
কুমিল্লা দেবিদ্বারে ফরিদা ইয়াসমিন (৫৫) নামে এক বাড়ির মালিককে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। হত্যার পর মরদেহ ১১ টুকরা করে পলিথিনে মুড়িয়ে বাড়ির পেছনে ফেলে রাখা হয়। এ ঘটনায় লাইলী আক্তার নামে এক নারী ভাড়াটিয়াকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা।
শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে দেবিদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুরের পূর্বাশা আবাসিক এলাকার ভূঁইয়া হাউজে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ফরিদা ইয়াসমিন ওই এলাকার মফিজুল ইসলামের স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩০ বছর ধরে স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে ওই বাড়িতে বসবাস করছিলেন ফরিদা ইয়াসমিন। তার স্বামী মফিজুল ইসলাম চট্টগ্রামে জাহাজে চাকরি করেন। দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় ফরিদা বাড়িতে একাই থাকতেন। সম্প্রতি বাড়ির একটি কক্ষ লাইলী আক্তার নামে এক নারীর কাছে ভাড়া দেওয়া হয়।
শনিবার সকালে ফরিদার স্বামী ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে না পেয়ে ছোট মেয়েকে বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নিতে বলেন। পরে মেয়ে মরিয়ম আক্তার বাড়িতে এসে মাকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এ সময় বাড়ির বারান্দা ভেজা দেখতে পেয়ে স্বজনদের সন্দেহ হয়।
বিকেলের দিকে ফরিদার ভাগনে মামুন বাড়ির পেছনে পলিথিনে মোড়ানো কয়েকটি প্যাকেট দেখতে পান। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা লাইলী আক্তারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। স্থানীয়দের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে লাইলী ফরিদা ইয়াসমিনকে হত্যার কথা স্বীকার করেন।
এরপর উত্তেজিত জনতা তাকে গণধোলাই দিয়ে একটি ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৭টার দিকে দেবিদ্বার থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পলিথিনে মোড়ানো মরদেহের প্যাকেট উদ্ধার করে এবং লাইলী আক্তারকে থানায় নিয়ে যায়। লাইলী দেবিদ্বারের চাপানানগর গ্রামের আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী।
নিহতের স্বামী মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, তিনি চট্টগ্রামে জাহাজে চাকরি করেন। সকাল থেকে স্ত্রীকে ফোনে না পেয়ে মেয়েকে বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নিতে বলেন। পরে বাড়ির বারান্দা ভেজা দেখে তাদের সন্দেহ হয়। ভাড়াটিয়া ওই নারীর কথাবার্তাও তাদের কাছে অসংগতিপূর্ণ ও সন্দেহজনক মনে হয়।
মফিজুল ইসলাম বলেন, তার স্ত্রীর শরীরে স্বর্ণালংকার ছিল। স্বর্ণালংকারের লোভেই তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন। তিনি আরও জানান, মরদেহের শরীরের বিভিন্ন অংশ পাওয়া গেলেও মাথা ও পায়ের অংশ এখনো পাওয়া যায়নি।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, এ হত্যাকাণ্ডে লাইলী আক্তারের পাশাপাশি তার স্বামী আবুল কালাম আজাদ এবং রবিউল, সোহেল ও ইমন নামে আরও তিন যুবক জড়িত থাকতে পারেন।
দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পলিথিনে মোড়ানো মরদেহের নয়টি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মাথা ও পায়ের অংশ এখনো পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আটক লাইলী আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :