রায়পুরে খাল পুনঃখননে ৩ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়, ৬৫ লাখ ফেরত—মাঠের কাজের সঙ্গে হিসাব মিলছে তো? | Daily AjKaler Kontho

রায়পুরে খাল পুনঃখননে ৩ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়, ৬৫ লাখ ফেরত—মাঠের কাজের সঙ্গে হিসাব মিলছে তো?


জাকির হোসেন জুয়েল, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : জুলাই ২৬, ২০২৬, ১:০৪ অপরাহ্ন
রায়পুরে খাল পুনঃখননে ৩ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়, ৬৫ লাখ ফেরত—মাঠের কাজের সঙ্গে হিসাব মিলছে তো?

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার তিনটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পে প্রায় ৩ কোটি ৯১ লাখ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে প্রায় ৩ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। কাজ শেষে অব্যয়িত প্রায় ৬৫ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ায় উপজেলা প্রশাসন প্রশংসা কুড়িয়েছে। তবে প্রকল্পটির বাস্তব কাজ নিয়ে মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চরমোহনা ও উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের তিনটি খালের মোট প্রায় ১৬ হাজার ৪৩৯ মিটার পুনঃখনন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সেই হিসাবে মোট ব্যয়কে ভাগ করলে প্রতি মিটার খননে গড় ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার ৯৮০ টাকা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের অধিকাংশ খননকাজ বেকু (এক্সকাভেটর) মেশিন দিয়ে সম্পন্ন করা হয়েছে। তাদের প্রশ্ন, যন্ত্রের মাধ্যমে কাজ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রকৃত ব্যয়, সরকারি বরাদ্দ এবং মাঠে দৃশ্যমান কাজের পরিমাণের মধ্যে কতটা সামঞ্জস্য রয়েছে—তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা জরুরি।
সরেজমিনে প্রকল্প এলাকার বিভিন্ন অংশ ঘুরে কয়েকজন বাসিন্দা জানান, কিছু স্থানে খালের গভীরতা ও প্রস্থ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে প্রকৌশলগত পরিমাপ এবং সরকারি নথি যাচাই প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পের ডিপিপি, এস্টিমেট, Measurement Book (এমবি), খননের ক্রস-সেকশন, বিল-ভাউচার এবং চূড়ান্ত পরিমাপ জনসম্মুখে উপস্থাপন করা হলে প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার নিরপেক্ষ উত্তর পাওয়া সম্ভব হবে।

সরকারি অর্থ সাশ্রয় করে কোষাগারে অর্থ ফেরত দেওয়া যেমন ইতিবাচক উদ্যোগ, তেমনি প্রকল্পের প্রতিটি মিটার কাজও নির্ধারিত মান অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে কি না, সেটিও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাই জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ, প্রকল্পটির একটি স্বাধীন কারিগরি তদন্ত ও নিরীক্ষা পরিচালনা করা হোক। এতে একদিকে প্রশাসনের স্বচ্ছতার দাবি আরও শক্তিশালী হবে, অন্যদিকে জনগণের মধ্যেও প্রকল্প নিয়ে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, তার নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য জবাব মিলবে।

জনগণের অর্থের প্রতিটি টাকার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা যেমন রাষ্ট্রের দায়িত্ব, তেমনি সেই অর্থে বাস্তবায়িত কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাও সুশাসনের অন্যতম শর্ত।

আজকালের কন্ঠ/আর বি