শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১ । ৪ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

স্বেচ্ছাসেবক লীগের কাউন্সিল: আলোচনায় যারা

নিউজটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এমএম রহমান : জাতীয় সম্মেলনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের প্রতিটি ইউনিটের নেতাকর্মীরা চাঙা হয়ে উঠেছে। ঢাকা মহানগর উত্তর দক্ষিণ ও কেন্দ্রীয় কমিটির কাঙ্ক্ষিত পদে আসতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন।

সম্প্রতি শুরু হওয়া ক্যাসিনো বিরোধী অভিযানে যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগসহ সরকার দলীয় বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের সম্পৃক্ততার তথ্য উঠে আসে। ক্যাসিনো ব্যবসায় জড়িত থাকার তথ্য প্রকাশের পর যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদউত্তীর্ণের বিষয়টি জোরে শোরে আলোচনায় আসে। যার প্রেক্ষিতে বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে ত্যাগী, মেধাবী এবং পরীক্ষিত নেতাদের কাউন্সিলের মাধ্যমে নেতৃত্বে সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করে দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

একই সঙ্গে ত্যাগী, মেধাবী এবং পরীক্ষিত নেতাদের কাউন্সিলের মাধ্যমে নেতৃত্বে আনতে তৃণমূলের মতামতকে প্রাধান্য দিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে দলের সিনিয়র নেতাদের নির্দেশনা দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৪ সালের ২৭ জুলাই ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের সাবেক নেতাদের সমন্বয়ে আহবায়ক কমিটির গঠনের মধ্য দিয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগের যাত্রা শুরু হয়। ঐ কমিটির যুগ্ম আহবায়ক ছিলেন কৃষিবিদ আফম বাহাউদ্দিন নাছিম।

পরবর্তীতে ২০০৩ সালে সম্মেলনের মাধ্যমে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির হিসেবে দায়িত্বে আসেন আফম বাহাউদ্দিন নাছিম। সাধারণ সম্পাদক হন পঙ্কজ দেবনাথ এমপি। মূলত আফম বাহাউদ্দিন নাছিমের নেতৃত্বেই সংগঠনটি সারাদেশে বিস্তৃতি লাভ করে এবং আওয়ামী লীগের অন্যতম শক্তিশালী সহযোগী সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

২০১২ সালে সভাপতির দায়িত্বে আসেন মোল্লা মো. আবু কাওসার। সাধারণ সম্পাদক পদে পুনরায় আসে পঙ্কজ দেবনাথ এমপি।

সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা পর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের রাজনীতি বেশ চাঙা হয়ে উঠেছে। সম্মেলন ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ছড়িয়ে পড়েছে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের মধ্যে। কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে সম্পৃক্তদের তৎপরতা বেড়ে গেছে।

ধানমন্ডিস্থ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ নীতিনির্ধারক পর্যায়ের নেতাদের অফিস-বাসা আনাগোনা বেড়েছে। নিক্রিয় নেতারাও তৎপর হয়ে উঠেছেন, সকাল বিকাল কার্যালয় ও নেতাদের কাছে ধর্না দিয়ে নিজেকে ত্যাগী নেতা হিসেবে জাহির করার চেষ্টা করছেন।

কেন্দ্রীয় সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে আসতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন সংগঠনটির ডজন খানেক নেতা। এর মধ্যে সভাপতি পদে আলোচনায় আছেন- বর্তমান সহ-সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ, মতিউর রহমান মতি, সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় আছেন কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল আলীম বেপারী, গাজী মেসবাউল হোসেন সাচ্চু, শেখ সোহেল রানা টিপু, সালেহ মোহাম্মদ টুটুল, মজিবর রহমান স্বপন।

এছাড়াও আলোচনায় আছেন- সাংগঠনিক সম্পাদক খায়রুজ্জামান জুয়েল, সহ-দফতর সম্পাদক আজিজুল হক আজিজ, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক নাজমুল করিম নাফা, সহ গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বিটু প্রমুখ।

স্বেচ্ছাসেবকলীগের একটি সূত্র মতে, সভাপতি পদে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক, বর্তমান সহ-সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ ও মতিউর রহমান মতি। এরা দুজনেই স্বেচ্ছাসেবকলীগের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকরা রেখে চলেছেন।

দীর্ঘ সময় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর কমিটির নেতৃত্ব দিয়েছেন। স্বেচ্ছাসেবকলীগের রাজনীতিতে ১ দশক ধরে তারা মূল নেতৃত্বে সম্পৃক্ত।

জানতে চাইলে সহ-সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ বলেন, আমরা সম্মেলনের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছি। নেত্রী চাইলে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত আছি।

প্রার্থিতা নিয়ে জানতে মতিউর রহমান মতি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্বেচ্ছাসেবকলীগের রাজনীতি করছি। এর আগে ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছি। আমি সভাপতি প্রার্থী, নেতাকর্মীরা চান। নেত্রী আমার বিষয়ে সবই জানেন, তিনি যে সিদ্ধান্ত দেবেন সেটাই মেনে নেব।

সাধারণ সম্পাদক পদে সম্ভাব্য এসব প্রার্থীর মধ্যে স্বেচ্ছাসেবকলীগের তৃণমূল হতে কেন্দ্রীয় সর্বত্র জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছেন আব্দুল আলীম বেপারী। সারাদেশের নেতাকর্মীদের মধ্যে দলের জন্য নিবেদিত, পরিশ্রমী, ত্যাগী ও শেখ হাসিনার আদর্শের ভ্যানগার্ড আব্দুল আলীম বেশ পরিচিত।

২০০১ সাল পরবর্তী বিএনপি জামায়াতের সময়ে আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক এবং ঢাবির বৈধ ছাত্রনেতা হিসেবে রাজপথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনের শেখ হাসিনার নির্বাচনি এলাকা নড়াইল-১ ও ২ আসনে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত টিমের প্রধান ছিলেন আব্দুল আলীম।

২০০১ পরবর্তী সময়ে ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক হিসেবে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। ওই সময়ে বেশ কয়েকবার নির্যাতনের শিকার হন সাবেক এ ছাত্রনেতা।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গ্রেনেড হামলার আহত হন তিনি। নিজে আহত হলে জীবন ঝুঁকি নিয়ে আহতদের উদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। যার কারণে পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা তার সাহসী ভূমিকার প্রশংসা করেন।

২০০৭ সালে এক-এগারো সেনা শাসিত সরকারের সময়ে রাজপথে শেখ হাসিনা মুক্তি আন্দোলনে করতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হন।

রাজনীতির মাঠের খুবই গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা বিভাগে দায়িত্ব পালনে সফলতা দেখিয়েছেন তিনি। বিভাগটির ২৩ সাংগঠনিক জেলাসহ সবকমিটি উপজেলায় সম্মেলনের মাধ্যমে বির্তকমুক্ত পরিচ্ছন্ন কমিটি গঠন করেছেন। ঢাকা বিভাগের অধিকাংশ উপজেলার ইউনিয়নগুলোতেও রয়েছে স্বেচ্ছাসেবকলীগের শক্তিশালী কমিটি। কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হলেও ইউনিয়ন সম্মেলনেও অংশ নিয়েছেন আব্দুল আলীম।

একমাত্র ঢাকা বিভাগ ছাড়া অন্য বিভাগের অধিকাংশ জেলা কমিটি মেয়াদউত্তীর্ণ। স্বেচ্ছাসেবকলীগের আব্দুল আলীমের জনপ্রিয়তার প্রমান মেলে সংগঠনটির যেকান কর্মসূচি ও কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। প্রতিটি কর্মসূচিতে আব্দুল আলীম অনুসারী নেতাকর্মী শোডাউন চোখে পড়ার মতো। একই দায়িত্বে থাকলেও অনেকেই কর্মী শূন্য।

প্রার্থীতা নিয়ে জানতে চাইলে আব্দুল আলীম বলেন, সব সময় বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করি। দীর্ঘ সময় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ করেছি। এখন নাছিম ভাইকে ভালোবেসে স্বেচ্ছাসেবকলীগ করি। মূলত আমরা যারা স্বেচ্ছাসেবক লীগ করি, সবাই আফম বাহাউদ্দিন নাছিমের নেতৃত্বে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে কাজ করি। তিনি যাকে চাইবেন সে দায়িত্বে আসবে এবং প্রার্থীও হবেন। এর আগে আমরা প্রার্থী নই।

সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় আরও এগিয়ে রয়েছেন সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব ও বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী মেসবাউল হক সাচ্চু এবং শেখ সোহেল রানা টিপু। গাজী মেসবাউল হক সাচ্চু ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১/১১ পরবর্তী সময়ে শেখ হাসিনার মুক্তি আন্দোলনে ছিলেন সরব। শেখ সোহেল রানা টিপু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি দায়িত্বে পালনে সফলতা কুড়িয়েছেন।

এছাড়া ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নেতৃত্বের জন্য লড়াইয়ে রয়েছেন বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তারিক সাঈদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি কামরুল হাসান রিপন, কেন্দ্রীয় জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সবেক সাধারণ সম্পাদক আনিসুজ্জামান রানা।

উত্তরে নেতৃত্ব পাওয়ার দৌড়ে রয়েছেন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ফরিদুর রহমান ইরান, সাংগঠনিক সম্পাদক কে এম মনোয়ারুল ইসলাম বিপুল, ছাত্রলীগ ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সভাপতি ইসহাক মিয়া, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি শফিকুল ইসলাম শফিক, সহ সভাপতি মো. গোলাম রাব্বানী।

দক্ষিণে পদপ্রত্যাশী মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, বিগত সময়ে রাজপথে ছিলাম, দলের দুঃসময়েও দলের জন্য কাজ করেছি। ১/১১ সময়ে রাজপথে পুলিশি নির্যাতন সহ্য করেছি। দলের জন্য ত্যাগ ও ক্লিন ইমেজ মূল্যায়নে এগিয়ে থাকব, আশা করছি।

আজকালের কন্ঠ /মিজান

Print Friendly, PDF & Email
শেয়ার করুন »

মন্তব্যসমূহ »

মন্তব্য করুন »