বাবার হত্যাকারীদের গ্রেফতারের প্রতীক্ষায় প্রহর গুনছে বৃদ্ধা মা ও সন্তানেরা


আজকালের কণ্ঠ প্রকাশের সময় : মার্চ ২, ২০২৪, ১:২৬ অপরাহ্ন /
বাবার হত্যাকারীদের গ্রেফতারের প্রতীক্ষায় প্রহর গুনছে বৃদ্ধা মা ও সন্তানেরা

নেত্রকোণা প্রতিনিধি : নেত্রকোণার বারহাট্টায় মাহবুব হত্যার ৪ বছর পার হয়ে ৫ বছরে বাবার হত্যাকারীদের গ্রেফতারের প্রতিক্ষায় প্রহর গুনছে সন্তানেরা। ২০২০ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারী দিবাগত রাতে নিজ শয়নঘরে স্ত্রীর পরোকীয়া প্রেমের জেরে খুন হন মাহবুব আলম। ২৮ ফেব্রুয়ারী নিহত মাহবুবের স্ত্রী পুলিশের হাতে আটক হয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বামীর হত্যাকাণ্ডের সাথে নিজের জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূল ঘাতকদের নাম প্রকাশ করে বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেন।

সেই হত্যাকাণ্ডের ৪ বছরেও মাহবুব আলম হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতার করতে না পারলেও স্ত্রী স্বর্ণা আক্তারের দেওয়া জবানবন্দির আলোকে জেলা গোয়েন্দা সংস্থা (ডিবি) ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন না করেই প্রায় একই ধরনের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। বর্তমানে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিতে রয়েছে। নিহত মাহবুব হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন হবে? গ্রেফতার হবে হত্যাকারীরা এই প্রতিক্ষায় নিহত মাহবুবের তিন কন্যা ও বৃদ্ধা মা।

নি:সন্তান জমিলা আক্তার সুখের প্রত্যাশায় ২০ দিন বয়সী মাহবুব আলমকে অলিখিত দত্তক নিয়ে লালন-পালন করে পড়ালেখা করায়ে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার স্বর্ণা আক্তারকে বিয়ে করান। মাহবুব-স্বর্ণা দম্পত্তির সংসারে তিন কন্যা সন্তানের জন্ম হয় তাদের প্রথম সন্তান মাহী আক্তার, মুন আক্তার ও মীম আক্তার। মা জমিলা আক্তার নিজের কিছু সম্পত্তি ছিল বিক্রি করে ছেলে মাহবুবকে বিদেশ পাঠায়। সাড়ে ৬ বছর প্রবাস জীবন শেষে বাড়িতে ফিরে মাহবুব। এর মধ্যে স্ত্রী স্বর্ণা আক্তার জড়িয়ে পড়ে পরোকিয়া প্রেমে। স্বামীর উপার্জিত টাকা চলে যায় পরোকিয়া প্রেমিকের হাতে। দেশে এসে নি:স্ব হয়ে স্ত্রী, তিন কন্যা ও বিধবা মাকে নিয়ে আবার শুরু করেন নতুন করে জীবন যুদ্ধ। স্থানীয় বাজারে মুদির দোকান দিয়ে শুরু করে নতুন যুদ্ধ।

ঘটনার সময় পরোকিয়া প্রেমিকের সহযোগিতায় স্বামীকে খুন করে স্বর্ণা আক্তার জেলখানায় বসে নিরাপদেই আছেন আর বিধবা বৃদ্ধা জমিলা তিন নাতনিকে নিয়ে প্রতিনিয়তই শংকার মধ্যে অনাহারে অর্ধাহারে জীবন-যাপন করছেন করছেন বলে জানায় স্থানীয়রা।