রংপুর যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ২ আগস্ট | Daily AjKaler Kontho

রংপুর যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ২ আগস্ট


আজকালের কণ্ঠ প্রকাশের সময় : জুলাই ২১, ২০২৩, ১১:০৪ পূর্বাহ্ন
রংপুর যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ২ আগস্ট

আজকালের কন্ঠ ডেস্ক : আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ঢাকা ও বিভিন্ন জেলায় নির্বাচনী জনসভা করবে আওয়ামী লীগ। তারই অংশ হিসেবে আগামী ২ আগস্ট দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রংপুর জিলা স্কুলমাঠে জনসভা করতে যাচ্ছেন, যা নিয়ে এখন সরগরম হয়ে উঠেছে রংপুরের রাজনীতি।

প্রধানমন্ত্রীর এই জনসভাকে পিছিয়ে পড়া রংপুরের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন কেউ কেউ। বিশেষ করে তিস্তাপাড়ের মানুষ এবং তিস্তা নিয়ে যারা আন্দোলন করে আসছেন, তাদের আশা– প্রধানমন্ত্রী রংপুরের জনসভায় বহু আকাঙ্ক্ষিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে কোনো সুখবর নিশ্চয়ই দেবেন। কারণ, পানির ন্যায্য হিস্যা না পাওয়ায় তিস্তা এখন উত্তরের মানুষের দুঃখ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবছর বন্যা এবং খরায় নদীপাড়ের মানুষের দীর্ঘশ্বাস দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। তিস্তার দুই পাড়ের লাখ লাখ মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘব করতে পারে একমাত্র মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হলে তিস্তাপাড়ের মানুষের পানির জন্য অন্যের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হবে না। সেই সঙ্গে পাল্টে যাবে দেশের আর্থসামাজিক অবস্থা।

তিস্তা বাঁচাও, নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম হক্কানী বলেন, ভারত আন্তর্জাতিক নদী আইন লঙ্ঘন করে একতরফাভাবে তিস্তাসহ অভিন্ন ৫৪ নদীর পানি প্রত্যাহার করছে। ভারত তিস্তার উজানে গজলডোবায় বাঁধ দিয়ে পানি সরিয়ে নেওয়ার কারণে আমাদের উত্তরবঙ্গ আজ মরুভূমির হওয়ার পথে। বর্তমানে আবার ভারত নতুন দুটি খাল খনন করে তিস্তার পানি প্রত্যাহারের পাঁয়তারা করছে। তাদের পানি আগ্রাসনের কারণে আমাদের প্রাণ-প্রকৃতি-প্রতিবেশ বিপন্ন।

সাধারণ সম্পাদক শফিয়ার রহমান বলেন, গত ১৩ জুলাই ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা কবির বিন আনোয়ারের সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে আমরা দেখা করেছিলাম। কবির বিন আনোয়ার বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তিস্তাপাড়ের মানুষের দুঃখ লাঘবে যত দ্রুত সম্ভব তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন কাজের উদ্বোধন করবেন। পুরো প্রকল্প তিন ইউনিটে ভাগ করে প্রথম ইউনিটের কাজ এ বছরই শুরু হবে। মোট সাড়ে আট হাজার কোটি টাকার কাজে প্রথম ইউনিটে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার কথায় সংগ্রাম পরিষদ নেতারাসহ তিস্তাপাড়ের মানুষ আশা করছেন, প্রধানমন্ত্রী রংপুরের জনসভায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘোষণা দেবেন।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনের খবর পৌঁছে গেছে তিস্তার চরাঞ্চলেও। সাম্প্রতিক বন্যার পানি নেমে গেলেও দুর্ভোগে থাকা পরিবারগুলো এতে আশায় বুক বেঁধেছে। লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল হাদি বলেন, বর্ষা-খরা দুই মৌসুমেই চরম দুর্ভোগের সঙ্গে লড়াই করে বাঁচতে হয় নদীপাড়ের মানুষকে। দীর্ঘদিন পর প্রধানমন্ত্রীর রংপুরে আগমনের খবরে আমরা আশায় বুক বেঁধেছি, এবার হয়তো বঙ্গবন্ধুকন্যা তিস্তা সমস্যা সমাধানের ঘোষণা দেবেন।

পরিকল্পনায় রয়েছে তিস্তার ডালিয়া পয়েন্ট থেকে ব্রহ্মপুত্রের সংযোগস্থল পর্যন্ত নদী খনন করা। নদীর দুই তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ, ড্রেজিং করে যে মাটি উত্তোলন হবে তা নদীর দু’পাশে ভরাট করে ইপিজেড, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করা হবে। এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করার কথা রয়েছে চীনের। তবে স্থানীয়দের দাবি, কারও কাছে হাত পেতে নয়, বরং পদ্মা সেতুর মতো তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে নিজস্ব অর্থায়নে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে গত বৃহস্পতিবার রংপুর শিল্পকলা একাডেমিতে বিভাগীয় আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভা হয়েছে। তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ ও বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি সভায় যোগ দিয়েছেন। আশা করা হচ্ছে, সভায় অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে তিস্তা মহাপরিকল্পনার বিষয়টিও আলোচনায় আসবে।