আমতলী উপজেলায় তরমুজ চাষিরা দুচিন্তায়


আজকালের কণ্ঠ প্রকাশের সময় : মার্চ ২৩, ২০২৩, ৬:১৮ অপরাহ্ন /
আমতলী উপজেলায় তরমুজ চাষিরা দুচিন্তায়

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি : আমতলী উপজেলার তরমুজ চাষিদের অন্তত এক হাজার কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করছেন উপজেলা কৃষি বিভাগ। তরমুজ খেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পরেছেন কৃষকরা। দশগুন লাভের তরমুজে এখন কৃষকরা আসল নিয়ে দুচিশন্তায়।

আমতলী উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানাগেছে, এ বছর উপজেলায় ৬ হাজার ২’শ ৪০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষে এক লক্ষ প াশ হাজার থেকে এক লক্ষ ষাট হাজার টাকা ব্যয় হয়। ওই হিসেবে তরমুজ চাষে উপজেলায় অন্তত এক হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এ বছর তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষি অফিসের হিসেব মতে প্রতি হেক্টর জমিতে ৪০ মেট্রিক টন তরমুজ উৎপাদন হয়। ৪০ টাকা কেজি দরে যার বাজার মুল্য ১৬ লক্ষ টাকা। ওই হিসেবে উপজেলার চাষিদের অন্তত দশ হাজার কোটি টাকার তরমুজ উৎপাদন হওয়ার কথা। কিন্তু চার দিনের রহমনের বৃষ্টিতে কৃষককের স্বপ্ন ফিফে হয়ে গিয়েছে। চাষিদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এ বছর তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে।

এক সপ্তাহের মধ্যে তরমুজ কাটা শুরু হবে। কিন্তু গত চার দিনের ভাড়ী বর্ষণ ও শিলা বৃষ্টিতে খেত তলিয়ে গেছে। কৃষকরা খেতের পানি নিস্কাশনের প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছেন কিন্তু পারছেন না। তরমুজ গাছের গোড়ায় পানি জমে গাছ পঁচে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। কৃষকরা তরমুজ বিক্রি করতে চাইলেও ক্রেতা পাচ্ছে না। ক্রেতা সংঙ্কটে তরমুজ খেতেই নষ্ট হচ্ছে। এতে কৃষকরা আরো দিশেহারা হয়ে পরেছেন। গাছ ও তরমুজ পঁচে যাওয়ায় লাভতো হবেই না চাষীদের খরচের টাকা লোকসান হবে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। এতে কয়েক হাজার কৃষকের পথে বসার উপক্রম হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

বুধবার বিকেলে সরেজমিনে ঘুরে দেখাগেছে, বৃষ্টির পানিতে তরমুজ খেত তলিয়ে গেছে। কৃষকরা পানি নিস্কাশনে কাজ করছেন। তারা খেতের বেড কেটে দিয়েছেন। কিন্তু পানি সরছে না। কৃষকরা তরমুজ বিক্রি করতে হন্য হয়ে ক্রেতা খুজছেন কিন্তু ক্রেতা নেই। উপজেলার অধিকাংশ তরমুজ খেত এভাবে তলিয়ে গেছে। কিছু খেত উচু স্থানে রয়েছে। তাতে তেমন পানি জমেনি।

হলদিয়া ইউনিয়নের উত্তর তক্তাবুনিয়া গ্রামের কৃষক মিলন ফকির বলেন, সহায় সম্বল বন্ধক রেখে, ব্র্যাক ব্যাংক থেকে এক লক্ষ টাকা ঋণ নিয়ে পৌনে তিন লক্ষ টাকা খরচ করে তরমুজ চাষ করেছি। তা এখন পানিতে ভাসছে। আমার জীবনের সব অর্জন শেষ হয়ে যাচ্ছে। আমার পথে বসা ছাড়া উপায় নেই। কিভাবে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করবো তা নিয়ে দুচিন্তায় আছি। তিনি আরো বলেন, বিক্রি উপযোগী বেশ কিছু তরমুজ আছে তাও ক্রেতা সংঙ্কটে বিক্রি করতে পারছি না।

একই গ্রামের শিবলী শরীফ বলেন, রহমতের পানিতে ধুয়ে মুছে ফিফে হয়ে গেছে যাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন। বর্তমান পরিস্থিতিতে লাভতো দুরের কথা কৃষকরা আসল টাকা খুঁজে পাবে না। তিনি আরো বলেন, সাড়ে তিন লক্ষ টাকা খরচ করে দুই হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ করেছিলাম তা পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি নিস্কাশন করতে পারছি না। খাল বিলেও পানি বোঝাই। বৃষ্টিতে তরমুজ খেত নষ্ট না হলে অন্তত বিশ লক্ষ টাকা বিক্রি করতে পারতাম কিন্তু এখন লাভের আশা করি না খরচের টাকার জন্য চিন্তা করছি।

কুকুয়া ইউনিয়নের কেওয়াবুনিয়া গ্রামের কৃষক মামুন সিকদার, মনিরুল সরদার, জয়নুল সিকদার ও শাহরুখ প্যাদা বলেন, লক্ষ লক্ষ টাকা ঋণ করে তরমুজ চাষ করেছিলাম কিন্তু সব শেষ হয়ে যাচ্ছে। এখন আশা ভরসা বলতে কিছুই রইলো না। আল্লাহ আমাদের কেন এমন সর্বনাশ করলো জানিনা। এমন অবস্থায় পরিবার পরিজন নিয়ে পথে বসতে হবে।

আমতলী উপজেলা কৃষি অফিসার সিএম রেজাউল করিম বলেন, বৃষ্টির পানিতে তরমুজ চাষিদের সর্বনাশ হয়েছে। তরমুজ খেত পানিতে তলিয়ে রয়েছে। প্রত্যেক হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষে এক লক্ষ প াশ থেকে এক লক্ষ ষাট হাজার টাকা খরচ হয়। ওই হিসেবে আমতলী উপজেলায় তরমুজ চাষে অন্তত এক হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। তিনি আরো বলেন, চাষিদের পানি নিস্কাসনে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। গাছে পচন না ধরলে তেমন লোকসান হবে না।

উপ-পরিচালক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বরগুনা আবু সৈয়দ মোঃ জোবায়েদুল আলম বলেন, ক্ষতি যা হওয়ার হয়ে গেছে। আবহাওয়া ভালো হয়ে গেলে কৃষকরা এ ক্ষতি পুষিয়ে লাভের মুখ দেখবে। কৃষকদের ক্ষতি যাতে কম হয় সে লক্ষে মাঠে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কাজ করছেন। তিনি আরো বলেন, সামনে রমজান মাস তরমুজের চাহিদা ব্যপক হরে বৃদ্ধি পারে। কৃষকরা ভালো দাম পাবে। আশা করি কৃষকদের লোকসান হবে না,লাভবান হবে।