজারের টেকনাফে সীমান্তের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে মিয়ানমার থেকে অবিরত রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের পর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে না গিয়ে টেকনাফ উপজেলা ও পৌরসভার বিভিন্ন ভাড়া-ঘর নিয়ে বসবাস করতে শুরু করেছে নতুন রোহিঙ্গারা। তাদের সহযোগিতা করছে স্থানীয় কিছু অসাধু অর্থলোভী ভাড়া-ঘরের মালিক।
এ সময় অনুপ্রবেশ কালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়ে অনেকেই মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হলেও কিছু অসাধু দালাল চক্রের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করছে রোহিঙ্গারা।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বলেছেন আবারো যদি বাংলাদেশে এভাবে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করে আমরা সামাজিক, অর্থনৈতিক নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হব যেমন- মাদক, মানবপাচার, অপহরণ, খুন, গুম ইত্যাদি।
গত মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) টেকনাফ উপজেলা ও পৌরসভার বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বললে জানা যায়, তাঁরা ইতি মধ্যে ক্যাম্পে না গিয়ে বিভিন্ন ভাড়া-ঘর সহ কিছু স্থানীয়দের ছত্রছায়াতে বসবাস শুরু করে দিয়েছে।
এ বিষয়ে টেকনাফ পৌরসভার স্থানীয় বাসিন্দা কবীর আহমদ সহ আরো অনেকে বলেন, উপজেলা ও পৌরসভার মধ্যে নতুন রোহিঙ্গা এসে গ্রামে গ্রামে স্থানীয়দের ভাড়া-ঘর গুলো তে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছেন। তাদের টাকার বিনিময়ে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন কিছু স্থানীয় অসাধু বাড়ির মালিক। এদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিলে তাঁরা অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হয়ে অপরাধ মূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়ে স্থানীয়দের বিভিন্ন ক্ষয়ক্ষতি হবে। তাই দ্রুত সময়ের ঐ অসাধু দালাল ও বাড়ির মালিকদের গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি।
স্থানীয়রা আরো জানান, সাধারণত রোহিঙ্গাদের জন্য সরকার নিদিষ্ট ক্যাম্প তৈরি আশ্রয় দিয়েছিল। কিন্তু তারা সেখানেও , মাদক, অপহরণ থেকে শুরু করে নানান অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত হয়ে পড়ে। যার কারণে আমাদের অনেক স্থানীয়রা ক্ষয় ক্ষতিরও সম্মুখীন হয়েছি। তাই সীমান্তে প্রশাসনের আরো নজরদারি বাড়ানো সহ আমরা সকলের কাছে অনুরোধ রাখব দ্রুত সময়ের মধ্যে রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পে হস্তান্তর করা সহ ঐ অসাধু ভাড়াটিয়া বাড়ির মালিকদের আইনের আওতায় আনা।
টেকনাফে (২ বিজিবি) ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বিজিবি । তবে কিছু অসাধু দালাল চক্র অর্থের বিনিময়ে গভীর রাতে মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করাচ্ছে, তদন্ত পূর্বক তাদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আনা হবে এতে আপনাদের সহযোগিতা কামনা করছি। এবং সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও মো. আদনান চৌধুরি বলেন, নতুন করে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের কোন ধরনের বাড়ি ভাড়া ও সহযোগিতা না করার জন্য সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের আইনশৃঙ্খলা সভায় কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তা অমান্য করে যদি কেউ রোহিঙ্গাদের ঘর-ভাড়া দেয় উপযুক্ত তথ্য প্রমাণ হাতে পেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সাথে নিয়ে সে বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হবে । এতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সহ সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।
আপনার মতামত লিখুন :