সামান্য বৃষ্টিতেই অচল যবিপ্রবির একমাত্র কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ, সঠিক পরিচর্যা না করার অভিযোগ | Daily AjKaler Kontho

সামান্য বৃষ্টিতেই অচল যবিপ্রবির একমাত্র কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ, সঠিক পরিচর্যা না করার অভিযোগ


যবিপ্রবি প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : অগাস্ট ১, ২০২৬, ১১:৩৩ পূর্বাহ্ন
সামান্য বৃষ্টিতেই অচল যবিপ্রবির একমাত্র কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ, সঠিক পরিচর্যা না করার অভিযোগ

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) একমাত্র কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে জলাবদ্ধতা ও কাদার সৃষ্টি হয়। এতে খেলাধুলার পাশাপাশি শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান (পিইএসএস) বিভাগের ব্যবহারিক ক্লাস এবং মাঠভিত্তিক অন্যান্য কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত পরিচর্যা ও ঘাস না কাটায় বছরের উল্লেখযোগ্য একটি সময় মাঠটি ব্যবহার অনুপযোগী অবস্থায় থাকে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মাঠের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে ছোট ছোট জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও কাদা এতটাই বেশি যে সেখানে হাঁটাচলাও কষ্টকর। মাঠের মাঝখানের প্রধান অংশজুড়ে কাদার স্তর জমেছে। এছাড়া দীর্ঘদিন পরিচর্যার অভাবে মাঠের ঘাসও অস্বাভাবিকভাবে বড় হয়ে রয়েছে। ভলিবল খেলার নির্ধারিত স্থানেও পানি জমে আছে এবং সেখানে বড় বড় ঘাস জন্মেছে।

এছাড়া, মাঠের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির পানি জমে ছোট-বড় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। মাঠের মধ্যভাগজুড়ে পুরু কাদার স্তর জমে রয়েছে। মাঠের ঘাসও অস্বাভাবিকভাবে বড় হয়েছে। এছাড়াও ভলিবল খেলার নির্ধারিত স্থানেও পানি জমে রয়েছে। সেখানে বড় ঘাস জন্মে থাকায় সেটিও দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার অনুপযোগী অবস্থায় রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের দাবি, মাঠ সমতলকরণ, আধুনিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা স্থাপন এবং দ্রুত সংস্কার কাজের মাধ্যমে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা, যেন বছরজুড়ে শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে খেলাধুলা করতে পারেন।

এ বিষয়ে ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আলামিন হোসাইন বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠটি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে। মাঠটি নিচু হওয়ায় অল্পবৃষ্টিতেই পানি জমে যায় এবং দীর্ঘদিন খেলাধুলার অনুপযোগী থাকে। কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন দ্রুত মাঠটির সংস্কার করে খেলাধুলা ও অন্যান্য কার্যক্রমের উপযোগী করে তোলার জন্য।

এআইএস বিভাগের শিক্ষার্থী অংকন তালুকদার বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠ আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে মাঠে নিয়মিত ঘাস কাটা হয় না, সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে কাদায় পরিণত হয়। একই মাঠে একসঙ্গে ফুটবল ও ক্রিকেট খেলা হওয়ায় নিরাপত্তা ঝুঁকিও থাকে। মাঠে কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, নিয়মিত পরিচর্যা, সমতলকরণ, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা এবং বিকল্প খেলার মাঠ থাকা জরুরি। পাশাপাশি আন্তঃবিভাগীয় ফুটবল টুর্নামেন্ট পুনরায় চালুর আগে মাঠটি সংস্কার করে খেলার উপযোগী করা উচিত।

পিইএসএস বিভাগের শিক্ষার্থী অসীম রায় বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সবগুলো বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য একমাত্র কেন্দ্রীয় মাঠটি বর্তমানে খেলাধুলার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে, বড় ঘাস ও কাদার কারণে আমাদের ব্যবহারিক ক্লাসও ব্যাহত হয়। একই মাঠে ক্লাস ও খেলাধুলা চলায় প্রায়ই জায়গা সংকট তৈরি হয়। তাই আমাদের ব্যবহারিক ক্লাসের জন্য আলাদা মাঠ বা নির্ধারিত স্থান এবং কেন্দ্রীয় মাঠের দ্রুত সংস্কার করা জরুরি।

এ বিষয়ে শরীরচর্চা শিক্ষা দপ্তরের পরিচালক ড. মোঃ শাহেদুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠ পরিচর্যা রক্ষণাবেক্ষণ এবং পানি নিষ্কাশন এগুলো আমাদের দপ্তরের কাজ নয়। খেলা বা কোন টুর্নামেন্ট চলাকালীন সময় মাঠের কন্ডিশন ঠিক রেখে খেলা পরিচালনা করাটা আমাদের দায়িত্ব। তবে আমরা এ বিষয়ে প্রশাসনকে জানিয়েছি প্রশাসন অতি দ্রুতই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন বলে জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, কেন্দ্রীয় খেলার মাঠটি সারা বছর খেলাধুলার উপযোগী রাখতে যেসব ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন, বিশ্ববিদ্যালয় সেগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে। তবে কাজটি কবে নাগাদ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে, তা কাজের পরিধি ও বরাদ্দকৃত বাজেটের ওপর নির্ভর করবে। মাঠ সমতল করতে ঠিক কতটুকু মাটি প্রয়োজন, তা এই মুহূর্তে নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। পাশাপাশি শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের পরিচালকের সঙ্গে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আজকালের কন্ঠ/আর বি