পটুয়াখালীর দশমিনায় প্রথম বারের মত আনারসের চাষ

নিউজটি শেয়ার করুন

মোঃ মোশারফ হোসেন দশমিনা উপজেলা প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দশমিনায় এই প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে শুরু হয়েছে আনারসের চাষ। এতে পারিবারিক চাহিদা মিটিয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন চাষিরা।

জানা যায়, এর আগেও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বাড়ির আশেপাশে অনেকেই আনারসের চাষ করেছে যা দিয়ে নিজেদের পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে কেউ কেউ স্থানীয় হাটবাজারে বিক্রি করে মোটামুটি ভাবে লাভবান হইছে। চলতি বছর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১০ একর এর মত পতিত জমিতে আনারসের চাষ হয়েছে।

উপজেলার বেশ কয়েকজন চাষির বাণিজ্যিক ভিত্তিতে আনারস চাষের উদ্যোগে পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের লেবুখালী আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র ও দশমিনা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

দশমিনা উপজেলার রনগোপালদী ইউনিয়নের মধ্য রনগোপালদী গ্রামের চাষি শাহ আলম জোমাদ্দার জানান, আমি অনেক বছর যাবৎ বাণিজ্যিক ভিত্তিতে নার্সারী ব্যবসার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতাজির ফলমূল উৎপাদন করি। আনারস চাষে সঠিক ফলন পাইলে খরচের প্রায় তিন-চার গুণ লাভ হয়। এই জন্যই আমি এ বছর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে আনারসের চাষ করেছি। জেলার লেবুখালী আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র থেকে আমার লাগানো সকল আনারস চারা বিনামূল্যে দেয়া হয়েছে। আমি প্রায় অর্ধ একর পতিত জমিতে আনারস চাষ করেছি। আশা করি অনেক ভালো ফলন পাব। উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়াসহ সার্বিক সহযোগিতা করছে।

উপজেলার বহরমপুর ইউনিয়নের নেহালগঞ্জ গ্রামের চাষি সুলতান সরদার জানান, জেলার লেবুখালী আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র থেকে বিনামূল্যে জায়েন্ট কিউ ও জলডুবি প্রজাতির দুই হাজার আনারসের চারা পেয়ে আমার অর্ধ একর পতিত জমিতে চাষ করেছি। ফলনও ভালো হচ্ছে। আশা করি, আমি অনেক লাভবান হবো

উপজেলা কৃষি অফিসার মো. জাফর আহমেদ দৈনিক আজকালের কন্ঠকে জানান, আনারস চাষের জন্য বাড়তি জমির দরকার হয় না। উপজেলার পতিত জমি চাষের আওতায় আনার পরিকল্পনা হিসেবে আনারস চাষে চাষীদেরকে উৎসাহিত করা হয়েছে। আনারস উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজার মূল্য বেশি থাকায় উপজেলার কৃষকদের মাঝে আনারস চাষে আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »