পরকীয়া প্রেমের জেরে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, প্রেমিকের বিরুদ্ধে পরিবারের অভিযোগ | Daily AjKaler Kontho

পরকীয়া প্রেমের জেরে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, প্রেমিকের বিরুদ্ধে পরিবারের অভিযোগ


এস এম তানবীর, সিনিয়র রিপোর্টার প্রকাশের সময় : অগাস্ট ২৩, ২০২৬, ৪:২২ অপরাহ্ন
পরকীয়া প্রেমের জেরে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, প্রেমিকের বিরুদ্ধে পরিবারের অভিযোগ

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার চর দৌলতখান ইউনিয়নে তানিয়া নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুকে ঘিরে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের দাবি, সড়ক দুর্ঘটনার কথা বলে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় বাবার বাড়ির সামনে রেখে যাওয়া হলেও পরে জানা যায়, মৃত্যুর দিন তিনি কথিত পরকীয়া প্রেমিক মিলন হাওলাদারের সঙ্গে মোটরসাইকেলে ঘুরতে বেরিয়েছিলেন। এ ঘটনায় মিলনকে অভিযুক্ত করে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন নিহতের ছোট ভাই।

নিহত তানিয়া চর দৌলতখান ইউনিয়নের ঢাকি কান্দি গ্রামের বাসিন্দা। তার স্বামী ও দুই মেয়ে এক ছেলেসহ পাঁচ সদস্যের সংসার ছিল। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সাহেবরামপুর ইউনিয়নের শাহিন হাওলাদারের ছেলে মিলন হাওলাদারের সঙ্গে তানিয়ার সম্পর্ক ছিল। মিলনেরও সংসার রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ আগস্ট মঙ্গলবার তানিয়া বাড়ি থেকে বের হয়ে সিডি খান বাজারে যান। পরে রাতে একটি ইজিবাইকে করে গুরুতর অসুস্থ ও আহত অবস্থায় তাকে বাবার বাড়ির সামনে রেখে যাওয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা তাকে প্রথমে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করেন। ঢাকায় নেওয়ার পথেই তানিয়ার মৃত্যু হয়।

পরিবারের সদস্যরা প্রথমে ঘটনাটিকে সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে ধরে নিয়ে তানিয়ার মরদেহ দাফন করেন। তবে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন তথ্য সামনে আসায় তাদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়।

নিহতের পরিবারের দাবি, মৃত্যুর দিন তানিয়া কথিত প্রেমিক মিলন হাওলাদারের সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে খাসেরহাট এলাকায় গিয়েছিলেন। বিষয়টি জানার পর মিলনকে সন্দেহ করে ঘটনার দুই দিন পর কালকিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করেন নিহতের ছোট ভাই মেহেদী মোল্লা।

অভিযোগের পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। পরিবারের দাবি, তানিয়ার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হোক।

এদিকে, মিলন হাওলাদারকে স্থানীয়ভাবে ‘হোটেল মিলন’ নামেও ডাকা হয় বলে জানা গেছে। তার সাহেবরামপুর বাজারের দোকানে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। এ সময় তার ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তিনি মিলনের বিষয়ে ক্যামেরার সামনে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

অন্যদিকে, খাসেরহাট বাজারের একটি বেসরকারি ক্লিনিকের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঘটনার দিন মিলন ও তানিয়া সেখানে চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তাদের চিকিৎসার ধরন ও সেখানে যাওয়ার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের অভিযোগ, তানিয়ার মৃত্যুর পেছনে মিলন হাওলাদারের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। তবে অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।

এ বিষয়ে কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

এদিকে, ঘটনার পর থেকে মিলন হাওলাদার আত্মগোপনে রয়েছেন বলে দাবি করেছে নিহতের পরিবার। বর্তমানে তার সাহেবরামপুর বাজারের দোকানে ছোট ভাই ব্যবসা পরিচালনা করছেন।

তানিয়ার পরিবারের অভিযোগ ও স্থানীয়দের সন্দেহের পরিপ্রেক্ষিতে এখন মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী—সড়ক দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো ঘটনা রয়েছে—তা তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছেন স্বজনরা। একই সঙ্গে তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

আজকালের কন্ঠ/আর বি