ইতালির লিসা টাওয়ার খ্যাত ঐতিহাসিক গৌরনদীর মাহিলাড়া মঠ | Daily AjKaler Kontho

ইতালির লিসা টাওয়ার খ্যাত ঐতিহাসিক গৌরনদীর মাহিলাড়া মঠ


আজকালের কণ্ঠ প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ১৬, ২০২৪, ৩:২৩ অপরাহ্ন
ইতালির লিসা টাওয়ার খ্যাত ঐতিহাসিক গৌরনদীর মাহিলাড়া মঠ

গৌরনদী বরিশাল : একটি মঠ কে নিয়ে হাজারও জল্পনা-কল্পনা। রয়েছে ইতিহাস ঐতিহ্য। প্রায় দুই শত ৮৪ বছর আগের কথা। বলছি বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নের সরকার মঠের কথা ডাক নাম মাহিলাড়া। ইতিহাস থেকে জানা যায় যে মঠটি নবাব অলীবর্দি খানের (১৭৪০-১৭৫৬) শাসনামলে বানানো হয়েছিল। সরকার রূপ রাম দাশ গুপ্ত নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি এই মঠটি নির্মাণ করেছিলেন বলে জানা যায়। এটি মাহিলাড়া মঠ নামেও অনেকের কাছে পরিচিত। এই মঠটির সাথে ইটালির লিসা টাওয়ারের মিল রয়েছে বলে অনেকে অভিমত করেন।

স্থানীয়রা বলেছেন বর্তমানে এটি বাংলাদেশের মধ্যে সুন্দর মন্দির গুলোর মধ্যে অন্যতম। এই মঠ কে ঘিড়ে এখানে দুর্গা পূজা, নগর কীর্তন,অক্ষয় তৃতীয়ায় যজ্ঞ,রথযাত্রা সহনানা অনুষ্ঠান হয়। প্রথমে এটি জঙ্গল আবৃত ছিল। পরবর্তীতে শ্রী হরলাল গোসাম্বী এ স্থানের মাহাত্ম্য বুঝতে পারেন। তিনি ছিলেন নিগমান্দ সরস্বতীর শিষ্য। তিনি এখানে প্রথম সাধনা শুরু করেন। তবে লোক মুখে শোনা যায় এ স্থানের মাহাত্ম্য হল এখানে মঠ প্রতিষ্ঠার মার সমাধি স্থল। প্রতিষ্ঠাতা এই মঠ স্থাপন করে দম্ভের সহিত বলে, ” মা, তোমার সব ঋণ শোধ করে দিলাম”। বলার সাথে সাথে মঠ বেকে যায়। এতে সকলে ভয় পায়। কিন্তু শ্রী শ্রী হরলাল গোসাম্বী এর মূল ব্যাখা দেন। তার মতে, “মা এর ঋণ শোধ সম্ভব না। তাই, ভগবান তাকে এভাবে বুঝিয়েছেন”।প্রতিদিনই দুরদুরান্ত থেকে পর্যটকরা দেখতে আসছেন প্রত্নতত্ব অধিদপ্তর কর্তৃক স্বীকৃতি পাওয়া প্রাচীন নির্মান শিল্পের এ নিদর্শনটি। সরেজমিনে দেখা গেছে, বর্গাকারে নির্মিত মঠের ভিতরে একটি কক্ষ এবং পশ্চিমের দেয়ালে একটি খিলান যুক্ত প্রবেশ পথসহ নানান ধরনের অলংকরণ রয়েছে।

এছাড়াও মঠের ভিতরের কক্ষের দেয়ালে আড়াআড়ি ভাবে বাঁশের খুটি রয়েছে। ধারনা করা হচ্ছে বাঁশের খুটিখানা মঠ নির্মানের সময় ব্যবহৃত হয়েছিলো। মঠে কোন খোদিত শিলালিপি পাওয়া না গেলেও মঠের সামনে টানানো একটি ফলকে দেখা গেছে, নবাব আলীবর্দি খানের ১৭৪০-১৭৫৬ সনের শাসনামলে সরকার রুপরাম দাস গুপ্ত নামক এক ব্যক্তি মঠটি নির্মান করেন।

যার উচ্চতা ভূমি হতে প্রায় ২৭.৪০ মিটার। ইতালির লিসা টাওয়ার ন্যায় নির্মিত মঠটি ক্রমশ সরু হয়ে উপরের দিকে ধনুকের ন্যায় কার্ণিসের অলঙ্করণে শোভিত হয়ে শিখরে গিয়ে শেষ হয়েছে। মঠ দেখতে আসা স্কুল ছাত্রী বিনা পাল জানান, মানুষের মুখে মঠের সৌন্দর্যের বিষয়ে জানতে পেরে মায়ের সাথে মঠটি দেখতে এসেছি। প্রাচীন শিল্পের মঠটি দেখে আমরা ও ছোট ভাই গবিন্দর খুবই ভালো লাগলো।

তিনি আরও জানান, এখানে এসে স্থাানীয় লোক মুখে জন শ্রুতি রয়েছে ঐতিহাাসিক এ স্থানে মঠ প্রতিষ্ঠাতার মায়ের সমাধি স্থল। প্রতিষ্ঠাতা এই মঠ স্থাপন করে দম্ভের সহিত বলেছিলেন মা, তোমার সব ঋণ শোধ করে দিলাম। এ কথা বলার সাথে সাথে মঠ বেকে যায়। এতে সকলে ভয় পেয়ে যায়। সেই থেকে মঠটি এখনো বেকে রয়েছে।