আমরা কৃষি ও কৃষকের পক্ষে শামসুল হক রেজা :পর্ব ২ | Daily AjKaler Kontho

আমরা কৃষি ও কৃষকের পক্ষে শামসুল হক রেজা :পর্ব ২


আজকালের কণ্ঠ প্রকাশের সময় : জুন ১২, ২০২০, ২:২০ অপরাহ্ন
আমরা কৃষি ও কৃষকের পক্ষে শামসুল হক রেজা :পর্ব ২

এমএম রহমান : ১৮ শতকের মাঝা মাঝি সময়, সামন্তবাদ প্রথার বিরুদ্ধে, প্রথম ইউরোপে শিল্প বিপ্লব শুরু হযেছে। যেটা ছড়িয়ে গেছে সারা ইউরোপে, আমারিকায়, এশিয়ার অনেক দেশে দেশে। যার পূর্ণতা পায় ১৯ শতকের মাঝামাঝি সময়। শিল্পের এ ব্যাপকতার শুরু মুলত শিল্প মালিক আর শ্রমিক শ্রেণীর সমন্বয় । আর এ নতুন ধারায় শুরু হয় আরেক যুদ্ধ । শোষনের বিরুদ্ধে শোষিতের সংগ্রাম।আর যা ছড়িয়ে পরে সারা বিশ্বময়। আর তখনি এ সংঘাতময় বিশ্বে, ১৯ শতকের গোড়ার দিকে,কার্ল মার্কস ,এঙ্গেলস এর আদর্শের পথে বলশেভিক বিপ্লবের নায়ক মহামতি লেনিনের বিপ্লব ও সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব বা পরবর্তিকালে মাওসেতুং এর চিন বিপ্লব সহ অনেক দেশেই ছড়িয়ে পরে।আর এ সবই ছিলো মূলত শ্রমিক শ্রেণীর নেত্রীত্তের মাধ্যমে অন্দোলন,শোষক সরকারে বিরুদ্ধে । ঐ সকল বিপ্লবের পর, কোথায়ও সমাজতান্ত্রিক সরকার আবার কোথায়ও সাম্যবাদী সরকার প্রতিষ্টা হযেছে। যা চলছে,অনেক দিন ।

যদিও বর্তমান এই সময়, ঐ সব অনেক দেশেই এখন আর সেই ব্যবস্থা নেই। কার্ল মার্কস, এঙ্গেলস, লেনিন, মাওসেতুং এর পথ ধরে আমাদের দেশেও কম অন্দোলন হয়নি। ১৯৪৭ এর আগে এবং পরে। তবে ওই সব অন্দোলন সবই যে বৃথা গেছে, এমনটা বলছি না। শের-এ- বাংলা এ কে ফজলুল হক, মাওলানা ভাসানী, কমরেড মনি সিং দের অবদানও খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। তে ভাগা অন্দোলন, নিল চাষ বিরোধী অন্দোলন, সহ অনেক অন্দোলন হযেছে এ দেশে।এ উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাসন পাকাপোক্ত করার অন্যতম কৌশল হিসেবে, ১৭৯৩ সনে লর্ড কর্নওয়ালিস এর সময় ,এদেশের জমির যে চিরস্থায়ী বন্দবস্থো প্রথা চালু করে, যে জমিদারি প্রথা চালু করা হয়েছিল এবং যে ব্যবস্থার মাধ্যমে মুল কৃষক সমাজকে ধংশ করা হয়েছিল। সেখান থেকে উত্তরণে উপরোক্ত জাতীয় নেতাদের অবদানও ছিল অনেক। তবে ১৯৭১ এর পূর্বে আমাদের যে সাম্যবাদী সমাজের স্বপ্ন দেখিয়েছেন অনেকে বা ৭১ এর পরেও সেই বিপ্লবের স্বপনে বিভোর ছিলেন। তাদের আজ দেখিনা।
আমি ইতিহাসবিদ না। হয়তো উপরোক্ত কথা গুলোতে অনেক ভুল থেকে যেতে পরে !। তবে সাদামাটা কথায় আমি বলতে পারি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর যে স্বপ্ন, ঐ কৃষি ও কৃষকদের নিয়ে, এই বাঙালী সমাজ কে নিয়ে, তেমনটা কেউ কখনো,আগে তার মত করে ভেবেছেন কিনা, আমার জানা নেই। তার রাজ্নীতীর শুরুটা ভৌগলিক পুর্ব পাকিস্থান থাকলেও তার সব রাজ্নীতীই ছিল, এ বাঙালী সমাজ নিয়ে, যার সব চেয়ে বড় অংশটাই ছিল ঐ কৃষি ও কৃষকদের নিয়ে । সেই কবে শিল্প বিপ্লব শুরু হলেও আমরা কিন্তু থেকে গেছি সেই কৃষি নিয়েই। দীর্ঘ দিনের ব্রিটিশ শাষণ, ৪৭ এর পর পাকিস্তানিদের শাষণ আর শোষণের যাতাকলে এ বাঙালী সমাজ, তারপর বঙ্গোপসাগরের তির ঘেষে, এ বাংলাদেশের ভৌগলিক কারণেও, এদেশের অর্থনীতির মুল চালিকা শক্তি এই কৃষি এবং কৃষক। আর যেটা বঙ্গবন্ধুর মত করে আর কেউ বুঝেছি কিনা আমার জানা নেই। ১৯৬৬ সনের ২৩ মার্চ বঙ্গবন্ধু চূড়ান্ত ভাবে যে ৬ দফা “মুক্তি সনদ ” ঘোষনা করেন, তা যদি মুল্যায়ন করা যায়, তবে স্পষ্ট ধারনা করা যাবে, বঙ্গবন্ধুর শত চিন্তার মাঝে, কৃষি ও কৃষকই ছিল বড় অংশ। তিনি বুঝেছিলেন কৃষি ও কৃষক ছাড়া এদেশ এগুতে পারবে না।

আর সেই চেতনা থেকেই হয়তো বঙ্গবন্ধু ১৯৭৫ সনে, “২য় বিপ্লবের কর্মসূচি” ঘোষন করেন এবং তারই কন্যা, কৃষকরত্ন শেখ হাসিনা, ১৯৮৯ সনে, বঙ্গবন্ধুর পথেই নরসিংদীর রায়পুরায় বাংলাদেশ কৃষক লীগের আয়োজনে “বিশাল কৃষক সমাবেশে” ঘোষনা দিয়েছিলেন , “কৃষক বাচাও, দেশ বাচাও ” কর্মসূচি । কৃষক বাচলে দেশ বাচবে,এটা এখন শুধু আর শ্লোগানই না। এটা এখন অনেক কিছু ! যা নিয়ে পরের পর্ব গুলোতে আসবো । সবার মতামত নিয়ে এ লেখাটি কে সমৃদ্ধ করার ইচ্ছে আমাদের ।

লেখক/কলামিস্ট এডভোকেট খোন্দকার সামসুল হক রেজা

আজকালের কন্ঠ /এমএম