রায়পুরে সরকারি সম্পদ হুমকিতে, প্রভাবশালী চক্রের ড্রেজার বাণিজ্য | Daily AjKaler Kontho

রায়পুরে সরকারি সম্পদ হুমকিতে, প্রভাবশালী চক্রের ড্রেজার বাণিজ্য


জাকির হোসেন জুয়েল, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : অগাস্ট ৩, ২০২৬, ১১:১১ পূর্বাহ্ন
রায়পুরে সরকারি সম্পদ হুমকিতে, প্রভাবশালী চক্রের ড্রেজার বাণিজ্য

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার ২ নম্বর উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের চরকাছিয়া (টুনির চর) এলাকায় সরকারি খাস জমিতে অবৈধ ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এ কর্মকাণ্ডে হুমকির মুখে পড়েছে ফসলি জমি, বসতভিটা ও সরকারি বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি। স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে নদীভাঙনের আতঙ্ক।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, চরকাছিয়া (টুনির চর) এলাকার সরকারি খাস জায়গায় প্রভাব খাটিয়ে বড় আকারের ড্রেজার মেশিন বসানো হয়েছে। এসব ড্রেজারের মাধ্যমে দিন-রাত বালু উত্তোলন করে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন সরকারি সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে বিপাকে পড়ছেন স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মানুষ।

ভুক্তভোগীরা জানান, ড্রেজারের মাধ্যমে মাটির গভীর থেকে বালু তুলে নেওয়ায় আশপাশের জমির ভিত দুর্বল হয়ে পড়ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি এলাকায় ভাঙনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এ ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। এই জমি ও বসতভিটাই আমাদের একমাত্র ভরসা। প্রভাবশালী চক্রের ভয়ে অনেকেই প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আমাদের ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি নদীগর্ভে চলে যেতে পারে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের অভিযান এড়াতে অনেক সময় গভীর রাতে ও সরকারি ছুটির দিনে ড্রেজার চালানো হয়। পাশাপাশি বালু পরিবহনের পাইপগুলো ফসলি জমি ও ঝোপঝাড়ের আড়াল দিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

পরিবেশ সচেতন মহলের মতে, অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এতে ভূমিধস, নদীভাঙন এবং পরিবেশ দূষণের ঝুঁকি তৈরি হয়।

এ বিষয়ে স্থানীয় ভূমি কর্মকর্তারা জানান, সরকারি খাস জমি থেকে বালু উত্তোলনের কোনো বৈধ সুযোগ নেই। এটি সম্পূর্ণ অবৈধ এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, “সরকারি সম্পদ রক্ষা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় প্রশাসন তৎপর রয়েছে। চরকাছিয়া (টুনির চর) এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ড্রেজার জব্দসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে শুধু অভিযান নয়, নিয়মিত নজরদারি এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে সরকারি সম্পদের পাশাপাশি নদীপাড়ের মানুষের বসতভিটা ও কৃষিজমি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

আজকালের কন্ঠ/আর বি