শাস্তির বদলে পদোন্নতি, এরপর বদলি বাণিজ্যে গণপূর্ত কর্মকর্তার | Daily AjKaler Kontho

শাস্তির বদলে পদোন্নতি, এরপর বদলি বাণিজ্যে গণপূর্ত কর্মকর্তার


নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : জুলাই ২২, ২০২৬, ৭:০৭ অপরাহ্ন
শাস্তির বদলে পদোন্নতি, এরপর বদলি বাণিজ্যে গণপূর্ত কর্মকর্তার

গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সংস্থাপন) মুহাম্মদ সারোয়ার জাহানকে ঘিরে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। ঠিকাদারের ১০ লাখ টাকার জামানতের পে-অর্ডার অবৈধভাবে নগদায়নের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলেও শাস্তির বদলে তিনি পেয়েছেন পদোন্নতি। পরে অধিদপ্তরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাপন শাখার দায়িত্ব পেয়ে বদলি বাণিজ্য, নিয়োগে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগেও নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন তিনি।

নথিপত্র অনুযায়ী, গাজীপুর গণপূর্ত বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী থাকাকালে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ১০ লাখ টাকার সিকিউরিটি মানির পে-অর্ডার অবৈধভাবে নগদায়নের অভিযোগ ওঠে সারোয়ার জাহানের বিরুদ্ধে। অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২৩ সালের ৫ আগস্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হলেও রহস্যজনকভাবে তিনি শাস্তি এড়িয়ে যান। পরে পদোন্নতি পেয়ে সংস্থাপন শাখার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দায়িত্ব পান।

সম্প্রতি প্রকাশিত একটি ভিডিওতে সারোয়ার জাহানের অফিসের টেবিলে বিপুল পরিমাণ টাকা দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি দাবি করেন, এটি ৬৬৯ জনের নিয়োগ প্রক্রিয়ার রিক্রুটমেন্ট খরচের অর্থ।

অন্যদিকে গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, জুন মাসের হিসাব-নিকাশের টাকা ছিল সেটি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ওই অর্থ ঠিকাদারদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছিল।

সংস্থাপন শাখার দায়িত্ব পাওয়ার পর গত ৩ মার্চ এক দিনেই ৫০ জনের বেশি প্রকৌশলীকে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে এই বদলি করা হয় এবং পছন্দের কর্মস্থলে পদায়নের বিনিময়ে মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেন হয়েছে।

পরবর্তীতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এসব বদলি আদেশ স্থগিত করে এবং মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমোদন ছাড়া বদলি ও পদোন্নতির ফাইল অগ্রসর না করার নির্দেশ দেয়।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের ১৪ থেকে ২০ গ্রেডের ৬৬৯টি পদে নিয়োগ শেষে খালি থাকা ১২৮টি পদে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে নিয়োগের জন্য গত ২১ মে ওয়েবসাইটে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই সেই তালিকা ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে ফেলা হয়।

অপেক্ষমাণ প্রার্থীদের অভিযোগ, মেধাতালিকার প্রার্থীদের বাদ দিয়ে তদবিরপ্রাপ্তদের নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। এ ঘটনায় তারা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সারোয়ার জাহান বলেন, টেবিলে থাকা অর্থ অফিসের রিক্রুটমেন্ট খরচের টাকা। বদলির বিষয়ে তিনি দাবি করেন, অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী বদলি করা হয়েছিল, পরে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তা স্থগিত করা হয়।

ওয়েবসাইট থেকে অপেক্ষমাণ তালিকা সরিয়ে ফেলার বিষয়ে সারোয়ার জাহান বলেন, ‘মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছিল অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে নিয়োগ না দেওয়ার জন্য। এজন্য ওয়েবসাইট তালিকা দিয়ে আবার সরিয়ে ফেলা হয়েছে।’

তবে ১০ লাখ টাকার পে-অর্ডার অবৈধভাবে নগদায়নের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “এজন্য আমি ক্ষমা চাইছি।”

একাধিক অভিযোগ, বিভাগীয় মামলার পরও পদোন্নতি, বিতর্কিত বদলি এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় সংশ্লিষ্টদের দাবি, গণপূর্ত অধিদপ্তরে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সারোয়ার জাহানের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

আজকালের কন্ঠ/আর বি