
চলতি আমন মৌসুমে কৃষকদের জন্য সরকার নির্ধারিত মূল্যে সারের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ ও সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম এনডিসি।
শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর,২০২৬ইং কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলা পরিষদ হলরুমে রৌমারী ও চর রাজিবপুর উপজেলার সার ডিলারদের সঙ্গে আয়োজিত বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন।
সভায় কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ জানান, জেলায় সারের প্রকৃত কোনো ঘাটতি নেই। তিনি বলেন, গত অর্থবছরে কুড়িগ্রামে সারের বরাদ্দ ছিল ৩ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন। চলতি অর্থবছরে তা বাড়িয়ে ৪ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন করা হয়েছে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সম্প্রতি আরও ৫০০ মেট্রিক টন অতিরিক্ত সার বরাদ্দ পাওয়া গেছে।
জেলা প্রশাসক বলেন, সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা সারের বণ্টনে কোনো ধরনের অনিয়মের চেষ্টা করা হলে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, কৃষকেরা যেন হয়রানিমুক্তভাবে ও সরকার নির্ধারিত মূল্যে সময়মতো সার পান, তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের অন্যতম দায়িত্ব। সার সরবরাহ ও বিতরণ কার্যক্রম সুষ্ঠু রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ডিলারদের আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
সভায় ডিলারদের সরকার নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে সার বিক্রি না করা, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না করা এবং গুদামে সারের স্বচ্ছ হিসাব সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সারের কালোবাজারি ও অনিয়ম প্রতিরোধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং মনিটরিং জোরদারের কথা জানানো হয়।
ডিলাররা সার পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি তুলে ধরলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পর্যায়ক্রমে তা সমাধানের আশ্বাস দেন।
এর আগে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক রৌমারী ও চর রাজিবপুর উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সার গুদাম, বিক্রয়কেন্দ্র ও সরবরাহ পয়েন্ট পরিদর্শন করেন।
রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহাবুবুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং রৌমারী ও চর রাজিবপুর উপজেলার সার ডিলাররা উপস্থিত ছিলেন।
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :