শিশুর ব্যক্তিত্বের সঠিক বিকাশে করণীয়


আজকালের কণ্ঠ প্রকাশের সময় : মে ১৩, ২০২৪, ৫:৫৬ অপরাহ্ন /
শিশুর ব্যক্তিত্বের সঠিক বিকাশে করণীয়

লাইফস্টাইল ডেস্ক : শিশুর শিক্ষা শুরু হয় বাড়ি থেকে। পরিবার বিশেষ করে বাবা-মা, দাদা-দাদি, নানা-নানি কিংবা চাচা-মামারা শিশুকে যেভাবে অন্যদের সঙ্গে কথা বলা কিংবা মেলামেশা শেখাবেন, সে সেভাবেই শিখবে। পরবর্তীতে স্কুলে যাওয়ার পর বন্ধু, সহপাঠী, শিক্ষক কিংবা স্কুলের পরিবেশ শিশুর ব্যক্তিত্ব গঠনে ভূমিকা রাখে। বেড়ে ওঠার এই সময়টা শিশুর ব্যক্তিত্বের সঠিক বিকাশের জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।

সন্তানকে একজন আত্মবিশ্বাসী মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চাইলে সন্তানের ব্যক্তিত্ব গঠনে বাবা-মা হিসেবে আপনাকেই নজর দিতে হবে শিশুর দিকে। আর তার জন্য আপনাকে কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে।

জেনে নিন বিষয়গুল:

একজন ভালো শ্রোতা হতে হবে : শিশুরা প্রচুর কথা বলে। তাদের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা বাবা-মায়ের সঙ্গে শেয়ার করতে ভালোবাসে তারা। শিশুদের বেশির ভাগ কথা বড়দের কাছে গুরুত্বপূর্ণ না হলেও তাদের কাছে কিন্তু জরুরি। এটা মনে রেখে অবশ্যই মনোযোগ দিয়ে শিশুর কথা শুনুন। বিরক্ত হবেন না। এতে শিশু কথা বলার সময় নিরাপদ বোধ করবে। এতে ভবিষ্যতে সে আত্মবিশ্বাসী হবে।

অন্য শিশুদের সঙ্গে তুলনা করবেন না : প্রতিটি শিশু আলাদা। কেউ গান ভালো পারে, কেউবা ভালো ছবি আঁকায়। শিশু যেটা ভালো পারে না সেটা নিয়ে অন্য শিশুদের সঙ্গে তুলনা করা বা তিরস্কার করা খুবই অনুচিত। বরং যেটাতে সে ভালো, সেটা নিয়ে ভূয়সী প্রশংসা করুন। যেটাতে ভালো না, সেটাতে আরও ভালো করার জন্য উৎসাহ দিন। এতে শিশু আত্মবিশ্বাসী ও সাহসী হবে।

শিশুর কাছে রোল মডেল হয়ে উঠুন : শিশুরা মা-বাবাকে দেখেই শেখে। এ ক্ষেত্রে আপনি পারেন আপনার শিশুকে ভালো শিক্ষা দিতে। কাজেই আপনি ওর সামনে যেমন আচরণ করবেন, শিশু তাই শিখবে। তাই শিশুর সামনে সবসময় নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করুন, ভালো কাজ করুন, যাতে আপনার শিশু বড় হয়ে তার বাবা-মায়ের মতোই হতে চায়।

ধীরে শুরু করুন : একদিনে সব শেখাতে যাবেন না। শুরুতে অল্প অল্প করে শেখান। ওর বয়স অনুযায়ী ওর নেওয়ার ক্ষমতাও আপনাকে বুঝতে হবে। আগে বুঝে নিন নিয়ম কানুন, আচরণগুলো ঠিক কতটা নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে শিশুর, এরপর আস্তে আস্তে করে শেখান। অতিরিক্ত চাপ দিলে মস্তিষ্কে প্রভাব পড়তে পারে, যা শিশুর বিকাশে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।

‘স্ক্রিন টাইম’ কমিয়ে দিন : শিশু যেন সারাক্ষণ মোবাইল বা গ্যাজেট হাতে পড়ে না থাকে। এতে শিশুর বুদ্ধিবৃত্তির সঠিক বিকাশ ব্যাহত হয় যা ভবিষ্যতে ব্যক্তিত্বের ওপর চরমভাবে আঘাত হানতে পারে। শিশুকে পর্যাপ্ত সময় দিন। গল্প করুন তার সঙ্গে। গল্পের বই পড়ে শোনান।

নিজের কাজ নিজে করার জন্য উৎসাহিত করুন : শিশুর সব কাজ নিজে করে দেবেন না। বরং খাওয়া, গোসল করা, ঘর গোছানোর মতো কাজ নিজে করতে উৎসাহিত করুন। এতে স্বাধীন ব্যক্তিত্বের অধিকারী হবে সে।

জাদুকরী শব্দ শেখান : ‘ধন্যবাদ’ ‘দুঃখিত’ এমন ছোট ছোট জাদুকরী শব্দ শেখান তাকে। এসব শব্দ কখন কোথায় ব্যবহার করতে হয় সেই শিক্ষাও দিন।

শান্তভাবে বলুন : অযথা রাগারাগি করবেন না। মাথা ঠান্ডা রেখে শেখান। যেহেতু বয়স অনেকটাই কম, সেক্ষেত্রে ব্যক্তিত্ব গঠনের গুরুত্ব ও বুঝে নাও উঠতে পারে। তাই ধৈর্য ধরুন। হাল ছাড়বেন না। অযথা রাগারাগি করলে শিশুর অকারণ জেদ চেপে যেতে পারে। এতে উল্টো প্রতিক্রিয়া হতে পারে।

পুরস্কার দিন : আপনার সন্তান যখন কোনো ভালো কাজ করবে বা কথা বলবে, তার বদলে তাকে পুরস্কার দিন, উৎসাহ দিন। এতে ওর মধ্যে ভালো কাজ করার আগ্রহ জন্মাবে। তবে খেয়াল রাখবেন, উপহার যেন অতি ব্যয়বহুল না হয়, এতে বিষয়টি নেশায় পরিণত হতে পারে।

অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলতে দিন : করোনা মহামারির কারণে এই প্রজন্মের শিশুরা গৃহবন্দি ছিল একটা বড় সময়ের জন্য। এতে তাদের মানসিক বিকাশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্কুলে খুলে যাওয়ার পর তাই শিশুকে আরেকটু বেশি খেলার সুযোগ দিন অন্য শিশুর সঙ্গে। এতে অন্যের সঙ্গে কোনো কিছু ভাগ করে নেওয়া, কেয়ার করা ইত্যাদি মানবিক গুণাবলি শিখবে শিশু।