
কাজী ইমরান, নড়াইল প্রতিনিধিঃ নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার মধুমতী নদীর পাড়ের করফা গ্রামে দানকৃত পৈতৃক ভিটায় আল হুদা মসজিদ উদ্বোধন করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।
মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪) সকাল ১০টায় সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ লোহাগড়ায় মধুমতি আর্মি ক্যাম্পের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে নড়াইল গমন করেন। এসময় তিনি পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প (পিবিআরএলপি) কর্তৃক নবনির্মিত নড়াইল রেলওয়ে স্টেশনের কাজের অগ্রগতি এবং বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করেন।
সেনাপ্রধান রেল প্রকল্পে কাজের অগ্রগতির প্রসংশাসহ সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, ভাঙ্গা টু বেনাপোল রেল প্রকল্পের কাজ ২০২৪ সালের জুন মাসে শেষের কথা থাকলেও সেটি ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে শেষ হবে বলে আশা ব্যক্ত করেন।
এছাড়া, তিনি ২৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন কর্তৃক রোড প্রশস্তকরণসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প পরিদর্শনপূর্বক প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা প্রদান করেন।
পাশাপাশি স্থানীয় গরীব ও দুস্থদের মাঝে কম্বল বিতরণ শেষে নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলাধীন করফায় ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের সম্মুখে নিজের দানকৃত পৈতৃক জমিতে স্থাপিত ‘আল হুদা মসজিদ’ উদ্বোধন করেন। এছাড়াও তিনি মল্লিকপুর ইউনিয়ন সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নবনির্মিত অধ্যাপক শেখ মোঃ রোকন উদ্দিন আহমেদ মাল্টিপারপাস হল উদ্বোধন করেন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে মতবিনিময় করেন।
মতবিনিময় সভায় সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ স্মৃতি চারন করে বলেন, লোহাগড়া উপজেলার করফা গ্রাম আমার বাপ-দাদার ভিটা। ১৯৭১ সালে আমি তখন ছোট ছিলাম, যুদ্ধের সময় আমাদের অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। ওই সময় যারা আমাদের পরিবারের পাশে ছিলেন তাদেরকে আমি ও আমার পরিবার কোন দিনই ভুলে যাবো না। উপজেলার করফা গ্রামে নবনির্মিত আল হুদা মসজিদের পাশে একটি মাদ্রাসা ও একটি কবরস্থান নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন সেনাপ্রধান। তিনি আরও বলেন, চাকরি থেকে অবসরে গেলেও শেকড়ের টানে বারবার লোহাগড়ার পৈতৃক ভিটায় তিনি ফিরে আসবেন।
এ সময় লোহাগড়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্যান্সারে আক্রান্ত ইংরেজি সহকারী শিক্ষক মোঃ ফরিদুল ইসলামকে চিকিৎসা বাবদ ৫০ হাজার টাকা প্রদান করেন। একই সময় তিনি লোহাগড়া উপজেলা থেকে মেডিকেল কলেজে ভর্তির সূযোগ পাওয়া ৬ জন দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে বিত্তি প্রদান করেন। সেনাপ্রধান ও তার পরিবার এলাকার উন্নয়নে সব সময় কাজ করে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন। এছাড়াও তিনি এবং তার পরিবার এলাকার দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার জন্য সব সময় সার্বিক সহযোগিতা করবেন বলেও ইচ্ছা পোষণ করেন।
এ সময় জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ৫৫ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার যশোর এরিয়া চীফ কনসালটেন্ট জেনারেল সেনাসদর, এডহক সিএসসি এবং চীফ কোঅর্ডিনেটর, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প, নড়াইলের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশফাকুল হক চৌধুরী, লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিমেষ বিশ্বাস, লোহাগড়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম হায়াতুজ্জামান হায়াত, লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাঞ্চন কুমার রায়, মল্লিকপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ সহিদুর রহমান সহিদসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাগণ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ উপস্থিত ছিলেন।
আপনার মতামত লিখুন :