
দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ১৩২ নম্বর আঙ্গারপাড়া আশ্রম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জাল বা ভুয়া সনদপত্র দেখিয়ে সভাপতি নির্বাচন করার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির পদ পাওয়ার জন্য যে ডিগ্রি পাসের সনদপত্র জমা দেওয়া হয়েছে, সেটি ভুয়া। এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দা শ্রী পরেশ চন্দ্র রায় বলেন, “একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কীভাবে এমন জালিয়াতির ঘটনাকে সমর্থন করেন, তা আমাদের বোধগম্য নয়।”
এদিকে সভাপতির সনদ জালিয়াতির পাশাপাশি বিদ্যালয়টিতে পাঠদানের তীব্র অনিয়ম ও ভুয়া উপস্থিতির বিষয়টিও সামনে এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পাঠদান হয় না এবং অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকে। শিক্ষার্থীদের ভুয়া উপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী শিক্ষক আব্দুল সাদেক বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি জানান, মূলত সরকারের উপবৃত্তির সুবিধা নিশ্চিত করতেই অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি খাতায় দেখানো হয়ে থাকে।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক শ্রী অতুল চন্দ্র রায় বলেন, “বর্তমানে বিদ্যালয়গুলোতে এমনিতেই শিক্ষার্থী উপস্থিতি কম থাকে। আর উপবৃত্তির মতো সুবিধা যুক্ত থাকায় নিয়ম রক্ষার খাতিরে আমাদের কিছুটা নমনীয় হতে হয়।” তবে সভাপতির জালিয়াতির বিষয়ে তিনি দাবি করেন, “নির্বাচনের সময় সনদ জমা দেওয়া হয়েছিল। পরে ভুয়া সনদের গুঞ্জন উঠলে আমরা বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিসকে জানিয়েছি।”
প্রধান শিক্ষকের এই দাবির সাথে ভিন্নমত পোষণ করেছেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। খানসামা উপজেলা শিক্ষা অফিসার হুমায়ুন কবির তালুকদার জানান, সাংবাদিক সিকেন্দার আলী কাবুলের মাধ্যমে আমি বিষয়টি জেনেছি। প্রধান শিক্ষক অতুল চন্দ্র রায় আমাকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাননি। লিখিত বা দাপ্তরিকভাবে বিষয়টির সতত্য পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :