বাজারে করোনার প্রভাব বেড়েই চলছে

নিউজটি শেয়ার করুন

এমএম রহমান : দেশে করোনাভাইরাসে প্রথম একজন রোগীর মৃত্যু এবং আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকার পরিপ্রেক্ষিতে বাজারে, বিশেষত খাদ্যপণ্যের দামে এর প্রভাব বেড়েই চলছে ।

মেগাশপ থেকে শুরু করে কাঁচাবাজারেও চাল, ডাল,চিনি, ময়দা, আদা, হলুদ,পিয়াজ ,রসুন, মাছ ও গোস ইত্যাদি পণ্যের দামের উর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। অনেক স্থানে বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের সংকটও সৃষ্টি হয়েছে।

কোনো পণ্যের চাহিদা অনুপাতে সরবরাহ কম থাকলে সেই পণ্যের দাম বেড়ে যায়, এটি বাজারের স্বাভাবিক নিয়ম। আবার সুযোগ বুঝে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়।

বিদ্যমান পরিস্থিতিতেও খাদ্যপণ্য বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে বলে খবর রয়েছে। আমরা মনে করি, এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের যেমন দায়িত্ব রয়েছে, তেমনি সচেতন হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে ভোক্তাদেরও।

একদিকে বাজার তদারকির জন্য কর্তৃপক্ষের মনিটরিং টিমকে সর্বদা সক্রিয় থাকতে হবে, অন্যদিকে ক্রেতাদেরও আতঙ্কজনিত ক্রয় থেকে বিরত থাকতে হবে। এটা ঠিক, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে অনেকে আতঙ্কিত হয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাদ্যপণ্য ক্রয় করছেন অচিরেই পণ্য মিলবে না এই ভয়ে।

তবে দেশে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী ও খাদ্যমন্ত্রী উভয়েই। এ অবস্থায় খাদ্য নিয়ে অহেতুক আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। বরং আতঙ্কজনিত ক্রয় থেকেই সৃষ্টি হতে পারে সংকট।

একটি বিষয় সবাইকে অনুধাবন করতে হবে- বৈশ্বিক সংকটের অংশ হিসেবে করোনাভাইরাস এখন এ দেশেও বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। এই সংকটকালীন মুহূর্তে সবার কাছ থেকেই দায়িত্বশীল আচরণ কাম্য। যাদের সামর্থ্য আছে, তারা যদি বাজার থেকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য কিনে নেন, তাহলে বাজারে যে ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হবে তাতে বিপাকে পড়বেন স্বল্প আয়ের মানুষ। সবচেয়ে বিপদগ্রস্ত হবেন দিনমজুররা। কাজেই ভোক্তা হিসেবে সবারই সংযত ও যৌক্তিক আচরণ করা প্রয়োজন। একইসঙ্গে ব্যবসায়ীদেরও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কেউ যাতে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে পণ্যের দাম বাড়িয়ে ফায়দা লুটতে না পারে, সে ব্যাপারে ব্যবসায়ী নেতাদের সজাগ থাকতে হবে। দায়িত্ব রয়েছে সরকারেরও।

বাজারে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পিত ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। ব্যবস্থা নিতে হবে বাজার মনিটরিং জোরদার করার। কেউ কারসাজি করলে তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

বস্তুত যে কোনো জরুরি সময়েই মানুষ আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে বিভিন্ন পণ্য-সামগ্রী ক্রয়ে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ে। আর সবসময় এর সুযোগ নেয় অসাধু ব্যবসায়ীরা। এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রকৃতপক্ষে ভোক্তারা নিজেরাই ক্ষতিগ্রস্ত হন। তাই সবার উচিত পরিস্থিতি যা-ই হোক না কেন, আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে কেনাকাটা থেকে বিরত থাকা।

বর্তমানে আমরা এক সংকটপূর্ণ সময় পার করছি। এ অবস্থায় মানুষকে কেবল ব্যক্তিস্বার্থের কথা ভাবলে চলবে না। গোটা দেশবাসীর কথা, দেশের কথা ভাবতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রয়াসেই আমরা এ সংকট থেকে রক্ষা পেতে পারি।

আজকালের কন্ঠ /এমএম

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »