মহাসড়ক দখল করে বাজার, ঘোড়াঘাটে যানজটের সঙ্গে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি | Daily AjKaler Kontho

মহাসড়ক দখল করে বাজার, ঘোড়াঘাটে যানজটের সঙ্গে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি


ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬, ১১:০৮ পূর্বাহ্ন
মহাসড়ক দখল করে বাজার, ঘোড়াঘাটে যানজটের সঙ্গে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

ফুটপাত নেই, তার ওপর মহাসড়কের দুপাশ দখল করে দোকানপাট ও পণ্যসামগ্রী রাখায় দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে বাড়ছে যানজট ও জনদুর্ভোগ। রানীগঞ্জ বাজার, কানাগাড়ী ও পৌরসভার বাগেরহাট বাজার এলাকায় দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের ওপরই অনেকটা নির্ভর করতে হচ্ছে পথচারীদের। ফলে ব্যস্ত এই সড়কে প্রতিনিয়ত তৈরি হচ্ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, তিন বাজারের বিভিন্ন অংশে মহাসড়ক ঘেঁষে গড়ে উঠেছে স্থায়ী ও ভ্রাম্যমাণ দোকান। দোকানের সামনে রাখা হয়েছে বিভিন্ন পণ্য ও মালামাল। পাশাপাশি ইজিবাইক, সিএনজি ও অটোভ্যান যত্রতত্র দাঁড়িয়ে থাকায় সড়কের চলাচলের জায়গা আরও সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

কোথাও কোথাও সড়কের পাশে মাটি ভরাট করে জায়গা উঁচু করায় বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনেও বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। আবার পথচারীদের চলাচলের জন্য ড্রেনের ওপর স্লাব বসানো থাকলেও সেখানে দোকানের মালামাল রাখায় অনেক জায়গায় সেই পথও বন্ধ হয়ে গেছে।

ফলে বাধ্য হয়ে নারী, শিশু ও বয়স্কসহ সাধারণ পথচারীদের মহাসড়কের মূল অংশ দিয়ে হাঁটতে হচ্ছে। দ্রুতগতির বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বাজার এলাকায় পরিকল্পিত ফুটপাত ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সমস্যা দীর্ঘদিনের। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সড়কের জায়গা দখল করে ব্যবসা পরিচালনা এবং যত্রতত্র যানবাহন পার্কিং। এতে একদিকে যেমন যানজট বাড়ছে, অন্যদিকে পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের সুযোগও কমে যাচ্ছে।

তাদের দাবি, দ্রুত মহাসড়কের সীমানা নির্ধারণ করে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করতে হবে। পাশাপাশি নির্মাণ করতে হবে পরিকল্পিত ফুটপাত ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা। ইজিবাইক, সিএনজি ও অটোভ্যানের জন্য নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড করা হলে বাজার এলাকায় যানজট অনেকটাই কমবে বলে মনে করছেন তারা।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) দিনাজপুর সূত্রে জানা গেছে, মহাসড়ক আইন, ২০২১ এবং উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মহাসড়কের ভূমির প্রান্তসীমা থেকে পরবর্তী ৩৩ ফুটের মধ্যে স্থাপনা নির্মাণে বিধিনিষেধ রয়েছে। তবে ঘোড়াঘাটের বিভিন্ন বাজারে এই বিধিনিষেধ যথাযথভাবে মানা হচ্ছে না।

সওজ দিনাজপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান বলেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সার্ভেয়ারদের মাধ্যমে মহাসড়কের সীমানা মাপজোখের কাজ শুরু হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবানা তানজিন বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে উচ্ছেদ কার্যক্রমের আগে মাইকিংয়ের মাধ্যমে অবৈধ দখলদারদের সতর্ক করা হবে। এরপরও স্থাপনা সরিয়ে না নিলে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে কঠোর উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে এ কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি স্থায়ী তদারকির মাধ্যমে মহাসড়ক দখলমুক্ত রাখতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, শুধু উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না; নিয়মিত নজরদারি ও পরিকল্পিত ফুটপাত নির্মাণের মাধ্যমে মহাসড়ককে পথচারীবান্ধব করে তোলা হবে। এতে একদিকে যানজট কমবে, অন্যদিকে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও অনেকটা কমে আসবে।

আজকালের কন্ঠ/আর বি