মোঃ মোশারফ হোসেন দশমিনা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর দশমিনায় পারিবারিক ভাবে সবজি চাষে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন কৃষকরা। কম খরচ ও ঝুঁকিতে অধিক লাভ এবং একই সাথে অন্য ফসল উৎপাদন বাড়তি আয় হওয়ার কারণে পুষ্টি বাগানের জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে কৃষকদের কাছে।
জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বাড়ির আঙ্গিনায় অনেকেই পুষ্টি বাগানের মাধ্যমে সবজির চাষ করে যা দিয়ে নিজেদের পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে কেউ কেউ স্থানীয় হাটবাজারে বিক্রি করে মোটামুটি ভাবে লাভবান হইছে। চলতি বছর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৫বিঘা এর মত পতিত জমিতে গড়ে উঠেছে পুষ্টি বাগান।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর সহযোগিতায় প্রায় পরিবার দেড় শতক জমিতে গড়ে তুলেছে সবজির এ বাগান। এই বাগান পরিবারের সদস্যদের পুষ্টির চাহিদা মেটাচ্ছে বলে এর নাম রাখা হয়েছে পুষ্টি বাগান । সুবিধাভোগীরা বলেন , বাড়ির আঙিনায় যেখানে ছিল আবর্জনার স্তূপ , সে উঠান এখন সবুজ গাছে ভরা । নিজেদের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি পথ খুলেছে বাড়তি আয়ের ।
উপজেলার দশমিনা ইউনিয়নের নিজাবাদ গ্রামের কৃষক মো. মানিক হাওলাদার দৈনিক আজকালের কন্ঠকে বলেন, আমার বাড়ির আঙিনার ৪শতক পতিত জমিতে দুই হাজার খরচ করে শাকসবজি চাষ করে ১২ মাস সংসারের চাহিদা মিডিয়ে ভালোভাবে দিন পার করছেন । সঙ্গে প্রতিবেশীদের প্রয়োজন মেটাচ্ছেন । বেশ কিছু বাড়তি সবজি বাজারেও বিক্রি করে ১০ হাজার টাকা লাভবান হয়েছি এখনো পুটি বাগানে অনেক রকম সব আছে বলে জানান তিনি।

আরজবেগী গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে ঘুরে দেখা যায় , বাড়ির উঠানে লাগানো গাছে ধরেছে নানা রকম সবজি । কৃষক মোসাৎ মরিয়ম আক্তার মলি বলেন, দুই শতক জমিতে আবাদ করেছি পেঁপে , করলা , ঢ্যাঁড়স , লালশাক , পাটশাক , কাঁচা মরিচসহ চাষ করে, পরিবারের চাহিদা মিডিয়ে বেশ কিছু সবজি বিক্রি করে অনেক লাভবান তিনি।
একই গ্রামের কৃষক কামরুজ্জামান বলেন, করলা, ঝিঙে , ধুন্দুল ও পুইশাক লালশাক সহ সামান্য জায়গায় কত ফসল না দেখলে বিশ্বাস হবে না । ছয় মাস ধরে আমরা কোনো সবজি কিনে খাইনি । বাগান থেকে যা পাই তা অনেক।শুধু তা-ই নয় , তিন হাজার টাকার সবজিও বিক্রি করেছি আমি ।

উপজেলার দশমিনা ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ দুলাল সিকদারে পরামর্শে এ বাগান করেছেন । কোদাল দিয়ে মাটি কেটে চাষ উপযোগী করার পর পাঁচটি বেড বানানো হয় । প্রতিটি বেড এক মিটার চওড়া । মাঝখানে এক ফুট নালা । যাতে পানিসেচ দেওয়া হয় ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাফর আহমেদ তিনি বলেন , দশমিনা উপজেলার বিভিন্ন বাড়ির আঙিনায় এসব পুষ্টি বাগানে কোনো রাসায়নিক সার ব্যবহার হয় না । মুরগির বিষ্ঠা , বায়োগ্যাসের বর্জ্য , গৃহস্থালি আবর্জনা দিয়ে কম্পোস্ট সার তৈরি করে জমিগুলোতে প্রয়োগ করা হচ্ছে। কীটনাশক এর ব্যাপারে দেওয়া হচ্ছে অনেক পরামর্শ। উপজেলার ৭টি ইউনিয়নেও ৩৮ পুষ্টি বাগান করার উদ্যোগ নিয়েছেন তাঁরা । ইতিমধ্যে ১০টি বাগানে উৎপাদন শুরু হয়ে গেছে । কৃষি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বাগানগুলো ঘুরে দেখে তাঁদের কাজের প্রশংসা করেছেন ।
আজকালের কন্ঠ /রাকিব
আপনার মতামত লিখুন :