
আমাদের দেশের মেয়েরা এখন আর ঘরের কোণে বসে নেই। তারা আজ স্কুলে যাচ্ছে, অফিসে কাজ করছে, ব্যবসা সামলাচ্ছে। কিন্তু যখনই নারীরা এগিয়ে যেতে শুরু করে, তখনই একদল মানুষ ধর্মের দোহাই দিয়ে তাদের টেনে ধরতে চায়। বিশেষ করে হেফাজতে ইসলামের মতো কট্টরপন্থী সংগঠনগুলো যেভাবে ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে নারীদের বাইরে কাজ করার বিরোধিতা করে, তা আমাদের সমাজের জন্য এক বড় দুশ্চিন্তার কারণ।
ধর্মের কাজ হলো মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোতে আনা। কিন্তু এই গোষ্ঠীগুলো ধর্মকে ব্যবহার করছে মানুষের মনে ভয় ঢোকাতে। তারা এমনভাবে বক্তব্য দেয় যেন নারী বাইরে বের হওয়া মানেই বড় কোনো পাপ। তাদের সেই বিতর্কিত ‘তেঁতুল তত্ত্বের’ কথা আমরা জানি, যেখানে নারীদের অত্যন্ত অপমানজনকভাবে তুচ্ছ করা হয়েছিল। তাদের মতে, নারীরা বাইরে কাজ করলে পুরুষরা বিপথে যায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, দোষ কি নারীর পদচারণায়, নাকি সেই সব মানুষের দৃষ্টিতে যারা নারীকে মানুষ হিসেবে সম্মান দিতে জানে না?
এই কট্টরপন্থীরা আসলে চায় নারীরা যেন সবসময় অন্যের ওপর নির্ভরশীল থাকুক। কারণ একজন নারী যখন শিক্ষিত হয় এবং নিজের পায়ে দাঁড়ায়, তখন সে আর কোনো অন্যায্য ফতোয়ার কাছে মাথা নত করে না। তারা ইসলামের দোহাই দিয়ে নারীদের ঘরে আটকে রাখতে চায়, অথচ ইসলামের ইতিহাসে আমরা দেখি বিবি খাদিজা (রা.) নিজে একজন বড় ব্যবসায়ী ছিলেন। তাহলে আজ কেন নারীদের কাজে বাধা দেওয়া হচ্ছে?
সবচেয়ে বিপদের কথা হলো, তাদের এই সব বক্তব্যের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ভুল ধারণা ছড়ায়। যখন কোনো বড় নেতা জনসভায় দাঁড়িয়ে বলেন যে মেয়েরা বাইরে গেলে সমাজ নষ্ট হয়, তখন বখাটেরা রাস্তায় মেয়েদের উত্ত্যক্ত করার সাহস পায়। কর্মজীবী নারীরা তখন আর নিজেদের নিরাপদ মনে করেন না। ফলে এই সমস্যাটি শুধু ধর্মের নয়, বরং নারী নিরাপত্তার এক বিশাল সংকটে পরিণত হয়।
আমরা কি চাই আমাদের দেশটা কয়েকশ বছর পেছনে ফিরে যাক? যে নারীরা দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখছেন, তাদের যদি ‘পাপের’ ভয় দেখিয়ে ঘরে বসিয়ে রাখা হয়, তবে আমাদের উন্নতি থমকে যাবে।
ধর্ম প্রগতির পথে বাধা নয়, বাধা হলো ধর্মের সেই ভুল ব্যাখ্যা যা মানুষকে ছোট করে দেখে। সময় এসেছে এই ধরনের কট্টর চিন্তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর। আমাদের মনে রাখতে হবে, একটি দেশ তখনই শক্তিশালী হয় যখন সেই দেশের নারী ও পুরুষ সমানভাবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার সুযোগ পায়। রাস্তাঘাট কিংবা কর্মস্থল, সব জায়গায় নারীর অবাধ ও নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিত করাই হোক আমাদের আজকের অঙ্গীকার।
আপনার মতামত লিখুন :