জিএম ফোরকান বাউফল প্রতিনিধি:: পটুয়াখালীর বাউফলে মামা-মামি ও মামাতো ভাই বোন কতৃর্ক অমানুবিক নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে বিষ পান করে ভাগ্নি মোসা. শাহানাজ (২০) আত্মহত্যা করেছে ।
ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (১৩ মে- ২০২০ ইং) বেলা তিনটার সময় উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়নের ০৪ নং ওয়ার্ডভুক্ত দাসপাড়া গ্রামের উকিল উদ্দিন প্যাদা বাড়ি ।
সরেজমিনে স্থানীয় ও ওই বাড়ির লোকজনের কাছ থেকে জানা গেছে, মোসা. শাহানাজ আক্তার, পিতা-মৃত- শফিক, মাতা মোসা. শেফালি বেগম কুমিল্লা জেলা থেকে এসে আজ থেকে ০১ বছর আগে নানা বাড়ি বসবাস শুরু করে তারা। এদিকে মামা-মামি ও মামাতো ভাই বোনের নির্যাতনের শিকার হতো প্রতিনিয়ত । এতে ভাগ্নি শাহানাজ আক্তার আজ থেকে কিছুদিন পূর্বে থানায় অভিযোগও দিয়েছিল কিন্তু কোন সুরহা হয়নি বরং এর জের ধরে তারা ভাগ্নির উপর আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে । তারই জেরে গতকাল বুধবার মামা বাচ্চু প্যাদা, তার স্ত্রী, মামা দেলোয়ার প্যাদার স্ত্রী, তার ছেলে, মামা আনোয়ার প্যাদার ছেলে ও মেয়ে এরা শাহানাজকে বিভিন্ন অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং মারধর করে । তাই লজ্জায় ঘৃনায় সে ঘরে ঢুকে বিষ পান করে। এমতাবস্থায় তার মায়ের ডাক চিৎকারে বাড়ির লোকজন ও আশেপাশের লোকজন এসে বাউফল হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক অবস্থা খারাপ দেখে দ্রুত বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে বৃহস্পতিবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায় ।
সরেজমিনে ঘটনাস্থল ওই বাড়িতে আসলে দেখা গেছে তার মামা-মামি, ও মামাতো ভাই বোন কেউই বাড়িতে নেই । তারা মৃত্যুর খবর শুনেই ঘরে তালা মেরে পালিয়ে গেছে ।
নাম না বলা শর্তে ওই বাড়ির একজন জানান, মেয়েটা আসলে খুব ভালো ভদ্র শান্ত ছিল কিন্তু মামা-মামি, মামাতো ভাই বোন এরকম আচরণ করতো যে তা দেখে আমরাই ঠিক থাকতে পারতাম না । এরপর সেদিন ওকে সবাই ধরে যে মারধর করেছে তা আসলেই অমানুবিক ছিল এব্যাপারে মা শেফালি বেগমের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও সম্ভব হয়নি
এবিষয়ে বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, লাশ ময়না তদন্তের জন্য পোস্টমর্টেম করা হয়েছে । তবে এব্যাপারে এখনও কোনও অভিযোগ পাইনি, পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে ।
আপনার মতামত লিখুন :