এস এম তানবীর ,মাদারীপুর প্রতিনিধি : মাদারীপুরের ডাসারে সড়ক ও জনপথের জমি এবং কার্লভাটের মুখ বন্ধ করে মাটি ভরাট করার অভিযোগ পাওয়া গেছে, এ ঘটনায় গ্রামবাসীর মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কাজী বাকাই ইউনিয়নের ঘোষেরহাট বাশতলা মোড়ে।
গ্রামবাসী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক বছর আগে পাথুরিয়া পার হইতে ডাসার পর্যন্ত সড়ক ও জনপথ রাস্তাটি তৈরি করে কিন্তু নিম্নাঞ্চল হওয়ায় এলাকাটি সামান্য বৃষ্টি হলেই প্রতি বছর বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে হাজার হাজার একর কৃষি জমি প্লাবিত হয়ে আশপাশের বাড়িঘর তলিয়ে যেতে থাকে এবং পানির চাপে রাস্তায় ফাটলের সৃষ্টি হয়, বিধায় সড়ক ও জনপথ বিভাগ মাদারীপুর বাশতলা মোড় সংলগ্ন একটি কার্লভাট নির্মান করে এতে করার জনগণের দুঃখ দুর্দশা লাঘব হয়।
এদিকে একই স্থানে কার্লভাট ও সরকারি রাস্তার পাশে কয়েক শতাংশ জমি কেনেন মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য সৈয়দ আবুল বাশার, জমি কেনার পরেই সরকারি রাস্তার খাঁস জমি দখল ও অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে মাটি ভরাট করে পানি নিষ্কাশনের জন্য নির্মিত কার্লভাটের মুখ বন্ধ করে দখলের অপচেষ্টা করা হচ্ছে, ফলে এলাকার বেশ কয়েকটি পরিবার পানিবন্দী হয়ে পরেছে এবং হাজার হাজার একর ফসলি জমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এই বিষয় নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক গ্রামের কয়েকজন কৃষক ও পানি বন্দী বেশ কয়েকটি ভুক্তভোগী পরিবার অসুবিধার কথা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন তবে সৈয়দ আবুল বাশার ও তার সহযোগীরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলেছেন না। তবে এলাকায় ভেতরে ভেতরে উভয় পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে ফলে যে কোন মুহুর্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করা হচ্ছে। গ্রামবাসী ও ভুক্তভোগীরা ডাসার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও মাদারীপুর জেলা প্রশাসক এর নিকট সরকারি জমি দখলমুক্ত ও কার্লভাটের মুখ খুলে দিয়ে এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন ও পানি নিষ্কাশন স্বাভাবিক করার জন্য লিখিত অভিযোগ দিলে অভিযোগের ভিত্তিতে ডাসার উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটি ভরাটের কাজ বন্ধ করে দেন।
এই বিষয়ে মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক মাদারীপুর জেলা পরিষদ সদস্য, সৈয়দ আবুল বাশারের মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন – বিগত দিনে জেলার বিভিন্ন স্থানে এমন ঘটনা ঘটেছে তাই তাদের অনুসরণ করে আমিও কার্লভাটের মুখ বন্ধ করে দিয়েছি তাতে দোষের কিছু নেই যেহেতু এখানে আমার জমি রয়েছে।
কাজীবাকাই ইউনিয়ন ভূমি উপ সহকারী কর্মকর্তা, মোঃ গোলাম মাওলা জানান, সড়ক ও জনপথের জমি ও কার্লভাটের মুখ বন্ধ না করার জন্য আমরা সৈয়দ আবুল বাশারকে মৌখিক ভাবে নিষেধ করলে রাতের অন্ধকারে তিনি এসব কাজ করেছেন, যেহেতু সড়ক ও জনপথের জমি তাই এই বিষয়ে তারাই প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নিবেন তবে কার্লভাটের মুখ বন্ধ করা ও অবৈধভাবে সরকারি সম্পতি হস্তগত করার এখতিয়ার কারো নেই।
কাজি বাকাই ইউনিয়নের ৪,৫,৬ নং ওয়ার্ড সংরক্ষিত নারী সদস্য, মিসেস রানু বেগম বলেন – অবৈধভাবে একজন সুবিধা ভোগ করে শত শত মানুষের অসুবিধা হবে সেটা মেনে নেয়া যায় না, কৃষকের কথা চিন্তা করে দ্রুত কার্লভাটের মুখ খুলে দেয়ার দাবী জানান তিনি।
আপনার মতামত লিখুন :